আহা, ক্রিকেট কত সুন্দর!

একজন ‘অফ স্পিনার’, কিন্তু সমানে গুগলি করে যাচ্ছেন!

হ্যাঁ, পরিচয় তার অফ স্পিনারই। তবে ক্যারম বল করেন, দুসরা করেন। সবচেয়ে বড় কথা, লেগ স্পিনও করেন। আবার লেগ স্পিনে ‘অফ স্পিন’ করেন। মানে গুগলি। তেমন তিনটি ডেলিভারিতেই এক ওভারে আউট করলেন কেদার যাদব, বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলকে।

তিনটিই এমন দারুণ গুগলি, কোনো টপ ক্লাস লেগ স্পিনারও গর্ব বোধ করবে। কোহলি-রাহুলরা বুঝতেও পারেননি কিছু। পুরোপুরি বিভ্রান্ত, হতভম্ব। তিনজনই বোল্ড।

পরের ওভারে আরেকটি গুগলি, বিভ্রান্ত হার্দিক পান্ডিয়া। স্টাম্পড। পরের ওভারে আরেকটি উইকেট। এবার অফ স্পিনই, তবে স্পিন করল না। সোজা ভেতরে ঢুকলে অ্যাঙ্গেলে। বাঁ-হাতি আকসার প্যাটেল এলবিডব্লিউ। এর আগে লেগ ব্রেকে নিয়েছিলেন রোহিত শর্মার উইকেট। ৬ ওভার বোলিং করে ৬ উইকেট।

অবশ্য নতুন কেউ নন তিনি। সেই ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলেন,পেশাদার ক্রিকেটে কখনও কোনো ম্যাচ না খেলেই। নেটে তাকে খেলে মুগ্ধ মাহেলা জয়াবর্ধনে জায়গা দিয়েছিলেন জাতীয় দলে। বিশ্বকাপে ভালোই করেছিলেন। কিন্তু জয়াবর্ধনে নেতৃত্ব ছাড়ার পর তার রহস্য স্পিনারও বিবেচনার বাইরে চলে যান।

সাড়ে ৪ বছর পর কিছুদিন আগে ফিরেছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে। দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। একটিতে ৬১ রানে ১ উইকেট। সবশেষ ম্যাচটিতে ৪৭ রানে ৪ উইকেট। তার পরও হয়ত বিশ্বাস পাচ্ছিলো না দল, ভারত সিরিজে প্রথম ম্যাচে তাই ছিলেন না একাদশে। আজকে নিশ্চিত করলেন, ভরসা এখন রাখতেই হবে! যেন নতুন প্রাণের জোয়ার জোগালেন মিইয়ে পড়া এই শ্রীলঙ্কা দলে। অজন্তা মেন্ডিসকে মনে পড়তে বাধ্য। এভাবেই বিভ্রান্ত, হতভম্ব করে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে।

বিনা উইকেটে ১০৯ থেকে ভারত ৭ উইকেটে ১৩১। ওই যে, খেলাটার নাম ক্রিকেট। তবে এই ম্যাচ এখনও শেষ নয়, ধোনি আছেন। খেলাটা ক্রিকেট!

৬ উইকেট, তবে এক ওভারে ওই তিন উইকেট ভোলার নয়। বিস্ময়ে, মুগ্ধতায় লাফিয়ে উঠেছি। পারিবারিক ব্যস্ততায় ছিলাম সারাদিন। আকিলা দনঞ্জয়ার তিনটি ডেলিভারিতেই সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে গেলাম!

আহা, ক্রিকেট কত সুন্দর!

– ফেসবুক থেকে

https://www.mega888cuci.com