আড়াই দিনে টেস্ট হারের দিনগুলোতে প্রেম

সিফাতের মন খারাপ। বাংলাদেশ হারলে মন ভালো থাকার অন্য কারণগুলো কাজ করে না। সুতরাং মন খারাপ হওয়া ছাড়া এখন কোনো উপায়ও নেই। টেস্টে বাংলাদেশ এখনো অতো শক্তিশালী দল নয়। তাই বলে আড়াই দিনে হার?

মন খারাপের দিনে দীপার ফোন আসে না। মন খারাপ বলে দেখাও করতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু মন খারাপের দিনে দীপা ছাড়া যে কেউ থাকে না পৃথিবীতে!

রাত ১১টায় এলো ফোন। ধরলো সিফাত, হ্যালো। বলো।

কী বলবো? মন বেশি খারাপ? প্রশ্ন দীপার।

না, মন খারাপ হবে কেনো। ভালো আছি। সিফাতের মিথ্যে উত্তর।

দীপা বললো, শোনো, বাংলাদেশই আড়াই দিনে টেস্ট হারা একমাত্র দল নয়। কদিন আগে ভারতের মতো দলও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাজেভাবে হারছে। এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। শুধু শুধু মাঠে গিয়ে রোদে পুড়ে খেলা দেখো। বোঝো না তো কিছুই!

আড়াই দিনে টেস্ট হার! তাও দেশের মাটিতে, চেনা কন্ডিশন-চেনা উইকেটে। ক্যামনে মানবো? সিফাত তার মন খারাপ লুকাতে পারে না।

এই তো! শুরু করলা মুখস্থ কথা। চেনা কন্ডিশন-চেনা উইকেট, তো কী হইছে? স্কিলে বা মনোযোগে কি বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে যেতে পারছে?

আড়াই দিনে টেস্ট হারের দিনগুলোতে প্রেম জমার কথা নয়। তা যতোই ফাগুন কড়া নাড়ুক দরজায়। সিফাত- দীপা অবশ্য প্রেম জমাজমির ব্যাপারটা বোঝে না। তারা বরং তর্ক করতে পছন্দ করে।

এখন তো বাংলাদেশ দলে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার- তামিম, ইমরুল, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ… এদের স্কিল কি লঙ্কানদের চেয়ে কম? দীপার প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করে সিফাত।

শোনো, স্কিল-ফিস্কিলের কথা বাদ দাও। বাংলাদেশ কিন্তু গত বছরই শ্রীলঙ্কাই গিয়ে তদের হারিয়ে এসেছে। এখন বাংলাদেশে এসে শ্রীলঙ্কা জিতলো। এট নিয়ে মন খারাপ করে রাখার কিছু নাই। ইতিবাচক কী পেলা, সেটা খোঁজো।

এখানে ইতিবাচকের আর কী আছে?! হতাশায় ডুবে যায় সিফাত।

দীপা বলে, স্পিনিং উইকেটে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে একইভাবে হারানো যায় না। ঢাকা টেস্ট তো এটা শিখিয়ে গেলো। তাই না? তো তুমি যে এটা শিখতে পারলা, এটা কি ইতিবাচক ব্যাপার নয়?

সিফাত কথা বলে না। মনটা তার আরো ভারি হয়ে ওঠে।

দীপা বলে, এখন বলতে পারো যে, স্পিন উইকেট না বানিয়ে ফাস্ট উইকেট বানানো যেতো। লঙ্কানরা যেহেতু বেশি পেসার আনে নাই, সেহেতু পেস দিয়ে তাদের ভড়কে দেয়া যেতো। হ্যা, তা হয়তো যেতো। কিন্তু সুরাঙ্গা লাকমাল যদি কোনো ইনিংসে পাঁচটা নিয়ে নিতো, তখন তো তুমিই বলতা, ধুর স্পিন উইকেট দরকার ছিলো! সুতরাং এই টাইপের কথা বন্ধ হবে না।

ক্রিকেট কিন্তু তুমি আমার চেয়ে বেশি বোঝো না। সিফাতের কপট অভিমান।

তা হয়তো বুঝি না। কিন্তু আমার কাছে একটা হারের কষ্টের চেয়ে, একটা জয়ের আনন্দ অনেক বেশি। হারটা ভুলতে তাই আমার সময় লাগে না। দীপা বলে।

সিফাতের কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলতে পারে না। আড়াই দিনে টেস্ট হারের দিনগুলোতে তার প্রেম জমে না। একদমই জমে না। মুহূর্ত কয়েক চুপ থাকার পর সিফাত বলে, কাল দেখা করবা?

দীপা বলে, তোমার মনটা কি একটু ভালো হলো?

https://www.mega888cuci.com