অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নিয়ে বিসিবি উদাসীন কেন?

২০১৮ সালে এসে জাতীয় একটা সংস্থার ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলাই আসলে একটা লজ্জার ব্যাপার। তারপরও বলতেই হচ্ছে। পরিচিত মহলে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই কথা বলি।

কথা হলো, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ওয়েবসাইট নিয়ে এতো উদাসীন কেনো? টাকা নেই? নাকি একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট কেনো দরকার— এই বিষয়ে বিসিবির কর্তাব্যক্তিদের জানার জগত শূন্য? যদি টাকা না থাকে, বিসিবি জনগণের কাছে হাত পাততে পারে।

আমার মনে হয় বিসিবির ওয়েবসাইটের উন্নতির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থকরা দুই হাত ভরে অনুদান দিবেন।

আর যদি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিসিবির জ্ঞান শূন্য হয়, তাহলে তারা বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমি দুই একজন বিশেষজ্ঞের খোঁজ দিতে পারি।

বিসিবির যে ওয়েবসাইটটা আছে, সেটা প্রায় না থাকার মতো। টেস্টখেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বিসিবির ওয়েবসাইটে ঢোকার পর সংস্থার লোগোর চেয়ে বড় হয়ে আসবে স্পন্সরের লোগো বা পন্যের বিজ্ঞাপন! বিসিবির ওয়েবসাইটে হঠাৎ কেউ ঢুকলে মনে করবে, এটা বোধহয় গাজী নামে কারো ওয়েবসাইট। মনে হবে, বিসিবি যেনো তাদেরই পণ্য! আরো একটা লজ্জার ব্যাপার হলো, বিসিবির ওয়েবসাইটে দেয়া হয় গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপনও! যেনো খেয়েপরে বাঁচার জন্যও টাকা নেই বিসিবির।

সোমবার থেকে শুরু হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। ‘সবচেয়ে জনপ্রিয়’ শব্দযুগল ব্যবহার করা ঠিক হলো? বিসিবির উদাসীনতায় বহু দর্শক তো জানেই না যে এই লিগ শুরু হয়েছে!

জানবে যে, তারও তো উপায় নেই। প্রিমিয়ার ডিভিশন নিয়ে একটা ওয়েবসাইট নেই। ক্লাবগুলোরও কোনো ওয়েবসাইট নেই- তথ্য পাওয়ার উৎস নেই। ‘প্রিমিয়ার লিগের ওয়েবসাইট নেই’— এইটা বলাই মনে হয় হাস্যকর হলো! অর্থের ঝনঝনানি যে লিগের শেষ কথা, সেই বিপিএলেরই তো ওয়েবসাইট নেই। বিসিবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিপিএল নিয়ে একটি আলাদা পেজ আছে অবশ্য। কিন্তু সেখানে আপনি প্রায় কিছুই পাবেন না।

অথচ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ভিজিট করা ওয়েবসাইট হতে পারতো বিসিবির ওয়েবসাইটই। এই দেশে ক্রিকেটের চেয়ে বড় কোনো বিষয় নেই। তারপরও কেনো এ রকম কঙ্কালসার অবস্থা, তার উত্তর মনে হয় বিসিবির কাছে নেই।

তো বিসিবি কী করবে? আমিই বা এসব কেনো বলছি? বলছি— কারণ বিসিবির ওয়েবসাইট দেখলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে আমার লজ্জা লাগে। ওয়েবসাইট যেহেতু একটা সংস্থার ভার্চুয়াল পরিচয়, অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বুঝতে আগে এটাতেই ঢুকে, এইটা ভেবেও আমার লজ্জা লাগে। তো বিসিবি যেটা করতে পারে, সেটা হলো তাদের ওয়েবসাইটটা নতুন করে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করতে পারে। সেই পরিকল্পনার খসড়া প্রয়োজনে আমিই করে দিবো!

https://www.mega888cuci.com