আবেগ নয়, যুক্তি

কিছু ব্যাপারে আমি বরাবরই সুশীল প্রজাতির।

পাড়ার ক্রিকেট বলেন আর ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্ট(আমার দৌঁড় ও পর্যন্তই ছিল) কোনটিতেই জেতার জিদ জাগানোর জন্য আমার অন্তত কাউকে গালি দিতে হয়নি।

একইভাবে, সবাই যে একরকম কিংবা আমার মত নন, সেটাও আমি অনেক আগেই মেনে নিয়েছি। তাই, যারা মনে করেন খেলার মাঠে প্রতিপক্ষকে গালি দেয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, তাদের অবশ্যই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা উচিত নয়।

প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাশরাফি যদি আহমেদ শেহজাদকে ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ গালি দিতে পারেন। তবে একইভাবে নিজেও তেমন কিছু ফেরত পেতে প্রস্তুত থাকেন বলেই আমার বিশ্বাস।

এখানে যদি দেশের ক্রিকেটার, বিদেশের ক্রিকেটার, সিনিয়র-জুনিয়র এমন অনেক কিছু ভেবে চিনতে রিএক্ট করতে বলা হয়, তবে সেটা আসলে ন্যাচারাল আর থাকে না!

মুন্না ভাই এমবিবিএস মুভিতে ছিল, একজন ডাক্তার যদি পেশেন্টকে নিজের আত্মীয় মনে করেন, তাহলে সেটা রোগীর জন্যেই খারাপ হতে পারে। নিজের সন্তানের অপারেশন করতে গেলে ডাক্তারের হাত অবশ্যই বেশি কাঁপবে!

তেমনি কম্পিটিটিভ ম্যাচে যদি প্রতিপক্ষের জন্য আলাদা সম্মান বুকে নিয়ে খেলতে হয়, সেটাও পেশাদারিত্বের জন্য খারাপ। এই যেমন মুস্তাফিজ তার বিপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ছক্কাটা মাশরাফির হাতেই খেয়েছেন।

তবে শুভাশিষ যা করেছেন, তা যেকোন বিচারেই বাড়াবাড়ি। মুহূর্তের উত্তেজনায় করে ফেলা আচরণের জন্য তাকে এরপরেও অনুতপ্ত মনে হয়নি। ইনিংসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তেঁতে ছিলেন এবং আরো গালিগালাজ করেছেন।

আর সত্যি কথা বলতে কি, মাশরাফিও নিজে কোনো দিন তার নিজের দেশেরই কোন সিনিয়র ক্রিকেটারকে গালি দিয়েছেন বলে আমার মনে হয় না। ভুল করার জন্য সবথেকে ভুল মানুষটিকেই খুঁজে পেলেন শুভাশিষ। এরই মাঝে নিজেই আগে ‘স্যরি’ বলে মাশরাফি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তার সাথে এমন আচরণ করা যায় না।

আশা করি আজই শুভাশিষ মাশরাফির সাথে দেখা করে স্যরি বলেছেন। অন্তত দু’জনের হাসিমাখা ছবি স্যোশাল মিডিয়াতে দেখে তাই মনে হচ্ছে।  না বললেও অন্তত মাশরাফির কোন ক্ষতি হত না।

পুরো লেখাটিই আবেগকে সাইডে রেখে যুক্তি দিয়ে লেখা। মনের ভেতর অন্য কিছু চলছে।

https://www.mega888cuci.com