তারুণ্যের সুবাতাস ছড়ানো ঢাকা লিগ

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সকল তারকাদের আবির্ভাব ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের মাধ্যমে। একসময় ঘরোয়া ক্রিকেট বলতেই বুঝতে হতো ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগকেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় জাতীয় লিগ, বিপিএল নতুন পালক যোগ করেছে কিন্তু ঢাকা লিগ এতটুকু মর্যাদা হারায়নি।

যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপে দর্শক সংখ্যা কমেছে। তারপরও নির্বাচকদের, দর্শকদের বিশেষ নজর থাকে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের দিকে। এখন দেখে নেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সদ্য দেশ হওয়া আসরের ব্যাটে-বলে নজরকাড়া উদীয়মান নক্ষত্রদের পারফরমেন্স। এখানে যারা জাতীয় দলের জার্সি গাঁয়ে কখনো বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করে নাই তাদের পারফরমেন্স তুলে ধরা হলো।

  • নাঈম হাসান

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ইনজুরিতে পড়ে খেলা হয়নি টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। সাকিবের ইনজুরিতে বাংলাদেশ টেস্ট দলে ডাক পড়ে নাঈম হাসানের। নিউজিল্যান্ডে অনুর্ধ্ব  ১৯ বিশ্বকাপ খেলতে থাকা বাংলাদেশ দল থেকে উড়িয়ে আনা হয় নাঈমকে, যদিও টেস্ট একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর।

লম্বা লিকলিকে গড়নের নাঈমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বোলিং এ টার্ন ও লাইন-লেন্থ ছিলো চোখে পড়ার মত। গাজী গ্রুপের হয়ে চলতি প্রিমিয়ার লিগে নাঈমের সংগ্রহীত উইকেট সংখ্যা ২৩ এবং প্রতি ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৪.৭। তার পারফরমেন্স জানান দিচ্ছে লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়ার জন্যই নাঈমের আগমন।

  • মাহিদুল ইসলাম

চলতি বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব  ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন মাহিদুল ইসলাম। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই মাহিদুলের ব্যাটে ছিলো রানখরা। কিন্তু তার ব্যাট কথা বলতে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ২০১৭-১৮ তে শুরু থেকেই ফর্মে ছিলো খেলাঘর সমাজ কল্যানে খেলা এই তরুণ।

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক রান মাহিদুলের, ১৬ ম্যাচে ৪০.৬০ গড়ে ৬০৯ রান এবং সবোর্চ্চ ২৮ টি ডিসমিসাল এই তরুণের। মাহিদুলের গাজী গ্রুপের বিপক্ষে ৮৫ এবং অগ্রনী ব্যাংকের বিপক্ষে ১১৫ অপরাজিত দুটি ইনিংস খেলাঘরকে সুপার লিগে খেলতে সাহায্য করেছে।

  • তৌহিদ হৃদয়

১৭ বছরের তরুন তৌহিদ হৃদয় নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব  ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে নজর কেড়েছেন, সেই পারফরমেন্স ধরে রেখেছেন চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। প্রিমিয়ার লিগে নবাগত সাইনপুকুরের হয়ে পুরো লিগ জুড়েই রানের মধ্যে ছিলেন এই ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসমান। সাইনপুকুরের হয়ে ১১ ম্যাচে ৫৮.২৫ গড়ে তৌহিদ হৃদয় করেছে ৪৬৬ রান, যার মধ্যে রয়েছে ১ টি সেঞ্চুরি ও ৪টি হাফ-সেঞ্চুরি, স্ট্রাইক রেটও ছিলো সমীহ করার মত (৯০.৮৩)।

  • কাজী অনিক

বাঁহাতি পেস বোলার কাজী অনিক প্রথম বারের বিপিএল এ অংশ নিয়ে নজর কেড়ে ছিলো প্রথম ম্যাচেই ৪ উইকেট পেয়ে। অনুর্ধ্ব  ১৯ বিশ্বকাপেও তার বাঁহাতি পেস মুগ্ধ করেছিলো ক্রিকেট প্রেমীদের। লিগ মৌসুমে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ১১ ম্যাচে ১৯.১০ গড়ে পেয়েছেন ২৮ উইকেট, যার মধ্যে ৫ বা ততধিক উইকেট ২ বার। পুরো প্রিমিয়ার লিগ জুড়েই বাঁহাতি এই পেসার আলো ছড়িয়েছেন।

  • রবিউল হক

কাজী অনিকের পাশাপাশি রবিউল হক পুরো প্রিমিয়ার লিগ জুড়েই ধারাবাহিক পারফর্ম করে গেছেন। ১৬.৬৭ গড়ে ডানহাতি পেসার রবিউল পেয়েছেন ২৭ উইকেট এবং ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৪.৪৭ দিয়েছেন শেখ জামালের হয়ে খেলা এই তরুন। শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকের দিক দিয়ে রবিউলের অবস্থান ছয়ে।

  • মোহাম্মদ নাইম

অনুর্ধ্ব ১৯ দলের আরেকজন ব্যাটসম্যান তার প্রিমিয়ার লিগের পারফরমেন্স দিয়ে দৃষ্টি কেড়েছেন। ১২ ম্যাচে ৪৬.৩৩ গড়ে ৫৫৬ রান করা নাইম জায়গা করে নিয়েছেন রান সংগ্রহের দিক দিয়ে শীর্ষ দশে। লিজেন্ড অফ রূপগঞ্জের হয়ে খেলা বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান নাইম গ্রাউন্ডে শট খেলতে পারদর্শী। রূপগঞ্জের কোচ মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু মোহাম্মদ নাইমকে নিয়ে আশাবাদী, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নাইম সিনিয়র দলের দরজায় করা নাড়তে পারবে বলে তার আশাবাদ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।