আমরণ তুঁহু মোরা দুজনা…

উত্তম-সুচিত্রা জুটির বিকল্প জুটি হবার সন্ধান দিয়েছিল যে জুটি৷ যাঁরা নিজেদের একটু ইন্টেলেকচুয়াল ভাবেন, উত্তম কুমারকে সে অর্থে পছন্দ করতেননা, তাঁরা সৌমিত্র-অপর্ণার মধ্যে খুঁজতেন বিকল্প৷

উত্তম-সৌমিত্র নিয়ে তখন তর্কের গোলটেবিল বৈঠক বসে যেত কে সেরা। ম্যাটিনী আইউল হিসেবে চিরকালই উত্তম এগিয়ে। কিন্তু সৌমিত্র যেন আরও কাছের যাকে স্পর্শ করা যায়। উত্তম-সুচিত্রা জুটির গ্ল্যামার স্টেটাস অনেক অনেক উচ্চ যা স্বর্গীয় থেকে শরীরীর মেলবন্ধন। কখন শেষ দৃশ্যে উত্তম-সুচিত্রার জড়াজড়ি হবে সেই দেখতে দর্শক উদগ্রীব হয়ে থাকত। কিন্তু সারা ছবিতে ঐ একটি সিন। বাকি ছবিতে শরীর নেই খুব স্বর্গীয় প্রেম।কিন্তু তার গভীরতা অনেক বেশী।

উত্তম-সুচিত্রা-কে ধরা যায়না, কেউ চোখে দেখলে তাঁর জীবন সার্থক হয়ে যায় সুপারস্টার যারা দুজন। দেব-দেবীর মতো অধরা মাধুরী তাঁদের জুটি। যা রহস্য রোমাঞ্চ মেশানো। কিন্তু সৌমিত্র-অপর্ণা-র ছবি দেখলে রোমান্টিকতার সংজ্ঞা অন্য রকম লাগে৷যারা খুব কাছের সেসময়কার নবীন প্রজন্মের মনের কথা বলত যারা। যাদের পথসভায়, মিটিং-মিছিলে দেখা যায়। যাদের মধ্যে অতি নাটকীয়তা নেই যারা খুব বাস্তব জুটি।বিশাল বড়লোকের মেয়ের সঙ্গে গরীবের ছেলের প্রেম, রূপবতী রাজকন্যা নায়িকা পিয়ানো বাজিয়ে গান গায় এইগুলো তখন মধ্যবিত্ত সমাজে কল্পরাজ্য ছিল।

একের পর এক যুদ্ধ,দেশভাগ পেরনো বাঙালি, নকশাল আন্দোলনের শুরু শুরু সেসময় আবির্ভাব হল সত্যজিৎ রায়-র হাত ধরে সৌমিত্র-অপর্ণা জুটি।যখন উত্তম সুচিত্রা আবেশে আবেগে ফুটছে বাঙালি। বেশীরভাগ বাঙালী মহানায়ক-মহানায়িকা তে আটকে থাকলেও একদল বুদ্ধিজীবি বাঙালি যারা হলিউড ক্লাসিক মুভি দেখে বড় হচ্ছে,কমরেড, গণনাট্য সঙ্ঘ করছে উৎপল দত্তের ইংরাজী নাটক দেখছে তাদের খুব আপন হয়ে উঠল সৌমিত্র অপর্না জুটি।

‘তিন কন্যা’-র ‘সমাপ্তি’ অপূর্ব-মৃণ্ময়ী-র সমাপ্তি নয় পথ চলা শুরু করল। ‘সমাপ্তি’ ছোটো গল্পে নায়কের নাম ছিল অপূর্ব। কিন্তু অপূর্বের ভূমিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করলে অপু ছাড়া আর কিচ্ছুটি মনে হওয়া সম্ভব কি? ‘সমাপ্তি’ করতে গিয়ে সত্যজিৎ রায় তাই সৌমিত্রর নাম বদলে দিলেন।মৃন্ময়ীর নায়কের নাম হল অমূল্য।

