আহ, অসহ্য! অসহ্য সুন্দর এই পৃথিবী

গল্পটা সম্ভবত আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের কাছে শোনা।

তলকুঠুরিতে বন্দী একজন মানুষের কাছে দেবদূত এসেছেন নতুন আশ্বাস নিয়ে। প্রশ্ন করলেন, ‘জানতে চাও বাইরের পৃথিবীটা কেমন?’

বন্দী সাগ্রহে বললেন, ‘চাই বৈকি, খুব চাই।’

দেবদূত তাঁর জাদুর কাঠিটা একটু নাড়লেন, দেয়ালের গায়ে ছোট্ট একটা ছিদ্রমতন দেখা দিলো। দেবদূত বললেন, ‘এই ফুটোয় চোখ রাখো। বলো কী দেখতে পাও।’

বন্দী আশাহত গলায় জবাব দিলেন, ‘একটা ভাগাড়, একপাল মাছি ভনভন করছে।’

দেবদূত মৃদু হেঁসে আবার নাড়লেন জাদুর কাঠি, এবারে একটা গর্ত হলো দেয়ালে, ছোট্ট একটা জানালার সমান।

‘কী দেখতে পাচ্ছো হে?’

‘ডাস্টবিনটা রয়েছে একটা এঁদো ডোবার পাশে। ডোবার উপর থকথকে কাঁদা। এখানে ওখানে ভাসছে ডাবের খোসা, কলার ছিলকে, একটা মৃত পাখি।’

দেবদূত আরেকবার নাড়লেন সেই জাদুর কাঠিটা, মেঝে ফুঁড়ে বেড়িয়ে এলো একটা সিঁড়ি, চলে গিয়েছে ছাঁদের দিকে।

দেবদূত হাত বাড়িয়ে ডাকলেন, ‘এসো আমার সাথে।’

সূর্যের আলোয় ছাঁদ ভেসে যাচ্ছে। অন্ধকারে বহুদিন আটকে থাকা বন্দীর চোখ যেন ঝলসে যায়। দুহাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলে সে।

দেবদূত বললেন, ‘চোখ মেলে সামনে তাকাও, বলো কী দেখতে পাও।’

বন্দী কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তার দৃষ্টিতে অপার মুগ্ধতা, তারপর বিড়বিড় করে বলে, ‘একটা খোলা মাঠ, মাঠের বুক চিড়ে দৌড়ে যাচ্ছে একটি শিশু। তার হাতে ওটা কী? ও, সুতো! সুতো চলে গিয়েছে আকাশে, সেখানে পতপত করে উড়ছে লাল টুকটুকে একটি ঘুড়ি। আহ, অসহ্য! অসহ্য সুন্দর এই পৃথিবী।’

এই গল্পের একটি চমৎকার অর্থ রয়েছে। ক্ষুদ্র জায়গা থেকে দেখলে পৃথিবীকে ভালো লাগবে না। দেখতে হয় আকাশের মতো বিশাল একটি হৃদয় দিয়ে।

সপ্তাখানেক হয় আমার ছেলের আকাশটা এক ঝটকায় বেড়ে গিয়েছে অনেক গুন। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি নয় বছরের একটি বালক তিন বছরের শিশুর আনন্দ নিয়ে এ ঘর থেকে সে ঘরে ছুটে যাচ্ছে আর চিৎকার করে বলছে ‘মূর্ধন্য’।

আজকে আমরা ব্যাঞ্জনবর্ণ শেষ করলাম।

https://www.mega888cuci.com