আসুন, প্রতিজ্ঞা করি

একটা সংবাদ মাধ্যম জানালো, এটাই নাকি চট্টগ্রামে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জলাবদ্ধতা। ঢাকাও সর্বশেষ কবে এমন ভাবে নাকাল হয়েছে, সেটা মনে করা দুস্কর।

ঢালাও ভাবে বরাবরের মতেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দোষ খুঁজে বের করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ঢাকার মেয়ররাও বাদ যাচ্ছেন না। নি:সন্দেহে সিটি কর্পোরেশনের কিছু দায় আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরো মজবুত করার জন্য যে ধরণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরী, সেই পরিকল্পনায় সিটি কর্পোরেশন কতটা ‘সিরিয়াস’ সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।

তবে, কিছুটা দায় এই জাদুর শহরের মানুষগুলোকেও নিতে হবে। আমাদের সবাইকেই নিতে হবে। আমরা চাইলেই কিছুটা সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে পারি। বদলে যেতে ‘জাদুকর’ না হলেও চলে।

নিজেদের কাছে আমরা কী একটু প্রতিজ্ঞা করতে পারি? কখনো কোন অবস্থাতেই অনির্ধারিত স্থানে আর কখনো ময়লা ফেলবো না তা সে যত ছোটই হোক না কেন, এমনকি একটা চকলেটের খোসাও না। শুধু তাই নয়, অন্য কাউকে ফেলতে দেখলে না ফেলতে বলবো, প্রয়োজনে নিজে সেটা তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলবো।

চায়ের দোকানে ময়লা ফেলার জায়গা না থাকলে দোকাদারকে ময়লা ফেলার জায়গা তৈরি করতে বলবো। আবার পুরো ময়লাটা যেন দোকানদার রাস্তায় ঢেলে দিয়ে না আসে সেটাও খেয়াল রাখবো। বাসার ছোটখাট ময়লা রান্নাঘরের জানfলা দিয়ে বাইরে ফেলবো না বা বাসার কাউকে ফেলতে দিবো না, প্রতিবেশিদের কাউকে ফেলতে দেখলেও আটকাবো

জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় কারণ হল প্লাস্টিকের অপচনশীল দ্রব্য। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট সবই এর আওতায় পড়ে। আমাদের শহরগুলোর ড্রেনেজে এগুলো একদিনে আটকা পড়ে পানির প্রবাহ স্থবীর করেনি। দীর্ঘকাল ধরে এসব চলছে। আর সেটা এতটাই যে, এটাই এখন ড্রেনেজ সিস্টেমে গোলযোগ সৃষ্টি করার প্রধান কারণ। একবার কী আমরা বুকে হাত রেখে বলতে পারি, আজ থেকে যেখানে সেখানে প্লাস্টিকের আবর্জনা ফেলবো না!

বাজে অভ্যাসগুলো পাল্টে ফেলতে হবে আজই। এই মুহূর্ত থেকেই শুরু হোক বদলে যাওয়ার সূচনা। না হয়, এই অস্বাস্থ্যকর, নোংরা জলাবদ্ধতার মাঝেই নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প থাকবে না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।