এরপরই এই জুটি করল বাক্সবদল ও মৃণাল সেন-র আকাশ কুসুম। দুটোই খুব আলোচিত হল।

উত্তমের যেমন ইউ কাট হেয়ার স্টাইল কিংবা মিঠুনের ঝুলপি ছাড়া হেয়ার স্টাইল। তেমনি সৌমিত্র ইন্ট্রোডিউসড করলেন এক নতুন স্টাইল। প্যান্টের ওপর পাঞ্জাবী পরার স্টাইল।আগে বাঙালী ধুতি পাঞ্জাবী কিংবা পাজামা পাঞ্জাবী পরতেই দর ছিল। কিন্তু সৌমিত্র শেখালেন এক নতুন স্টাইল পোশাকে।

‘আকাশ কুসুম’ থেকে এইভাবে পোশাক পরা শুরু করেন সৌমিত্র। আমরা যদি ‘সোনার কেল্লা’য় ইনডোর সিন গুলো যদি আমরা দেখি কিংবা ‘অরন্যের দিনরাত্রি’তেও সৌমিত্র প্যান্টের উপর পাঞ্জাবী পরেছেন।উত্তমের পাশাপাশি সৌমিত্র স্টাইল শুরু হল। ইউ কাটে ভাঁটা পরলেও সৌমিত্র স্টাইল আজও রয়ে গেছে।

এই জুটির মূলধারার ছবি বললেই প্রথমে মনে আসে সবার ‘বসন্ত বিলাপ’। দীনেন গুপ্ত-র ছবি। সত্তর দশকে উত্তম-সুচিত্রা জুটি একসঙ্গে ছবি করা কমিয়ে দিয়েছে করলেও ওঁদের সেই ছবিগুলোর স্টাইল ওঁরা অনেক আধুনিক করেছিল যেমন ‘নবরাগ’ কিংবা ‘আলো আমার আলো’।তখন নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিজীবিদের কাছে সৌমিত্র-অপর্না হটকেক।

আবার ‘বসন্ত বিলাপ’ সব মানুষের ভালোবাসা পেল। দীনেন গুপ্ত তো মৃণাল সত্যজিৎ দের মতো পুরস্কার পাবেন বলে ছবি বানাতেন না উনি হাউসফুল বোর্ড দেখতে চাইতেন। দর্শক বিনোদন ছবি। ‘বসন্ত বিলাপ’ ঠিক সেরকম ছবি। যে ছবির গল্প আর পাঁচটা পাড়ার সরস্বতী পুজো, দোল, দল বেঁধে সিনেমা দেখতে যাওয়ার মাঝে যে প্রেম গড়ে ওঠে সেই নিয়ে ছবির গল্প।

সৌমিত্র-র মিস ক্যালকাটা অপর্ণা। কোনো আর্ট ফিল্ম এই মিস ক্যালকাটা গ্ল্যামার অপর্ণা সেন কে দিতে পারেনি। দীনেন গুপ্ত-র ছবি যা দিয়েছে। সুধীন দাশগুপ্ত-পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়-আরতি মুখোপাধ্যায় ম্যাজিক। সঙ্গে অপর্ণা স্টাইল। ঐ ড্রেস ক্যারি করতে অপর্নাই পারতেন। অপর্না আজও সবার মিস ক্যালকাটা। মিথ হয়ে গেছে।

উত্তম যে ম্যাটিনী আইউল সেটা ‘বসন্ত বিলাপ’-র প্লটে ঘুরে ঘুরে এসছে। কখনও চিন্ময় রায় পুকুর পাড়ে বসে শিবানী বসু-কে বলছে ‘আমাকে একবার বলো উত্তমকুমার।’ কিংবা দল বেঁধে সবাই মহুয়া-য় ‘শঙ্খবেলা’ দেখতে যাচ্ছে। সৌমিত্র-অপর্না জুটি খুব কাছের তাই বাঙালির যারা সাধারন হয়েও অসাধারন। রিক্সায় চেপে ঊর্ধ্বশ্বাসে অপর্ণা এসেছিলেন স্টেশনে, ট্রেনে ওঠার আগে যদি সৌমিত্রকে ধরা যায়। ওভারব্রিজের নীচে দাঁড়িয়ে অপর্ণার উদ্দেশ্যে সৌমিত্র বলেছিলেন ‘আমি জানতাম তুমি আসবে।’ চরম রোম্যান্টিক সিন। অনুরাধা আর শ্যাম -র সংসার শুরু হল রাধে-শ্যাম লেখা রিক্সায় চড়ে। যে সংসার আজও আবহমান ‘বসু পরিবার’-এ প্রণবেশ এবং মঞ্জরী-র পঞ্চাশ বছরের বিবাহিত জীবনে।

