ইন্ডিয়ান আইডলের ‘ঝরে পড়া’দের হাতে বলিউড

২০০৬ সালের কথা। ইন্ডিয়ান আইডলের দ্বিতীয় আসর। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সন্দীপ আচার্য্য। ক্যারিয়ার খুব বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি বরং ২০১৩ সালে ১৫ ডিসেম্বর জন্ডিসের ছোবল তার জীবন কেড়ে নেয়।

তবে, ইন্ডিয়ান আইডলের সেই আসর ভারতকে তার পরবর্তী সময়ে গুণী বেশ কিছু প্রতিভা উপহার দিয়েছিল। শীর্ষ ১২ জনের মধ্যে তিন জনের কথা আলাদা করে বলতে হয় যারা এখন বলিউডের প্লে-ব্যাকে রাজত্ব করছেন।কাকতালীয় ভাবে তিনজনই নারী। তারা হলেন – নেহা কাক্কার, মোনালী ঠাকুর ও অন্তরা মিত্র।

নেহা কাক্কার

তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিলেন নেহা কাক্কার। ১০ নম্বরে থেকে শেষ করেছিলেন তিনি। তবে, এখন তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। বলিউডের ব্যস্ততম শিল্পীদের একজন তিনি। তার রকস্টার সুলভ কণ্ঠ পরিচিতি পেয়েছিল ইন্ডিয়ান আইডলের সময়েই। পরবর্তীতে সা রে গা মা পা লিটল চ্যাম্পে বিচারকের ভূমিকায় এসেছিলেন তিনি। শিশুবেলায় একই রিয়েলিটি শোতে অংশও নিয়েছিলেন তিনি।

প্লে ব্যাকে নেহা লাইমলাইটে আসেন ২০১২ সালে ‘ককটেইল’ সিনেমার সেকেন্ড হ্যান্ড জাওয়ানি গানের মধ্য দিয়ে। এরপর ২০১৪ ‘ইয়ারিয়া’ সিনেমায় তার ‘সানি সানি’ গানটা তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ২০১৬ সালে ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’-এর কার গায়ি চুল তাকো আরো এক ধাপ ওপরে তুলে দেয়। ২০১৬ সালে বার বার দেখো সিনেমায় তার গাওয়া ‘কাল চাশমা’ রীতিমত আগের সব রেকর্ডই ভেঙে দেয়। এখন জনপ্রিয় হচ্ছে রাবতা সিনেমায় তার গাওয়া ‘ম্যায় তেরা বয়ফ্রেন্ড’ গানটি।

মোনালি ঠাকুর

নয় নম্বরে থেকে ইন্ডিয়ান আইডলের দ্বিতীয় আসর শেষ করেছিলেন মোনালি ঠাকুর। এরপরই শুরু হয় তার সত্যিকারের পরিশ্রম। ২০০৮ সালেই রেস সিনেমায় তার ‘জারা জারা টাচ মি’ তার কণ্ঠকে বেশ জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পশ্চিম বঙ্গের এই গায়িকাকে।

একই সাথে চুটিয়ে টালিউডের, মানে কলকাতার বাংলা সিনেমায় গান গেয়ে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালে ‘দম লাগাকে হেইশা’ সিনেমায় তার গাওয়া ‘মোহ মোহ কে ধাগে’ গানটা বলিউডের কত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রোমান্টিক গানগুলোর একটি। এছাড়া সালা খাড়ুস, বাঘি, বাদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া ইত্যাদি সিনেমায় জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে তার গাওয়া গাস।

অন্তরা মিত্র

গলার মিষ্টি আওয়াজের সুবাদে ইন্ডিয়ান আইডলে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অন্তরা মিত্র। কিন্তু, ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারেননি। শেষ করেছিলেন পঞ্চম স্থানে থেকে। যদিও, প্রতিভার প্রতিদান তিনি ইন্ডিয়ান আইডল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই পাওয়া শুরু করেন।

২০০৯ সালে ‘লাইফ পার্টনার’ সিনেমায় শানের সাথে তিনি গেয়েছিলেন ‘কুকে কুকে’। ২০১০ রাজনীতি সিনেমায় মোহিত চৌহানের সাথে ‘ভিগি সি ভাগি সি’ অন্তরাকে ইন্ড্রাস্টিতে শক্ত জায়গা করে দেয়। ২০১৩ সালে ‘আর… রাজকুমার’-এ শাড়ী কা ফলসা আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয় তাকে।

সর্বশেষ শাহরুখ খানের ‘দিলওয়ালে’ সিনেমায় নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। কাজলের ঠোঁটে অন্তরার গাওয়া গেরুয়া ও জানাম জানাম গানদু’টো বেশ মানিয়ে গেছে। একাধারে কলকাতার বাংলা ছবিতেও গান গেয়ে যাচ্ছেন অন্তরা।

https://www.mega888cuci.com