অ্যালেকজ্যান্ডার দ্য গ্রেট

সর্বজয়ী অ্যালেকজ্যান্ডার দ্য গ্রেট ভারত মহাসাগরে একটা ‘অনাবিষ্কৃত’ দ্বীপ খুঁজে পেয়েছিলেন। তার নাম তাপ্রোবেন। পরে নাম পাল্টে হয় সেয়লন, এরপর শ্রীলঙ্কা।

অ্যালেকজান্ডারকে এই অঞ্চলের মানুষ বলতো সিকান্দার। শ্রীলঙ্কান ভূখণ্ড আবিষ্কারের ২৩০০ বছর পর আরেকজন সিকান্দারকে পেল শ্রীলঙ্কা। তবে, নিজেদের আবিষ্কারক হিসেবে নয়। এই সিকান্দার চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, শ্রীলঙ্কার আবার নতুন করে শুরু করার সময় চলে এসেছে।

সিকান্দার; সিকান্দার রাজা – পাকিস্তানি বংশদ্ভুত জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডারের পারফরম্যান্স এতটাই রাজসিক ছিল যে, ওয়ানডে সিরিজে তার সামনে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হেরে যায় ৩-২ ব্যবধানে। সিরিজ নির্ধারণের শেষ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন সিকান্দার। ১৬ বছর পর দেশের বাইরে প্রথমবারের মত সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করে নব্বইয়ের দশকের হারানো গৌরব খুঁজে ফেরা জিম্বাবুয়ে।

এবার টেস্টে তিনি হয়ে উঠলেন আরো ভয়ঙ্কর। বল হাতে অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রিমার ও শন উইলিয়ামসদের দারুণ সঙ্গ দিলেন। তবে, আসল কাজটা করলেন ব্যাট হাতে।

২০৫ বলে খেলেছেন ১২৭ রানের অবিস্মরণীয় এক ইনিংস। এক ছক্কা আর নয় চারের এই ইনিংসের মাঝপথে ম্যালকম ওয়ালারকে সঙ্গী করে ১৪৪ রানের অনন্য এক জুটি গড়েন সিকান্দার।

বলা যায়, এই ইনিংস আর এই জুটিটাই ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। জিততে হলে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৩৮৮ রান। চতুর্থ ইনিংসে এটা করা যে রীতিমত অসম্ভব সেটা বলে না দিলেও চলে।

টেস্টের ফলাফল যাই হোক না কেন, দুই ফরম্যাট মিলিয়ে এই ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচকে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের পুনর্জাগরণের সূচনা বলা যায়। আর তার গুরুত্বপূর্ণ একটা পদেই আছেন সিকান্দার: অ্যালেকজ্যান্ডার দ্য গ্রেট।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।