এই লড়াই হারলে চলবে না

ঘরোয়া ক্রিকেটে হালিম শাহ নামের এক প্রতিভাধর ক্রিকেটার এসেছিলেন। জাতীয় দলের খুব কাছাকাছিও চলে গিয়েছিলেন। হালিম ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমনদের সমসাময়িক। এই হালিম একবার আবিষ্কার করলেন, খালেদ মাহমুদ সুজন তার কেমন এক চাচা হান।

সেই থেকে সুজন হালিমের চাচা, ক্রিকেটারদের চাচা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের চাচা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধারে অনেকগুলো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বোর্ড চালক, গুরুত্বপূর্ণ একটা কমিটির প্রধান, দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ, টিম ম্যানেজার, ঢাকা লিগ ও বিপিএলের কোচিং – সুজন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সব্যসাচী চরিত্র। সেটা নিয়ে কখনো কখনো খুব সমালোচনাও হয়।

মুলতানের সেই স্বপ্নভঙ্গ

বাংলাদেশ ক্রিকেটে খালেদ মাহমুদের ভূমিকা কী? ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এনে দিয়েছিলেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। সেই জয়ে কী আসে-যায়? কিছুই না, শুধু প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া একটা দল এক বছরের মাথায় টেস্ট খেলতে নেমে যায়।

চার বছর পর সেই সুজনের নেতৃত্বেই মুলতানে বীরত্ব দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। সুজনের অধিনায়কত্বেই প্রথম টেস্টেও বড় দলের সাথে লড়াইয়ের সক্ষমতা অর্জন করেন সুজন। ‘ফাইটার’ সুজন টেস্টেও আমাদের ফাইট করা শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার যার বিদায় হয়েছিল মাঠ থেকে।

আচ্ছা, খেলোয়াড়ী জীবন বাদ দেন। জানেন, সুজন দীর্ঘদিন টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব কী করে পালন করে যাচ্ছেন? কিচ্ছু না, স্রেফ জনপ্রিয়তার কারণে। দলের একদম তরুণ ক্রিকেটার থেকে শুরু করে মাশরাফি-সাকিব পর্যন্ত ‘চাচা’ বলতে অজ্ঞান।

সেই সুজন আজ জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। অনেকদিন হল উচ্চ রক্তচাপ ও ডাইবেটিসে ভুগতে থাকা সুজনের ঠিকানা এখন ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউ। অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেমি-কোমায় চলে গেছেন মাত্র ৪৭ বছর বয়সী মানুষটি। অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার আলোচনাও চলছে।

চাচা, আপনি না ফাইটার! আপনার এই লড়াই হারলে চলবে না। ডাক্তাররা যতই দাঁতভাঙা শব্দ বলুক না কেন, ফিরতে আপনাকে হবেই।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।