মানুষ ভাবে, আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক: শাহরুখ খান

রূপালী পর্দায় তিনি যতটা জনপ্রিয়, পাশাপাশি পর্দার বাইরেও ঠিক কোনো অংশে কম নয়। নিজের বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিশমা, রসবোধ ও শ্রুতি মধুর বক্তব্য দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মনে উৎসাহ-উদ্দীপনা সব সমানভাবেই দিতে পারেন। তার ভক্তরা এখনও মনে করেন, তিনিই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রেমিক! এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কার কথা বলতে চাচ্ছি, তিনি শাহরুখ খান। ভারতীয় সিনেমা প্রেমীদের কাছে উত্তেজনা তৈরির জন্য এই একটা নামই যথেষ্ঠ। তাকে বলা হয় একাধারে কিং অব বলিউড, কিং অব রোমান্স, বাদশা অব বলিউড, আরও কতো কী!

সম্প্রতি, তিনি ডাক পেয়েছিলেন টেডের (টেকনোলজি এন্টারটেইনমেন্ট ডিজাইন) মঞ্চে। কানাডার ভ্যাঙ্কবারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮ মিনিট বক্তব্যে কার্যত মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। তুলে ধরেছেন নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে বলিউডে তার উত্থানের গল্প এবং ১৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর স্মৃতিকথা-সহ আরও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রতিটি সময়ের পরিবর্তনকেও মন ভরে উপভোগ করে নিচ্ছেন।

‘টেড টক’ পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় শো, প্রথম শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। এটি মূলত একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বক্তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন থেকে শুরু করে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বোজেস, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন, মহাকাশচারী মে জেমসন কিংবা সেরেনা উইলিয়ামসের মতো ব্যক্তিত্বও বক্তব্য রেখেছেন এই মঞ্চে।

মঞ্চে ওঠে প্রথমেই স্বভাবসুলভ মজার ভঙ্গিতে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে শাহরুখ বলেন, ‘নমস্কার! আমি সিনেমার তারকা, বয়স ৫১ বছর। এখনও বোটক্স নেই না। এমনিতে স্বচ্ছ চরিত্রের, কিন্তু আমার ছবিতে ২১ বছর বয়সীর মত আচরণ করি! আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। লাখো মানুষের মাঝে ভালবাসা বিক্রি করে বেড়াই। লক্ষ লক্ষ ভক্ত যারা এখনও মনে করে, আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক। আমি জানি যে, এখানে অনেক মানুষ আছে, যারা আমার কাজ দেখেনি। তাদের জন্য আসলেই দুঃখ হয়। আর এটাই সত্য যে আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী এবং সবসময় নিজের মধ্যে ডুবে থাকি, একজন ফিল্মস্টারের ঠিক যেমনটা করা দরকার।’

ক্যারিয়ারের উত্থান পতন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত চল্লিশ বছর বয়সেই আমি খুব উদ্ধত ছিলাম। পঞ্চাশের বেশি সিনেমা, দুশোর উপর গান, মালয়েশিয়া-ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং তারপর এলো ইন্টারনেট। ফলে দেখা গেল, আমার করা প্রতিটি কাজ, উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ নিয়ে শুরু হল তর্ক-বিতর্ক। আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার মতো বিশ্বও একরকমের মিডলাইফ ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আসলেই অনেক বেশি ফ্ল্যাশ ঝলকানির মধ্যে থেকে যাচ্ছি।’

তরুণদের অনেকের কাছেই শাহরুখ খান আদর্শের মত। তাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম খুবই সাহসী, অসামান্য মেধাবী, দারুণ আশাবাদী এবং একই সাথে এদেরকে বোঝা প্রায় অসম্ভব। নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন হওয়া উচিত বুড়ো হতে চলা সিনেমার অভিনেতাদের মতো হওয়া, যাদের বিশ্বাস পাগলের মতো এই পৃথিবী কেবল তাকেই ভালোবাসে। নিজের শক্তিকে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করতে পারো, আবার লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যও ব্যবহার করতে পারো।’

এভাবে তিনি একে একে নিজের উত্থান, মানবতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কথা বলেছেন। সবশেষে দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানিয়েছেন, এমনটা ‘টেড টক’-এ আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, শাহরুখ খানই প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই মঞ্চে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।

https://www.mega888cuci.com