জাফরুল্লাহ চৌধুরী: একটি সাহসের নাম

ঢাকা মেডিক্যালে তার জন্য আলাদা কেবিনের ব্যবস্থা ছিল। তিনি যাননি, নিজের তৈরি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার চিকিৎসক, সেবিকারা আমাকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে বলেই আজ আমি কথা বলছি। আমি চাই আমি যে সুবিধা পেয়েছি, একই সুবিধা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিক পাক।

অসুস্থতা অবস্থায় তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন, বিভিন্ন সময় তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। তিনি সুস্থ হবার পর খোঁজ নিয়েছেন তাকে কতো টাকার অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। নিজের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছেন তবুও তিনি টাকার হিসেব করছেন!

হিসেব করে তিনি বের করেছেন অসুস্থতার সময় তাকে পাঁচশ টাকার মতো অক্সিজেন দেয়া হয়েছিল।

এতে এইটাও বোঝা যায় অক্সিজেনের মূল্য তেমন বেশী নয়। যদিও বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেনের নল লাগালেই লাখ টাকার উপর বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি অসুস্থ হবার পর অনেকেই তাকে চিকিৎসা নিতে বিদেশে যেতে বলছেন, সুযোগ থাকা শর্তেও তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাননি।

তিনি বলেন, বিদেশে তো আমি যাবো না। আমার সাধারন মানুষ যে চিকিৎসা পাবে না সে চিকিৎসা আমি নিব না।

তিনি মনে করেন, চিকিৎসা হবে সুলভ, কম খরচ, জবাবদিহিতামূলক।

নিজেকে তিনি বলেন এই মুহুর্তে সবচাইতে ভাগ্যবান রোগী। সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুই নেত্রী নিয়মিত তার খোঁজ নিয়েছেন, একজন তার চিকিৎসার জন্য আলাদা কেবিন দিয়েছিলেন (তিনি যাননি) অন্যজন তার জন্য ঝুড়িভর্তি ফল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি মনে করেন, প্রধান দুই নেত্রীর মধ্যে ভালোবাসা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। রাজনৈতিক সাহসটা ফিরে পেতে হবে।

তার মতে, যৌক্তিক চিকিৎসা ব্যয়বহুল না। দুর্নীতিটা ব্যয়বহুল। চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাসটা ব্যয়বহুল।

বেসরকারি হাসপাতালে যেখানে করোনা রোগীদের থেকে খরচ ত্রিশ চল্লিশ এক লাখ হাজার যে যেভাবে পারছে নিচ্ছে, সেখানে তিনি গণস্বাস্থ্যে করোনা রোগীদের জন্য একটা ওয়ার্ড করছেন যেখানে অক্সিজেনের সুব্দিহা থাকবে। দৈনিক খরচ হবে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা।

নিজে করোনা রোগী ছিলেন, চিকিৎসা পেয়ে এখন সুস্থ। তিনি বলেন করোনা হলেই সবার আইসিইউ লাগে না। দরকার স্বাভাবিক চিকিৎসা। চিকিৎসক সেবিকাদের রোগীদের নিজের আত্মীয় মনে করে চিক্তিসা দিতে হবে। বাংলাদেশে সেটা হচ্ছে না।

তার মতে, দেশের সবচেয়ে ভালো হাসপাতাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ।

নিজে মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক ছিলেন, সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন। তিনি মনে প্রানে বিশ্বাস করেন একজন যোদ্ধা কখনো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাতে পারে না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বয়স ৭৯ বছর, ঝুঁকি নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, কথা বলতে কষ্ট হয়, তবুও হাসপাতালের কেবিনে টেবিল চেয়ারে বসে কাজ করে যাচ্ছেন। বলছেন এখনও তার অনেক কাজ করা বাকি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।