অফিসের স্ট্রেস কার না থাকে!

আমরা যারা বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি তাদের সবার একটা কমন সমস্যা আছে মনে হয় – ‘স্ট্রেস’!

অন্তত আমি যাদের কেই জিজ্ঞাসা করি কেমন যায় চাকরি জীবন, সবাই ঘুরে ফিরে এটার কথাই বলে। আমিও ব্যতিক্রম না, স্ট্রেসের মধ্যেই থাকি।

।এই যে গুগল একেকটা অফিসের কালচার একটা পার্কের মত বানিয়ে ফেলেছে তার প্রধান কারণ কিন্তু এটাই। স্ট্যানফোর্ডের এক রিসার্চে এসেছিল-

‘STRESS is single handedly responsible for the lacking of productive output in any corporate environment.’

এখন আমাদের দেশের কথায় আসি। আমরা একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডে আছি এই মুহূর্তে। ৩০ বছর আগে সিঙ্গাপুর, ১৪ বছর আগে মালয়েশিয়া একই সময় পার করে আসছে। ট্রানজিশন পিরিয়ডের সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা যে যেভাবে সামাল দিবে তার উপর সেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

আজ থেকে ৯০ বছর আগেও সিঙ্গাপুর কলোনি ছিল ব্রিটিশদের, মুলত পোর্টের জন্য তখন গুরুত্ব পেতো। আজ সেই সিঙ্গাপুর এশিয়ার ফাইনান্সিয়াল হাব। আমরা যেসব কোম্পানিতে কাজ করতে লেগে থাকি তার অধিকাংশের এশিয়ান রিজিওনাল হেডকোয়ার্টার সিঙ্গাপুরে এখন। বাকিগুলা ভারতে। এসব একদিনে হয়নি। সময় লাগে, চেষ্টা লাগে। তার থেকেও বেশি লাগে সেটা হচ্ছে দক্ষ কর্মী। অন্যভাবে বললে – ‘ইফেক্টিভ এম্প্লয়িজ।’

কথা বলছিলাম বাংলাদেশের ট্রানজিশন নিয়ে। বাংলাদেশের অনেক কিছুই বিসময়কর। কিন্তু একটা জায়গায় সমস্যা আছে। আমাদের দেশে চাকরির গ্রোথ কম কিন্তু গ্র্যাজুয়েট সাপ্লাই অনেক বেশি। ফলে যেটা হয়ে গেছে অনেক কোম্পানি জেনেশুনেই তাদের কর্মীদের স্ট্রেসে রাখে কারণ তারা জানে মার্কেটে তার অপশন আছে। এটা তো গেলো কোম্পানির তরফ থেকে কাজের উপর স্ট্রেস।

আরও একটা স্ট্রেস আছে যেটা যারা চাকরি শুরু করে তারা অনেকেই ভুগে। আমরা বাইরে থেকে আমাদের চাকরি নিয়ে যেটা ভাবি অনেক সময়ই সেটা আসলে অন্যরকম হয়। কর্পোরেটের ব্র্যান্ড ইমেজ হচ্ছে চাকচিক্য। ভালো হোটেলে খাওয়া- দাওয়া, উচ্চ বেতন, বাইরে ট্যুর এসব সবাই জানে।

কিন্তু, চাকরি শুরুর পর দেখা যায় এগুলা একটা সময় অনেকের কাছেই ম্যাটার করে না। করার কথাও না। আমরা আসলে নিজেরাও জানি না আমরা কোনটা করতে চাই কারণ আমাদের এক্সপোজার অনেক কম। আমরা যা ঠিক করে রাখি তার পুরোটাই ঠিক হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্পোরেট লোকজনের এক্টিভিটি আর লাইফস্টাইল দেখে। এমন অবস্থা হলে তো সমস্যা।

যাই হোক, আমার মনে হয় প্রতিটা মানুষের উচিৎ নিজের স্ট্রেসকে সামাল দেয়া। কারণ এটা একবার লিমিট পার হয়ে গেলে দুইটা সমস্যা হয় –

১. নিজের ক্যাপাসিটি কমে যাবে। কর্পোরেট এমনি এমনি তো আর বেশি টাকা দিবে না। ক্যাপাসিটি কমে গেলে আপনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না। চাকরি থেকে বাদও পড়তে পারে।

২. ডিপ্রেশন আসতে বাধ্য একটা সময়। এটা ভয়াবহ জিনিস। বহু ট্যালেন্ট কে দেখছি এটার ফাঁদে পড়ে ঝরে পড়তে। আমিও এটার রোগী। ডিপ্রেশন কে যারা পাত্তা দেয় না তাদের সামনে অনেক ঝুঁকি থাকে। সেটার একটা বর ধাক্কা আসে প্রফেশনাল লাইফে।

আমি যেটা করি সকাল ৮ থেকে রাত ৯ বাইরেই থাকি। যাইতে আসতে ৩-৪ ঘণ্টা আর বাকিটা অফিসে। এর পর বাকি সময়টার বেশি সময় আমি নিজেকে দেই। কখনও ফরেন এফেয়ারস নিয়ে এনালাইসিস করি, টাইম ম্যাগাজিন পড়া হয়, ডিনারের পর কোনদিন বই (থ্রিলার/ ইতিহাস), কোনদিন সিনেমা।

এসব আমি নিজের জন্য করি, কাউকে দেখানোর জন্য না। কারণ এসব করলে আমার স্ট্রেস লেভেল কমে। আর বন্ধ পাইলে ঢাকার বাইরে যাই। আগে ফুডি ছিলাম, এটা ওটা ট্রাই করতাম। এখন এটা রেগুলার হয়ে গেছে কারন লাঞ্চ বাইরেই করা লাগে।

এই তো। মূল কথা হচ্ছে- স্ট্রেস থাকবেই। ওয়াল স্ট্রিটের লোকজনের স্ট্রেস আমাদের থেকে কয়েক গুন বেশি। যত উপরের লেভেল যাবেন, স্ট্রেস লেভেল তত বাড়বে। এক বছর আগে আমার যেই স্ট্রেস ছিল, এখন তার থেকে কয়েকগুন বেড়েছে। তো এখন থেকেই সবাই এটাকে সামলানো শিখি, কি বলেন?

https://www.mega888cuci.com