প্রথমেই বলেছি, সৌমিত্র-অপর্না একটা আলাদা ক্লাসে বন্দী রয়ে গেছে সবসময়। যারা আর্ট ফিল্মের ভক্ত, উত্তম-সুচিত্রা-র ছবিকে বাঁকা চোখে দেখে তাই তারা সর্বসময় সৌমিত্র অপর্ণাকে আর্ট ফিল্মে বন্দি করে রেখেছেন। সৌমিত্র-অপর্ণাও বানিজ্যিক ছবি গুলিকে পাতে দেবার মতো মনে করেননি। সেজন্য কি ক্ষতি হয়েছে বাংলা ছবির ওনারাও বোঝেননি।

সত্তর দশকে ব্যাপক হিট সৌমিত্র অপর্ণা-র এই বানিজ্যিক ছবি গুলি।

যেমন অপরিচিত (১৯৬৯), পদ্মগোলাপ (১৯৭০), খুঁজে বেড়াই (১৯৭১), জীবন সৈকতে (১৯৭২), বসন্ত বিলাপ, বিলেত ফেরত, এপার ওপার (১৯৭৩), শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন (১৯৭৩), অসতী (১৯৭৫), নিশিমৃগয়া (১৯৭৫), ছুটির ফাঁদে (১৯৭৫), নৌকোডুবি (১৯৭৯)৷

সত্তর দশকের আগে সৌমিত্র-অপর্ণার তিনটি সিনেমা (তিন কন্যা, বাক্সবদল, আকাশ কুসুম) তথাকথিত বাণিজ্যিক ছবি নয়৷ সেগুলো নিয়েই বেশী বেশী লেখালেখি হয় আজও৷ প্রবলতর সমস্যা হল, সৌমিত্রকে নিয়ে আলোচনায় বানিজ্যিক সব সিনেমার উল্লেখ পাই না৷ তাঁর ইন্টারভিউতেও না৷ অপর্ণা সেনের কথাবার্তাতেও এ সব সিনেমা উনি ভুলে যেতে চান৷ ইউটিউবে যে ‘বসন্ত বিলাপ’ ছাড়া অধিকাংশ ছবিই পাওয়া যায় না। তাও কিছু হারিয়ে যাওয়া ছবি আঞ্জেল ভিডিও সংরক্ষন করছে। সৌমিত্র-অপর্না কেন ওনাদের এই বানিজ্যিক ছবি গুলো নিয়ে সেই পরিচালকদের নিয়ে আলোচনা করেননি তাই জন্যই অনেক ছবি লুপ্ত হয়ে গেছে।

ঋতুপর্ণ-র আগেও সৌমিত্র-অপর্না জুটি ‘নৌকাডুবি’ করেছে অথচ সেই ছবি লুপ্ত। প্রিন্ট পাওয়া যায়না। অজয় করের ছবি। সত্যজিৎ সত্যজিৎ করে সত্যজিতের নায়ক নায়িকা তাঁদের বলে গেছে দর্শক তাঁরাও তাতে মত্ত কিন্তু অজয় কর তো কোনো অংশে কম পরিচালক নন। তাঁর ছবিগুলি আস্তে আস্তে লোপ পেয়ে যাচ্ছে। কেউ জানেইনা জানবেওনা।

