কেন আত্মহত্যা করলেন চেস্টার বেনিংটন?

যে কোনো আত্মহত্যার ঘটনাই অনেক রহস্যের ডালপালা বিস্তার করে। আমেরিকান ব্যান্ড লিনকিন পার্কের ভোকাল চেস্টার বেনিংটনের আত্মহত্যার ঘটনাও তাই অনেক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসছে।

ঠিক কী কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন চেস্টার? প্রচলিত মত হল, মাস দুয়েক আগেই চেস্টারের ১০ বছরের বন্ধু ও অডিওস্লেভের ভোকালিস্ট ক্রিস কর্নেল একই ভাবে আত্মহত্যা করেছিলেন। সেই মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি চেস্টার। তাই, বন্ধুর জন্মদিন বিদায় নেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে।

তবে, এরই মধ্যে বোমা ফাঁটালেন বেনিংটনের স্ত্রী ট্যালিন্ডা। টুইটারে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে রীতিমত চমকে দেওয়ার মত কিছু টুইট করেছেন তিনি।

৪১ বছর বয়সী বেনিংটনের স্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি ওকে আত্মহত্যা করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলাম। বলেছিলাম এতে কারো কিছু যায় আসে না।’ আরো লিখেন, ‘ও নিজেকে খুন করেনি, আসলে ও অনেক আগেই মরে গিয়েছিল। আমার কাছে প্রমাণ আছে…’

কি সেই প্রমাণ? ট্যালিন্ডার দাবী, তার পরকীয়ার কারণেই আত্মহত্যা করেছেন বেনিংটন। তিনি লিখেছেন, ‘এখন সত্যিটা বলেই দিতে হয়। আমি আসলে মাইক শিনোডার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে চেস্টারকে ধোকা দিচ্ছিলাম।’

এত অকপটে সব স্বীকার করে নিলেন ট্যালিন্ডা? আইডি হ্যাক হয়নি তো? – এমন প্রশ্নও উঠছে। কারণ, সর্বশেষ এক টুইটে ট্যালিন্ডা লিখেছেন, ‘আমি কখনোই ওকে ভালবাসিনি। সত্যি বলছি, এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। বলতে কষ্ট হলেও এটাই সত্যি যে আমি ওর অর্থকড়ির প্রেমে পড়েছিলাম।’ যদিও, পরবর্তীতে সবগুলো ‘বিতর্কিত’ টুইটই ডিলিট করে ফেলা হয়।

সত্যিই যদি ট্যালিন্ডার টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকা তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, সেই ২০০৬ সালেই একবার এই দম্পতির মোবাইল ফোন, ই-মেইল এমনকি পেপাল অ্যাকান্টও হ্যাক করেছিল ‘সাইবার স্টকার’রা। অনেকবারই খেপাটে ভক্তদের পাল্লায়ও পড়তে হয়েছিল তাদের। রাত তিনটার সময়ও একদল উগ্র ভক্ত একবার চেস্টার-ট্যালিন্ডার বাড়ির সামনে বিরক্ত করেছিল। বিকৃত সুর ও কথায় লিনকিন পার্কের গান গেয়ে এই দম্পতির বাড়ির মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছিল তারা। আবার, ২০০৮ সালে চেস্টার-ট্যালিন্ডাকে অনৈতিক ভাবে ‘ফলো’ করার অপরাধে দু’বছরের জেল হয়েছিল এক নারীর।

জানিয়ে রাখা ভাল, সাবেক প্লেবয় মডেল ট্যালিন্ডাকে ২০০৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিয়ে করেছিলেন চেস্টার। এই দম্পতি তিন সন্তানের জনক – টেলর লি বেনিংটন, আর জমজ সন্তান লিলি ও লায়লা। সে বছরই প্রথম স্ত্রী সামান্থা ম্যারি ওলিতের সাথে ছাড়াছাড়ি হয় চেস্টারের। সেই সংসারে এক সন্তান ছিল, নাম ড্র্যাভেন সেবাস্টিয়ান বেনিংটন।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com