জিরো: একটি স্মরণীয় জগাখিচুড়ি

অন্য রিভিউ গুলোর মতন ছবির ভাল মন্দ নিয়ে কাটা ছেঁড়া করতে চাইনা। করার কিছু নেইও। কারন ছবিটা জিরো। যেমন নাম, তেমন কাম! একটু ‘খার’ খেয়েই লিখছি। ছোটো করে লিখছি।

গল্পটা বাউয়া সিং (শাহরুখ) নামে এক ৩৮ বছরের বামন যে বিয়ের জন্য মেয়ে পাচ্ছেনা তার গল্প যে নিজের বাবাকে দোষারোপ করে নিজের বামন হওয়ার জন্য। বাবার স্পার্ম নাকি ছোটো ছিলো। ট্রেলারের এই ডায়ালগটা দেখেই মোটামুটি আন্দাজ করেছিলাম কতো ফালতু হতে পারে ছবিটা। সেই বাউয়া যে মেয়েই পাচ্ছিলো না, সে হঠাত পেয়ে যায় এক জোড়া মেয়ে।

একজন নাসার সাইন্টিস্ট, প্রতিবন্ধী, আফিয়া (আনুশকা) আর একজন সুপার ডুপার হিরোইন, ববিতা কুমারী (ক্যাটরিনা)। এই লেবেলের ত্রিকোন প্রেম বাপের জন্মে ভাবিনি হতে পারে। ছবির প্রথম ভাগে বামুন, হুইল চেয়ার আর গ্ল্যামারের অবাস্তব মিশ্রন। আর দ্বিতীয় ভাগে পরিচালক আনন্দ এল রাই দেখালেন বামন হয়েও চাঁদের দিকে, থুড়ি মঙ্গলগ্রহের দিকে হাত বাড়ানো যায়। হ্যাঁ! ছবি পৃথিবীতে শুরু, মঙ্গলে শেষ! তাই সব মিলিয়ে একটি স্মরণীয় জগাখিচুড়ি।

শাহরুখ খানকে কোনোভাবেই দোষ দেওয়া যাবে না! তিনি জিরোকে প্রাণবন্ত করতে নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন (যদিও ওর কিছুই নেই বলে আমার মনে হয় দেওয়ার মত, পার্সোনালই)। সিনেমায় বলিউড বাদশাহ’র স্টারডম জিতলেও জিরো আসলে হেরেই গিয়েছে। ছবিতে শাহরুখ তাঁর সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ঠিকই, তবে ছবিতে তাঁকে যেভাবে আমরা পেয়েছি তা আমরা হয়ত আশা করিনি।

আনুশকা কে অনেকটা স্টিফেন হওকিং এর মত লাগলো। বড়ো বেশি তোতলাচ্ছে। সেরিব্রাল পালসির মত একটা রোগ এর চরিত্রায়ন নিঃসন্দেহে কঠিন এবং সেই প্রচেষ্টা আনুশকা অত্যন্ত অসফল ভাবে করেছেন।

বরং আমার ব্যক্তিগত ভাবে ক্যাটরিনা কে ভালো লেগেছে। ওর যতটুকু ছিলো, উতরে দিয়েছে। আর এটাই হচ্ছে একজন সো কল্ড সুপারস্টার পরিচালনা আর চিত্রনাট্যে যখন ব্যর্থ ভাবে নাক গলায় তখন কি হয় তার উদাহরণ। আনুশকার মতন ভালো অভিনেত্রী মান পায়না, আর ক্যাটরিনা আইটেম নাম্বার নিয়ে বেড়িয়ে যায়।

গল্পের একটা বিচ্ছিরি দিক আমার লেগেছে ছেঁদো জোকস। সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানো। তনু ওয়েডস মনুর স্ক্রিপ্টে অনেক উন্নত হিউমার ছিলো। আর এখানে হিমাংশু শর্মা এক্কেবারে ছড়িয়েছেন। একটা খটকা লাগছে, যে ভদ্রলোক মানে আানন্দ এল রায় ‘রানঝানা’ বানিয়েছে, সে কি করে ‘জিরো’ বানালো! চিত্রনাট্য আর গল্প দিশা হারালে সিনেমার যা হয়, সেই একই অসুখে ভুগেছে শাহরুখের এই বছরের বহু প্রত্যাশিত চলচ্চিত্র জিরো।

একটা মজার ব্যাপার আছে। একটা সিনে শ্রীদেবী, করিশমা কাপুর, কাজল, রানী মুখার্জী, জুহি চাওলা, দীপিকা পাডুকোন এবং আলিয়া ভাট সহ আরো অনেক কে হাজির করেছেন কিং খান। ক্যামিও। সালমান তো ছিলই। বাড়াবাড়ি লেগেছে।

একটাই ভালো। ‘মেরে নাম তু’। অজয়-অতুল আমার ধীরে ধীরে ফেভারিট হয়ে উঠছে। গানটা টাকা কামাবে এবং চার্টবাস্টারে কিছু দিন থাকবে বলেই আমার ধারণা।

শাহরুখের ফ্যানেরা তো দেখবেনই। যারা ফ্যান নন এবং ভাবছিলেন দেখবেন, তারা আমার রিভিউ পরবেন না প্লিজ। গুগুল করে নিন। মার্কেটে আরো কিছু রিভিউ আছে। মোটামুটি অনেক গুলোই জিরোর উপরেই রেটিং দিয়েছে! এক, দেড়, দুই, আড়াই, তিনও আছে!

শেষে একটাই কথা। সিনেমাটায় দু’তিনটে বিরতি থাকলে ভালো হত। মাথাটা খোলা যেত। সব মিলিয়ে বেঁটে বামুন মঙ্গল ছুঁয়েছে, জিরো মন ছোঁয়নি। দশে চার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।