এক দু:খী স্টারকিড

বলা হয়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা সহজ নয়। এমনকি এই কথাটা স্টারকিডদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।  বলিউডে একজন স্টারকিডের আগমণ মানেই আকাশ সমান প্রত্যাশার চাপ। দর্শকরা প্রত্যাশা করেন, তাঁর মধ্যে তার পূর্বসূরীদের মতই কোনো বাড়তি এক্স ফ্যাক্টর থাকবে।

সেকারণেই, স্টারকিডদের স্ট্রাগলটাও কম নয়। কথায় কথায়, বাবা কিংবা মা’র সাথে তাঁদের তুলনা হয়। আর সেই বাবা ও মা যদি হন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন তাহলে তো কথাই নেই। হ্যা, বলা হচ্ছে অভিষেক বচ্চনের কথা। ২০০০ সালের সিনেমা রিফিউজি দিয়ে বলিউডে যার অভিষেক।

লোকে ভাবেন, অভিষেকের জন্য বলিউডে কাজ করাটা, কাজ পাওয়াটা খুব সহজ হয়তো। তবে, কাঁধে কিংবদন্তিতুল্য সব নামের ‘বোঝা’ থাকলে যে শুধু ভাল কাজ করলেই চলে না, করতে হয় মনে রাখার মত কাজ। অভিষেকের ক্যারিয়ারটাও তাই অনেক উত্থান-পতনে ঘেরা।  খুব ভাল সময় যেমন এসেছে, এসেছে খুব খারাপ সময়ও।

২০০০ সাল থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে ধুম মুক্তি পাওয়ার আগ অবধি অভিষেক করেছেন মোট ১৭ সিনেমা। এর মধ্যে বেশ কয়েকটাতে অভিষেকের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ২০০৩ সালে তিনি ‘যুব’ সিনেমায় তিনি সেরা সাপোর্টিং রোলের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও যেতেন। একই বছর সাইফ আলী খান ও রানী মুখার্জীর হিট সিনেমা  ‘হাম তুম’-এও ছোট একটা ভূমিকায় ছিলেন তিনি।

সময়টা কত খারাপ যাচ্ছিল, সেই স্মৃতিচারণা অভিষেক নিজেই করলেন ক’দিন আগে। ইউটিভির অনুষ্ঠান ‘ইয়ে হ্যায় মেরি কাহানি’ এসে এক বাজে অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। তখন ‘তেরা জাদু চাল গ্যায়া’, ‘ধাই আকসার প্রেম কি’, ‘বাস ইতসা সা খওয়াব’ ও ‘ওম জ্যায় জাগদিশ’-এর সুবাদে তাঁর নামের পাশে ‘ফ্লপ স্টার’-এর তকমা লেগে গেছে।

‘শারারাত’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শকদের অনুভূতি জানতে অভিষেক গিয়ে হাজির হয়েছিলেন থিয়েটারে। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘সেই মুহূর্তটা আমি কখনো ভুল না। শারারাত সিনেমার অডিয়েন্স রিয়্যাকশন বুঝতে গিয়েছিলেন গেইটি গ্যালক্সিতে। ইন্টারভালের পরই এক ভদ্রমহিলা বের হয়ে আসলেন। তখন আমি বাইরেই দাঁড়ানো। তিনি এসে বললেন, তুমি শুধুশুধু নিজের পরিবারের নাম খারাপ করছো। অভিনয় ছেড়ে দাও।’

কথাটা অবশ্য অভিষেক গায়ে মাখেননি।

তবে, কেন্দ্রীয় চরিত্রে আসছিল না বড় কোনো সাফল্য। ধুম দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। যদিও, অনেকটা আলোই কেড়ে নিয়েছিলেন জন আব্রাহাম। এরপর ‘বান্টি অর বাবলি’, ‘সরকার’, ‘ব্লাফমাস্টার’ -এ প্রশংসিত হন অভিষেক, বক্স অফিসেও আসে সাফল্য।

২০০৬ সালটা অভিষেকের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, সবচেয়ে সফল সময়। ‘উমরাও জান’ ও ‘ধুম টু’ দিয়ে তিনি যতটা  আলোচিত হয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি লাইমলাইট তার ওপর পড়েছিল ‘গুরু’ সিনেমার সুবাদে। ব্যবসায়ী ধিরুভাই আম্বানির জীবনের গল্প নিয়ে বানানো সিনেমায় মনি রত্নমের পরিচালনায় ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা কাজ করেছেন অভিষেক।

সেখান থেকে অভিষেকের ক্যারিয়ারের গ্রাফটা ওপরের দিকেই ওঠার কথা ছিল। হয়নি, স্ক্রিপ্ট সিলেকশনের ভুলের কারণে। তিনি ২০০৭-০৮ সালে ‘সরকার রাজ’, ‘দোস্তানা’র মত সিনেমা যেমন করেছেন তেমনি ‘ঝুম বারাবার ঝুম’, ‘লাগা চুনরি মে দাগ’, ‘মিশন ইস্তাম্বুল’, ‘দ্রোনা’র মত স্ক্রিপ্টহীন সিনেমাও করেছেন।

২০০৯ সালে স্ক্রিপ্টে মনোযোগী হয়েছিলেন। ‘দিল্লী সিক্স’ ভাল সিনেমা হলেও ব্যবসা করতে পারেনি। মনি রত্নমের ‘রাভান’ বক্স অফিসে লাভ করতে পারেনি। ‘পা’ বেশ ব্যবসা করলেও সবটুকু আলো কাড়েন অভিষেকের বাবা অমিতাভ বচ্চন।

২০১০ সালে ‘খেলে হাম জি জান সে’ ছবি বিপ্লবী সুর্য সেনের চরিত্র করেছিলেন। এবার ‘লগান’ খ্যাত আশুতোষ গোয়ারিয়কের সিনেমা হল চূড়ান্ত ফ্লপ। ভাগ্যটা অভিষেকের খারাপই বলতে হয়।

তখন থেকে অভিষেকের ক্যারিয়ার পতনের দিকে। তাঁর ‘দাম মারো দাম’, ‘প্লেয়ার্স’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার কিংবা ‘অল ইজ ওয়েল’ সিনেমাগুলো দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০১২ সালের সিনেমা ‘বোল বচ্চন’ কম ভাল ব্যবসা করেছিল। কমেডিয়ান হিসেবে বেশ কয়েকটা পুরস্কারও জিতেছিলেন অভিষেক। ২০১৩ সালে ধুম সিরিজের তৃতীয় ছবিতে তিনি থাকলেও আমির খানের উপস্থিতিতে অভিষেকের কারিশমা খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

যদিও, ২০১৬ সালে তিন নায়কের কমেডি সিনেমা ‘হাউজফুল থ্রি’ কমবেশি ব্যবসা করেছে। এরপর বছর দুয়েকের বিরতির পর তিনি অনুরাগ কাশ্যপের ‘মানমার্জিয়া’ ছবিটি করেন। এর বাইরে, নিজের কাবাডি দল, স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রায় ও কন্যা আরাধ্যকে নিয়ে সময় খারাপ কাটছে না তাঁর।

তবে একটা ব্যাপার না বললেই নয় যে, যত দিন এগোচ্ছে অভিষেকের ক্যারিয়ারের লাইফ লাইনগুলো ক্রমেই কমে আসছে। এগুলা কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। না হয়, অনেক প্রতিভা থাকার পরও বলিউড তাকে অনন্ত আক্ষেপ কিংবা এক দু:খী স্টারকিড হিসেবেই চিনবে।

– বলিউড বাবল ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com