আর কত রান করতে হবে নাঈমকে?

দেশের দুটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মধ্যে একটু বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, একটু বেশি মান ভালো বিসিএলের। সেই বিসিএলে গত মৌসুমে ৬ ম্যাচে ৪টি সেঞ্চুরি করেছিলেন নাঈম ইসলাম। নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই আরেকটি সেঞ্চুরি করলেন জাতীয় লিগে।

২২টি সেঞ্চুরি হলো, বাংলাদেশে তার চেয়ে বেশি আছে কেবল তুষার ইমরানের ২৩টি।

যথারীতি নাঈমের এই সেঞ্চুরিও কমপ্যাক্ট। টিপিক্যাল নাঈম ইনিংস। বরাবরের মতোই দল যখন ধুঁকছিল, তখন নেমেছেন। উইকেটে ঘাস ছিল বেশ। যদিও বাদামী ঘাস, মানে প্রায় মরা। তবে লাঞ্চের আগে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল মাশরাফি-আল আমিনকে খেলা। নাঈমকে দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি খুব অস্বস্তিতে ছিলেন। মরা ঘাসে পরে ব্যাটিংকরা সহজ হয়ে যায়। নাঈমের ব্যাটিং সেটিকে আরও সহজ মনে করিয়েছে।

ধিমানের ইনিংসটিও ভাইটাল ছিল। ১৭৭ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর নেমে প্রতিআক্রমণ করেছেন। মোমেন্টাম বদলে দিয়েছেন। তবে দু দফায় জীবন পেয়েছেন ৫৮ ও ৬৮ রানে। নাঈমের ইনিংস নিখুঁত প্রায়… প্রায় ৬ ঘন্টা ব্যাট করে দিন শেষে ১২০ রানে অপরাজিত।

সাড়ে ৩ বছর পর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথম দিনে মাশরাফির বোলিং ফিগার ১৩-২-৫৬-০। ফিগার দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন খুব ভালো ছিল না বোলিং। অনেকে লিখে-টিখে ফেলেছেন হয়ত। অথচ মাশরাফি বেশ সন্তুষ্ট বোলিং নিয়ে। কারণ প্রথম দুই স্পেল দারুণ করেছেন।

প্রথম স্পেলে উইকেটে একটু সহায়তা মিলেছে। দারুণ সব আউট সুইঙ্গার দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় স্পেল ছিল আরও ভালো। দুই দিকেই সুইং ছিল, কাটার তো ছিলই। ভাগ্য একটু ভালো হলো ২-৩টি উইকেট পেতে পারতেন।

প্রথম দুই স্পেলে বোলিং ফিগার ছিল ১১-২-৩৪-০। শেষ দুই ওভারে দিয়ে ফেলেন ২২ রান। তবে মনে রাখতে হবে, তখন বোলিং করেছেন ৮০ ওভারের পর। সাড়ে তিন বছর পর ৫০ ওভারের বেশি মাঠে থাকা। ১০ ওভারের বেশিবোলিং করা। ওয়ানডেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া শরীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ক্লান্তি আসাটাই স্বাভাবিক। বলের ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ। কুকাবুরা বলে অভ্যস্ত হয়ে পড়া হাতে এত বছর পর এসজি বল।

সব মিলিয়ে খারাপ নয়। তার চাওয়া এই ম্যাচে ২৫-৩০ ওভার বোলিং করা। দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন প্রথম ওয়ানডে খেলবেন, সবশেষ ওয়ানডে থেকে সেটি হবে ঠিক চার মাস পর। এই প্র্যাকটিসটা তার জরুরী ছিল।

আজকে নাঈমের সেঞ্চুরির একটু আগে সেঞ্চুরি করেছেন আশরাফুল। মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরি তাই তার। তবে অতি উৎসাহী অনেককে দেখলাম   ‘ফিরেই সেঞ্চুরি’ বলে-টলে একাকার। অথচ এই লোক গত মৌসুমেও জাতীয় লিগ খেলেছেন এবং বেশ বাজে করেছেন।

গত বিসিএলে নাঈমের চার সেঞ্চুরি ও এবার প্রথম সেঞ্চুরির কথা বললাম শুরুতে। আরেকটু মনে করিয়ে দেই,গত তিন মৌসুমে জাতীয় লিগ-বিসিএল-প্রিমিয়ার লিগ মিলিয়ে বানের জলের মত রান এসেছে শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাট থেকে!

– ফেসবুক থেকে

https://www.mega888cuci.com