উত্তম সুচিত্রা বানিজ্যিক ছবিকে যেভাবে গুরত্ব দিয়েছিলেন সৌমিত্র-অপর্না দেননি। কিন্তু বহু দর্শকের কাছে তাঁদের বানিজ্যিক ছবিগুলিও প্রিয়। সৌমিত্র-অপর্ণা হিট মেশিন তো বটেই।

ভাবগম্ভীর আঁতেল লেখায় সৌমিত্রকে শুধু সত্যজিত্‍‌ ‍-তপন সিংহ–মৃণাল সেনের সৌমিত্র করে রাখা হয়, নইলে একেবারে হাল আমলের সৌমিত্রকে ধরা হয় এই ছবিগুলি দিয়ে ‘দেখা’, ‘অংশুমানের ছবি’, ‘নোবেল চোর’, ‘শূন্য অঙ্ক’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘ভালো থেকো’, ‘১৫ পার্ক এভিনিউ’, ‘পারমিতার একদিন’, ‘বালিগঞ্জ কোর্ট’, ‘সাঁঝবাতির রূপকথা’, ‘ময়ুরাক্ষী’।

আকাশ ছোঁয়া ফিল্মিজীবনের মাঝখানের সত্তর আশি-র ছবিগুলোকে কি ভাবে অস্বীকার করবেন সৌমিত্র-অপর্ণা?

মোহনার দিকে,কড়ি দিয়ে কিনলাম -র একক অপর্ণা হিট মেশিন কিংবা একক সৌমিত্র-র ‘সংসার সীমান্তে’, প্রতীমা (১৯৭৭), সুদূর নীহারিকা (১৯৭৬), মন্ত্রমুগ্ধ (১৯৭৭), ঘরের বাইরে ঘর (১৯৮০)৷ বৈকুণ্ঠের উইল (১৯৮৫), অগ্রদানী (১৯৮৩), ইন্দিরা (১৯৮৩), রসময়ীর রসিকতা (১৯৮২), ফাদার (১৯৮১)৷

কিছু নব্য তরুন তরুনী কোনদিন দেখেইনি এই ছবিগুলি অথচ এগুলোকে বাজে ছবি তকমা দিয়ে ঐ সত্যজিৎ-মৃণাল -এর সৌমিত্র-র বাইরে ফেবু এ পোষ্ট লিখতে পারেনা। এইভাবে তাহলে ঐ বানিজ্যিক ছবিগুলি হারিয়ে যাবে?

হারিয়ে যাবেন ঐ মূলধারার ছবির পরিচালকরা যাদের কম অবদান নেই টলিউডে।

আজকাল যে ধরনের মূলধারার ছবি হয় তাতে আগের ছবি পরিচালক প্রযোজকরা অনেক শৈল্পিক ভাবে মূলধারার ছবি বানাতেন। কিন্তু তাঁরা এতটুকু সম্মান পেলেননা।তাঁদের ছবিগুলো হারিয়ে গেল।

যারা মূলধারার ছবিকে পাতে দেননা , দিতে হবেনা তাঁদের গুরত্ব। তারা ভুলে যান এই গান গুলো।

আমি কী করে ভুলি, ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে অপর্ণা সেনের সঙ্গে সৌমিত্র চ্যাটার্জী গাইছেন, ‘মুশকিল আসান, আমি এসে গেছি মুশকিল আসান’৷’জীবন সৈকতে’-এ ‘সাগর ডাকে আয় আয়’ । কি দারুন সুর দিয়েছিলেন সুধীন দাশগুপ্ত।সন্ধ্যা রায়ের সঙ্গে ‘মণিহার’ ছবিতে হেমন্তর গলায়, ‘কে যেন গো ডেকেছে আমায়’৷ ‘প্রেয়সী’ সিনেমায় আরতি ভট্টাচার্যকে খুঁজতে গিয়ে নৌকোয় মদ্যপান করতে করতে গাইছেন মান্নার গলায়, ‘আজ বুঝেছি মজনু কেন পাগল হয়েছিল/আমার মতো সেও যে প্রেমের আঘাত সয়েছিল৷’, ‘স্ত্রী’ ছবিতে নদীতে নৌকায় চলে যাচ্ছে প্রেমিক সৌমিত্র আর সব হারানো প্রেমিকা আরতি ভটাচার্য্য নদীর পাড় দিয়ে ছুটছেন ঢাকাই জামদানি শাড়ি পড়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে।আবহে হেমন্তের হাহাকার করা গান – ‘সাক্ষী থাকুক ঝরা পাতা,আকাশ বাতাস সাক্ষী থাকুক,সাক্ষী থাকুক বনলতা/সুন্দর এই বিচ্ছেদনা পাথরের বুকে লিখে রাখো।’

