বিপিএল: কেন প্রয়োজন ৫ বিদেশি?

নভেম্বর মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএলের) পঞ্চম আসরের মাঠের লড়াই। বিপিএলের পঞ্চম আসরে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বিপিএলের পঞ্চম আসরে বাড়ছে দলের সংখ্যা, বাড়ছে ভেন্যুর সংখ্যা।

বিপিএলে নতুন দল হিসাবে আসছে সিলেট এবং ভেন্যু হিসাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে নতুন ভেন্যুর নামও সিলেট। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বিপিএলের পঞ্চম আসরে পাঁচ বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর চিন্তা করছে। যদিও পূর্বের বিপিএলে প্রতিটি দলে খেলেছিলো চার জন করে বিদেশী ক্রিকেটার।

দল ও ভেন্যু বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হিসাবেই নিয়েছে ক্রিকেটমহল। কিন্তু বিদেশী ক্রিকেটার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রয়েছে তীব্র বিরোধিতা। কেন বিদেশী ক্রিকেটার বাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল? ‘আট দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে সবগুলো দলের জন্য যতো দেশি ক্রিকেটার দরকার, তা নাকি আমাদের নেই’। এর থেকে হাস্যকর যুক্তি আর কি হতে পারে!

আট দলের সেরা একাদশ গঠনের জন্য খেলোয়াড় প্রয়োজন ৮৮ জন, তার মধ্যে ৭ জন করে দেশী খেলোয়াড় থাকলে দেশী খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬ জন। বাংলাদেশে নাকি ৫৬ জন খেলোয়াড় নেই! বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় দলের ক্যাম্পে খেলোয়াড় সংখ্যা ২৯, এইচপি স্কোয়াডে খেলোয়াড় সংখ্যা ২৪।

এছাড়া আছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়রা এবং জাতীয় দলে ব্রাত্য শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুর রাজ্জাক, নাঈম ইসলাম, শামসুর রহমান শুভর মত ক্রিকেটারতো আছেই। তারপরেও কি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বলবে বাংলাদেশে ৫৬ জন ক্রিকেটার নেই?

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অংশগ্রহন করে ১২ টি দল। প্রতিটি দলে বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র ১। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ছিলো দারুণ জমজমাট। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ১২ টি দলে যদি প্রতি ম্যাচে ১০ জন করে দেশী ক্রিকেটার অংশগ্রহন করতে পারে তবে বিপিএলের ৮ টি দলে কেন ৭ জন দেশী ক্রিকেটার অংশগ্রহন করতে পারবে না?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে প্রতি ম্যাচে চারজন করে বিদেশী ক্রিকেটার অংশগ্রহন করার সুযোগ পায় সেখানে বাংলাদেশ ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে, যদিও বিপিএলের প্রথম দিককার আসরগুলোতে পাঁচজন বিদেশি খেলানোর দৃষ্টান্ত ছিল।

পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর সিদ্ধান্ত হলে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্থানীয় ক্রিকেটারদের উন্নয়ন এবং তরুণ প্রতিভার সন্ধানে আইপিএল, পিএসএল, সিপিএল এর মত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রতিটি ফ্রাঞ্চাইজি যেখানে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি ক্রিকেটারের সীমা বেঁধে দেয় সেখানে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল নিচ্ছে পাঁচজন করে বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর সিদ্ধান্ত নি:সন্দেহে আত্মঘাতী!

পূর্বের বিপিএলের আসরগুলো থেকে বের হয়ে এসেছিলো কিছু তরুণ প্রতিভা। বিপিএল থেকেই নজরে এসেছিলো আবু হায়দার রনি, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদী মারুফ, তাসকিনের মত তরুন প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা।

সামনের বিপিএল থেকেও যেন প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা উঠে আসে সে দিকে নজর রাখতে হবে ক্রিকেট বোর্ডের। সাঙ্গাকারা, ক্রিস গেইল, শেন ওয়াটসন, শহীদ আফ্রিদির মত গ্রেট ক্রিকেটারদের সাথে একই দলে খেলে, ড্রেসিং রুম শেয়ার করে মোসাদ্দেক, সৌম্য, সাব্বিরের মত তরুন খেলোয়াড়রা উপকৃত হলেই দেশের ক্রিকেটের মঙ্গল।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।