অপূর্ণতার কথা বললে অনেক কিছুই বলা যায়: মাহমুদউল্লাহ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে কাটিয়ে দিয়েছেন ১০ টি বছর। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেই মাইলফলকের উদযাপন করলেন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে।

ইনজুরির অবস্থা কী?

আজকে ফিজিও দেখলেন, বায়েজীদ পরীক্ষা করলেন; আশা করি কাল থেকে সাইক্লিং শুরু করবো। গত দুদিনের অবস্থা ভালো।

১০ বছরের মাইলফলকের অনুভূতি কী?

ভালো লাগছে। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ১০টা বছর পার করলাম। চেষ্টা করবো আরো বেশ কয়েক বছর যাতে পারফর্ম করে যেতে পারি।

মোট পাঁচজনের ক্যারিয়ার এখন ১০ বছর ছাড়িয়ে গেল। এই অভিজ্ঞ কম্বিনেশনটা কতটা জরুরী ছিল?

আমার কাছে মনে হয়ে, আমার কাছে মাশরাফি, সাকিব-তামিম-মুশফিকও ১০ বছর পার করেছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক, আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের। এখন দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই দায়িত্ব যাতে পালন করতে পারি, যে কয় বছর আরো খেলবে। ওরাও আশা করি অনেক দিন আরো খেলবে। কয়েকজনের অভিজ্ঞতায় আমাদের কম্বিনেশনটা এখন খুব ভালো।

যখন এসেছেন, আর এখন; আপনার খেলা কতটা বদলে গেছে; ফিটনেস-পারফর্ম..

মানসিকভাবে এখন আমি আগের চেয়ে গোছালো, ইতিবাচক এবং আক্রমণাত্মক। এই জিনিসটা আমাকে বেশি হেল্প করছে। আর ফিটনেস এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। তবে এটা ধরে রাখাও একটা গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো অপূর্ণতা আছে কী?

আলহামদুলিল্লাহ… আসলে যতো বছর ধরে খেলতে এতে তো অনেক উত্থান-পতন আছে, অপূর্ণতার কথা বললে অনেক কিছুই বলা যায়। এখন আমরা যেভাবে পারফর্ম করছি, এটা আরো কয়েক বছর করতে পারাটাই বড়। আমরা যখন শুরু করি, তখন ১০ নম্বরে ছিলাম। এখন চাই টপ ফোর বা থ্রি তে থাকতে চাই।

বাংলাদেশ দলে কোন জায়গায় থাকার স্বপ্ন আছে কী?

এখন খেলোয়াড় হিসেবে আছি। সেটা নিয়েই চিন্তা করছি। যেভাবে দলকে সেবা দেয়া যায়, সেটা নিয়েই চিন্তা। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা সময়ই বলে দিবে।

বিশ্বকাপ কখনো জিততে পারবেন কী?

এটা অনেক সময়ের ব্যাপার। আমি যেটা আমি মনে করি, ২০১৮ সালটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বছর আমাদেরকে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের আত্মবিশ্বাস দিবে। সুতরাং বিশ্বকাপের আগের বছরটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আগে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

এভাবে চিন্তা করি না। আমি আসলে গোল সেট করতে পছন্দ করি না। ছোট ছোট স্টেপ নিয়ে এগোতে পছন্দ করি। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই।

ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি, নাকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেঞ্চুরি; কোনটা বেশি স্মরণীয়?

সবগুলোই স্মরণীয়। আমার মনে হয় বাংলাদেশ দলের হয়ে যখন যেখানে যেভাবে অবদান রাখি না কেনো, সবই সমানভাবে স্মরণীয়।

আপনাকে নানা সময়ে কথা হয়, ১০ বছর পার করে আসার পর ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জিং। কখনোই স্ট্যাবল হতে পারবেন না। যতো দিন যাবে, আপনাকে নিয়ে প্রতিটি টিম ততোই ওয়ার্কআউট করবে। আমি মানসিকভাবে এখন অনেক গোছালো। এটা তাই বুঝতে পারি যে, আমার কোথায় শক্তি আছে। এগুলো নিয়ে সব সময় কাজ করি। প্রতিনিয়তই কাজ করতে হবে। আমি জানি কষ্টের কোনো বিকল্প নেই। এটা ধরে রাখাই জরুরি। এখনো বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলছি। ১০ বছরে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, সেটা জাতীয় দলে কাজে লাগানোটাই বড় ব্যাপার।

ক্রিকেট ছেড়ে দিলে জীবন কেমন হবে, সেটা নিয়ে ভাবেন?

আসলে ওইভাবে চিন্তা করিনি এখনো। আমার মনে হয় ফিটনেসটা গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা আছে, নিজেকে ফিট রাখার; ফিজিক্যালি এবং মানসিকভাবে। নানা রকম বাধা থাকবে তা কাটিয়ে উঠা জরুরি।

অফস্পিনিং অলরাউন্ডারদের প্রতিযোগিতাটা উপভোগ করেন?

এটা দলের জন্য ইতিবাচক। এটা আমাদের দলকে উন্নত করতে। হেলদি কম্পিটিশনটা জরুরি। এটা সব সময়ই ভালো। এটা যতো বাড়বে, ততো ভালো।

https://www.mega888cuci.com