বা অপর্ণা সেনের সঙ্গে ‘শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন’ ছবিতে মান্না দেরই গাওয়া, ‘এ কী এমন কথা, তারে বলা গেল না৷’ অপর্ণা সেনের সঙ্গে ইন্দিরা ছবি৷ দু’জনে বৃষ্টিতে ভিজছেন৷ আর সঙ্গে সৌমিত্রর লিপে মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সুরে মান্নার গাওয়া, ‘ঝরঝর বৃষ্টিতে থরথর দৃষ্টি’৷ অজানা শপথ ছবিতে সাইকেল চালাতে চালাতে সৌমিত্র গাইছেন হেমন্তর বিখ্যাত গান, ‘ও আকাশ, সোনা সোনা৷’ বা সাবিত্রী নায়িকা৷ সিনেমার নাম, ‘নতুন দিনের আলো৷’ সেখানে সৌমিত্র একবার গাইছেন, ‘রং রেরংয়ের জেল্লা, মার দিয়া হ্যায় কেল্লা/ছেঁড়া জামায় দেখে কে আমায়, পরেছি বাদশাহি আলখাল্লা৷’ আর একবার, ‘চলেছে চলছে চলবেই/ যা কৈলাশে জমে আছে বরফের স্ত্তপ হয়ে/ সে তো গঙ্গার স্রোত হয়ে গলবেই৷’ সেই ছবির ‘মিনু পিস’ বোনের নামে কাটলেট কি বিখ্যাত।

কিংবা ‘ইন্দিরা’তেই বিয়ের আসরে বসে নব বধূর আসার অপেক্ষায় সৌমিত্র গাইছেন – ‘আজি মলয়-মন্দ বহিয়া যায় প্রাণের শ্রবণে কহিয়া , প্রিয়তম তুমি আসিবে।’ সুচিত্রা সেন-র সঙ্গে কালজয়ী ছবি ‘সাত পাকে বাঁধা’ তো আছেই।অজয় কর-র এই ছবিকে আর্ট না কমার্শিয়াল কোন ঘরানায় ফেলবেন?

দীর্ঘ সতেরো বছর পর আবার পর্দায় ফিরছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (প্রণবেশ) এবং অপর্ণা সেন (মঞ্জরী) জুটি। সুমন ঘোষের ‘বসু পরিবার’ ছবিতে। ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পারমিতার একদিন-‘ এ তাঁদের শেষবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এর মাঝে ‘ফিফটিন পার্ক এভিনিউ’তে অপর্ণার পরিচালনায় সৌমিত্র কাজ করেছেন একটি ছোট্ট চরিত্রে। ওয়াহিদা রহমান-র সঙ্গে।

জুটি কিন্তু আর্ট ফিল্ম তৈরী করেনা জুটি তৈরী করে হাউসফুল বোর্ড মূলধারার ছবি। তাই এই জুটি ফিরছে বললেই ঐ মূলধারার ছবিগুলো কে একটু সম্মান দেওয়া দরকার। কেউ তো ঐ ছবিগুলোকে ছবির পরিচালকদের প্রাপ্য সম্মান দেননা তাই আজ একটু মনে করিয়ে দিলাম।

সৌমিত্র-অপর্ণা দুজনে দুজনার, যেন বলছে  –

কথার পাহাড় ভেঙ্গে ভেঙ্গে

ক্লান্ত হয়ে গেছি থেমে

এসো মন দিয়ে মন ছুঁয়ে রাখি।

https://www.mega888cuci.com