শিখর ধাওয়ান ও এক সেশনের ওস্তাদ

৭৮ বলে ৬৪ রান নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান। পরের সেশনে করেছেন ৯০ বলে ১২৬!

দ্বিতীয় সেশনে ভারতের হয়ে এটিই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ধাওয়ান ভেঙেছেন ৫৫ বছর পুরোনো রেকর্ড। ছাড়িয়ে গেছেন পলি উমরিগরকে। ১৯৬২ সালে পোর্ট অব স্পেনে হল-সোবার্স-গিবসদের বিপক্ষে ১৭২ রানের ইনিংসটির পথে দ্বিতীয় সেশনে উমরিগর করেছিলেন ১১০ রান।

লাঞ্চ আর টি-ব্রেকের মাঝের সেশনে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড ডেনিস কম্পটনের। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে করেছিলেন ১৭৩ রান। যে কোনো সেশনেই সেটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড।

দ্বিতীয় সেশনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ালি হ্যামন্ডের । ১৯৩৩ সালে ৩৩৬ রানের সেই বিখ্যাত ইনিংসের পথে দ্বিতীয় সেশনে করেছিলেন ১৫০। সব সেশন মিলিয়েও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি।

ধাওয়ান একটুর জন্য ছুঁতে পারেননি স্ট্যান ম্যাককেবকে। ১৯৩৮ অ্যাশেজে ট্রেন্ট ব্রিজে এক সেশনে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট করেছিলেন ১২৭ রান।

৩১ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া ধাওয়ান আউট হয়েছেন টি-ব্রেকের মিনিট তিনেক আগে। ১৬৮ বলে ১৯০। রেকর্ড হলেও হলো না প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। তবে এক সেশনে সেঞ্চুরি করলেন এই নিয়ে দুবার। অভিষেক টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ইনিংসটায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক সেশনে করেছিলেন ১০৬। সেটিও ছিল দ্বিতীয় সেশন।

মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, ভারতের প্রথম পছন্দের দুই টেস্ট ওপেনার এই টেস্টে নেই। মিরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুল সুস্থ থাকলে হয়ত খেলা হতো না ধাওয়ান। সত্যি বলতে, ধাওয়ানকে বলা যায় চতুর্থ পছন্দ। প্রথম ঘোষিত স্কোয়াডে তিন ওপেনার ছিলেন বিজয়-রাহুল-মুকুন্দ। বিজয় ছিটকে যাওয়ায় স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছিলেন ধাওয়ান।

এক সেঞ্চুরি সব সেশন মিলিয়ে ধরলে…

ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শোতে( প্রথম দিন প্রথম সেশনে) সর্বোচ্চ রান অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ম্যাকার্টনির ১১২। সেই ১৯২৬ সালে হেডিংলিতে।

ম্যাচের অন্যান্য দিন প্রথম সেশনে সর্বোচ্চ রান ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসের ১৩০, গত বছর কেপ টাউনে।

দ্বিতীয় সেশনে সর্বোচ্চ রান কম্পটনের ওই ১৭৩।

তৃতীয় সেশনে সর্বোচ্চ রান নিউ জিল্যান্ডের ইয়ান স্মিথের ১৪০, অকল্যান্ডে ১৯৯০ সালে ভারতের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের হয়ে এক সেশনে সেঞ্চুরি আছে কেবল একজনেরই। ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ঠিক ১০০ করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেটিও ছিল দ্বিতীয় সেশন।

বাংলদেশের বিপক্ষে এক সেশনে সেঞ্চুরি আছে প্রথম সেশনে ইয়ান বেল ১০৫, দ্বিতীয় সেশনে অরবিন্দ ডি সিলভা ১০৫, তিলকরত্নে দিলশান ১০৩, শেষ সেশনে ড্যারেন লিম্যান ১০৫, কুমার সাঙ্গাকারা ১০০।

যথারীতি একজন এখানেও ওস্তাদের ওস্তাদ। এক সেশনে সেঞ্চুরি ছয়-ছয়বার করেছেন স্যার ডন!

– ফেসবুক থেকে

https://www.mega888cuci.com