একজন আবাহনী-মানব

১৯৭২ সাল। শেখ কামাল দেশের সব সেরা ফুটবলারদের নিয়ে গঠন করেছিলেন আবাহনী ক্লাব। সেই থেকে অমলেশ সেনের ঘরবাড়ি এই আবাহনী। মাঝখানে পাঁচবছর মুক্তিযোদ্ধার কোচিং ক্যারিয়ারটা বাদ দিলে আবাহনী আর অমলেশ যেন এক সূতো বাঁধা ছিল এতদিন।

বাঁধনটা টিকে থাকলো ৪৫ বছর। শনিবার, সাত সেপ্টেম্বর জীবন নদীর ওপারে চলে গেলেন তিনি। অথচ, বিকেলেও দলকে অনুশীলন করিয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী এই কোচ। অনুশীলন শেষে চলছিল টিম ব্রিফিং। তখন, ক্লাব অফিসে গিয়ে বললেন একটু খারাপ লাগছে। সেখান থেকে নেওয়া হল হাসপাতালে, এরপরই সব শেষ।

ক্রীড়াঙ্গনের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন আবাহনীর ‘অমলেশ দা’ নামে। শেষ নি:শ্বাসের দিনটির সাথেও তাই জড়িয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির নাম।

অমলেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৮ থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় দলে খেলেছেন অমলেশ, ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলে ট্রায়ালে ডাক পেলেও পরীক্ষার জন্য যাননি।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। খেলেছেন ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলেও। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস আর ইস্টএন্ডের হয়ে খেলেছিলেন ঢাকায়। ১৯৭০ সালে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকার মোহামেডান ক্লাবে।

স্বাধীনতার পর থেকে তার ঠিকানা আবাহনী। দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে খেলার অনন্য এক ক্ষমতা ছিল তার। খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত।

ফুটবল বুট তুলে রাখার পরও তিনি আবাহনীর অংশ ছিলেন। কখনো কর্মকর্তা হিসেবে, কখনো কোচ হিসেবে পাশে ছিলেন ক্লাবটির। কোনো রকম অর্থের মোহ তাকে সরাতে পারেনি। সরাতে পারলো কেবল মৃত্যু।

ফুটবল ছাড়াও খেলেছেন ক্রিকেটও। সাত বছর বগুড়া জেলার ইনিংসের গোরাপত্তন করেছিলেন তিনি। কিন্তু, এর সব কিছুই আজ অতীত।

আবাহনীর হয়ে ১৯৭২ কী ১৯৭৩ সালে গোল করেছিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মোহামেডানের বিপক্ষে। বলা হয়, আবাহনীর হয়ে মোহামেডানের যেকোনো ফুটবলারের সেটাই প্রথম গোলে। এরপর যখনই মোহামেডানের বিপক্ষে গোল পাবে আবাহনী, তখন ঘুরে ফিরেই আসবে অমলেশ সেনের স্মৃতি।

https://www.mega888cuci.com