‘ওর শরীরে কোনো রক্তের দাগ ছিল না…’

প্যারিসে প্রিন্সেস ডায়ানা মারা গেছেন, প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় আগে। তার মৃত্যু আজও পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম অমিমাংসিত রহস্যগুলোর একটি। এখনো সেই মর্মান্তিক ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে চলে বিস্তর আলোচনা, উঠে আসে নানা অজানা তথ্য।

মৃত্যুর পরপরই, ১৯৯৭ ৩০ আগস্ট কথা বলেছিলেন উদ্ধারকর্মীদের একজন। চোখের সামনে তিনি কি কি দেখতে পেয়েছিলেন তার ব্যাপারে জানান বিস্তারিত। এরপর আর কখনো তিনি মুখ খুলেননি।

সেই ব্যাক্তির রান জ্যাভিয়ার গোওমমেলন, ফায়ার-ফাইটার হিসেবে ২২ বছর চাকরি করা এই ভদ্রলোক এখন অবসর জীবন কাচ্ছেন। দীর্ঘ ২০ বছর বাদে আবারো মুখ খুললেন তিনি। জানান, যে পন্ট ডি’অ্যালমা টানেলে এই ঘটনাটি ঘটে সেখানে মিনিট তিনেকের মধ্যে দল নিয়ে পৌঁছে যান জ্যাভিয়ার।

১০ জনের দলটির অন্যতম এই সদস্য ব্রিটেনের দ্য সান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম এটা আর দশটা সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনার মতই একটা ব্যাপার। সেভাবেই কাজ শুরু করেছিলাম। গিয়েই কাজে নেমে যাই, খুঁজতে থাকি কারো সাহায্য লাগবে কি না, কেউ বেঁচে আছেন কি না।’

ছবিতে সেদিনের রাত

মার্সিডিজ গাড়ির দরহা খুলেই ডায়ানাকে দেখতে পান জ্যাভিয়ার। তখন চিনতে না পারলেও বেহাল দশা দেখে চমকে যান। নিজের অজান্তেই বলে ওঠেন, ‘ওহ মাই গড! এটা কিভাবে হল!’ জ্যাভিয়ার দেখতে পান ডান কাঁধে সামান্য একটু চোট, এর বাদে আর কিছু না, ‘ওর শরীরে কোনো রক্তের দাঁগ ছিল না…। ওই নারী যাকে আমরা খুঁজে পাই তিনি ছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। গাড়ির মেঝেতে পড়েছিলেন তিনি।’

জ্যাভিয়ারের সুবাদে জানা গেল ওই সময় ডায়ানা জীবিতই ছিলেন, ‘উনি নড়াচড়া করছিলেন। আমি বুঝতে পারি তিনি জীবিত আছেন।’

জ্যাভিয়ার এরপর হাত ধরে ডায়ানাকে বসান, মুখে অক্সিজেনের মাস্ক পরান। এরপর বিধ্বস্ত গাড়ি থেকে তাঁকে বের করে আনেন। সম্ভবত, ঠিক তখনই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি!

স্মৃতিচারণা করে জ্যাভিয়ার বলেন, ‘আমি ওর হৃদপিন্ডের ওপর মাসা করি। আবার নি:শ্বাস চালু করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করতে থাকি। প্রথম প্রতক্ষদর্শী হিসেবে আমার কাছে তখন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। যতদূর বুঝতে পেরেছিলাম, যখন অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হল তখনও তিনি জীবিত ছিলেন। আমি ভেবেছিলাম এ যাত্রায় হয়তো বেঁচেই যাবেন। পরে শুনলাম হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।’

জ্যাভিয়ার গোওরমেলন

এমন এক স্মৃতি কখনোই ভোলার নয়। জ্যাভিয়ারও ভুলতে পারেননি। স্মৃতি থেকে তিনি বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটা আমার আজো স্পষ্ট মনে আছে। আর ওই রাতের স্মৃতি আসলে কখনোই ভোলার নয়। আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে, উনিই প্রিন্সেস ডায়ানা। যখন ওকে অ্যাম্বলেন্সে নেওয়া হয় তখন ডাক্তারদের একজন আমাকে বিষয়টা জানায়।’

এতদিন এসব জানাননি কেন জ্যাভিয়ার? না কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা তৃতীয় কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ নয়। স্রেফ ফরাসি আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এতদিন গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথমবারের মত গণমাধ্যমের সামনে সেদিনের ব্যাপারে কথা বললাম আমি। ফায়ারম্যান হিসেবে আমি ফরাসি সেনাবাহিনীর অংশ, আমাদের কথা বলা নিষেধ ছিল। এখন আমি ফায়ার সার্ভিস ছেড়ে দিয়েছি। এখন কথা বলতে কোনো আপত্তি নেই।’

সেদিনের ঘটনায় ডায়ানার সাথে ছিলেন তার প্রেমিক ডোডি ফায়েদ। তিনিও মারা যান। ড্রাইভার হেনরিও বাঁচতে পারেননি। তবে, বডিগার্ড ট্রেভর রিস-জোন্স জীবিত ছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৪৯।

গোটা বিশ্বের মত ঘটনাটা জ্যাভিয়ারের কাছেও ছিল খুব শকিং। তিনি বলেন, ‘আমি খুব শকড ছিলাম। আমি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ব্যাপারে খুব একটা জানতাম না, তবে ডায়ানা কে সেটা জানতাম। অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর আগ অবধি জানতেও পারলাম না!’

ডায়ানাকে বাঁচাতে না পারার আফসোস নিয়ে আজো বেঁচে আছেন জ্যাভিয়ার গোওরমেলন। সেই একই আফসোসটা কি এই পৃথিবীরও নয়!

– দ্য সান অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com