অদ্ভুত সেই ছেলেটি আবার শুরু করলো হাঁটা

২০১৭

জানুয়ারি

হেলথ চেক আপ এর জন্য ব্যাংকক যাই। ডাক্তার ব্লাড টেস্ট করার পর বলে আমার কোলেস্টেরোল লেভেল অনেক হাই। অষুধ দেয়।

ফেব্রুয়ারি

শরীর খারাপের দিকে যায়। ঘুম বন্ধ। ভয়ঙ্কর সব দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করি। সারাদিন মনে হয় একটা ঘোরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি! পেটেও ব্যাথা বাড়তে থাকে কোন এক কারণে।

মার্চ

অবস্থার আরো অবনতি হয়। হেলুসিনেশন শুরু হয়। সিঙ্গাপুরে যাই সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে। সিঙ্গাপুরের ডাক্তার সমস্যাটা বের করে। ব্যাঙ্ককের ডাক্তার কোলেস্টেরোলের অষূধ দিতে গিয়ে ‘ভুলে’ এপিল্পসির অষূধ দেয়! আমি গত দুমাস এপিলেপ্সির অশুধ খেয়ে দিন কাটিয়েছি! ভয়ঙ্কর ব্যাপার! সাথে সাথে অষূধ বন্ধ করি। ব্যাংকক এ যাই আবার। স্পাইন এর ডাক্তার বলে আমার সারভিকাল স্পাইন এর অবস্থা অনেক খারাপ। যেকনো সময় প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে পুরো শরীর! সাথে সাথে সার্জারি করাই। ডাক্তার আমার স্পাইনে ৩ টা স্ক্র্যু বসায়।

এপ্রিল

পেটে প্রচণ্ড ব্যাথা। কিছু খেতে পারিনা। বমি হয়ে যায়। ব্যাংককের ডাক্তার বলে এটা এসিফিউগাল ক্যানসারের পূর্বাভাস! আরেকটা সার্জারি হয়। স্টমাক পুরোপুরি ভাবে কেটে ফেলে দেয়া হয়।

মে

লোয়ার ব্যাক এ অসম্ভব পেইন। হাঁটাচলা করতে পারিনা ঠিকমত। সুতরাং আবার সার্জারি। ডাক্তার এবার আরও চারটা স্ক্র্যু বসায় স্পাইনে। সর্বমোট এখন আমার শরীরে ৭ টা স্ক্র্যু!

জুন

ব্যাথার সাথে বসবাস।

জুলাই

কোন এক কারণে ব্যাথা কমে না। বরং একটু বেশি ব্যাথা অনুভব করি। থুতনিতে একটা টিউমার হয়।

অগাস্ট

থুতনির টিউমার অপসারণের জন্য সার্জারিতে ঢুকি ব্যাংককে। ডে সার্জারি। বিকালে হসপিটাল থেকে বিদায় নেই। রাস্তা পার হবার সময় একটা গাড়ি ধাক্কা দেয়। জ্ঞান হারাই। পাশের হসপিটালে ১১ ঘণ্টা ব্যাপী ৯ টা সার্জারি হয় আমার।

সেপ্টেম্বর

আবার স্পাইনে সার্জারি! নিচের চারটা স্ক্র্যু খুলে ডাক্তার আরও ৮ টা স্ক্র্যু বসায়। সর্বমোট শরীরে এখন ওরা এগারো জন! সার্জারি চলাকালীন সমস্যা হয়। অ্যানাস্থেশিয়ার ভুল ডোসেজের কারণে আমার হার্ট বন্ধ হয়ে যায়। তারা আমাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনে। সার্জারির পর আইসিইউ তে নিয়ে যাবার ১ ঘণ্টার মধ্যে আমার লাং কলাপ্স করে। পুনরায় মরতে মরতে বেঁচে যাই।

অক্টোবর

অসম্ভব কষ্ট এবং ব্যাথায় দিন কাটাই।

নভেম্বর

ব্যাথা দিন দিন বাড়তে থাকে। পেইনকিলার ইনজেকশন নিতে হয় একদিন পর পর। ব্যাংককে ৪ টা ডাক্তার দেখাই কিন্তু পেইন কমে না। এর মাঝে সিডনিতে শো করে আসি।

ডিসেম্বর

সিঙ্গাপুরে যাই। সিঙ্গাপুরের ডাক্তার আমার সব ওষুধ চেঞ্জ করে দেয়। ব্যাথা কমা শুরু হয়। কনসার্ট করার জন্য প্রস্তুতি নেই। আবার রেকর্ডিং শুরু করি।

২০১৮, তুমি আসো। আমি রেডি!

__________

‘অর্থহীন’-এর ভোকালিস্ট, বেজ গিটারিস্ট ও ব্যান্ড তারকা বেজ বাবা সুমন খ্যাত সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন এই অভিজ্ঞতার কথা। অলিগলি.কমের পাঠকদের জন্য লেখার পুরোটা হুবহু দেওয়া হল।

https://www.mega888cuci.com