সুপারহিট এই তামিল থ্রিলারগুলো না দেখলেই নয়!

এমনিতেই দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিগুলো বিশেষ করে তামিল ও মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রি থ্রিলার জননার মুভি তৈরীতে বেশ সিদ্ধহস্ত। থ্রিলার মুভির জন্য সর্ব ভারতীয়দের মধ্যে এদের আলাদা সুনাম ও দক্ষতা রয়েছে। সিনেমা প্রেমিকদের মধ্যেও তাই সাউথ ইন্ডিয়ার থ্রিলারের অন্যরকম কদর রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মালায়লাম থ্রিলার সিনেমার ভক্ত। তবে বেশ কিছু তামিল থ্রিলারও আমার ভালো লাগার জায়গায় স্থান পেয়েছে।

২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ – বিগত তিনটি বছর তামিল ইন্ডাষ্ট্রি উপহার দিয়েছে তিনটি মাস্টারপিস থ্রিলার মুভি। ধারে-ভারে দূর্দান্ত তিনটি থ্রিলার মুভি। সিনেমাগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে দেখেছেনও, যারা এখনও দেখেন নি, দেখে ফেলতে পারেন।

  • ধুরুভাঙ্গাল পাথিনারু (২০১৬)

২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই তামিল রহস্য-থ্রিলার মুভিটি আমার পছন্দের তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে। প্রায় পৌনে দু’ঘন্টার এই মুভিটি পুরোটাই থ্রিলিং। শুরুর দিকে কিছুটা সময় একটু স্লথ মনে হলেও পরে এক বসায় শেষ করার মতো একটা মুভি। ‘নিয়তি ব্যক্তির কর্মফলের উপর নির্ভরশীল’ – এই অপ্তবাক্যটাই যেনো ছবিটাতে ফুটে উঠেছে।

সাবেক পুলিশ অফিসার দীপককে ঘিরে সিনেমার প্লট। চাকরিজীবন শেষে পাঁচ বছর ধরে তিনি ভারতের উটিতে বসবাস করছে। পুলিশে যোগ দিতে ইচ্ছুক এক যুবক দীপকের সাথে একদিন তাঁর অবকাশযাপন কেন্দ্রে দেখা করতে আসে। প্রসঙ্গক্রমে সেই যুবকের কাছে দীপক তাঁর কর্মজীবনের শেষ কেসটার ঘটনা বলতে থাকে। যেই ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করে সে এখন অবসরে রয়েছে। আর এভাবেই মুভিতে বিধৃত হতে থাকে দারুণ টুইস্টময় এক গল্প।

এই মুভির ক্লাইমেক্স দর্শকদের হতভম্ব করে দেবে এ বিষয়ে ষোল আনা নিশ্চয়তা দেওয়া যেতে পারে। খু্ব কম মুভিতেই এরকম অপ্রত্যাশিত ক্লাইমেক্স দেখতে পারা যায়।

মুভিটির লিড রোলে অর্থাৎ দীপক চরিত্রে নিস্পৃহ অভিব্যক্তির মনকাড়া অভিনয়ে করেছেন তামিল নায়ক রহমান। পরিচালক কার্তিক নারেন মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার আগেই নিজের লেখা চিত্রনাট্ট্যে নিজের প্রথম মুভি হিসেবে ‘ডি-১৬’ ডিরেকশান করেন। মুভিটি দেখার পর অনেকের মতো আমিও এই তথ্যে অবাক হয়েছিলাম। এই যু্বক তামিল ইন্ডাষ্ট্রিতে লম্বা রেসের ঘোড়া এটুকু বলাই যায়। আইএমডিবি রেটিং ৮.৫!

  • বিক্রম ভেদা (২০১৭)

২০১৭ সালের এই ক্রাইম-থ্রিলার তামিল মুভিটিকে আপনি পুলিশি থ্রিলার অথবা গ্যাংস্টার থ্রিলারও বলতে পারেন। পুস্কার-গায়েত্রী দস্পতি পরিচালিত অনবদ্য একটি মুভি হলো ‘বিক্রম-ভেদা’। মূল দুই চরিত্রে মাধাবন ও বিজয় সেথুপথির অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটে যেতে বাধ্য। বিশেষ করে ‘ভেদা’ চরিত্রে ভিজয় দারুণ অভিনয় করেছেন।

মূলত পুলিশকে আমরা জানি ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অপরাধের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে। বিপরীতে অপরাধ জগতকে অন্ধকার ও অন্যায়ের জগত হিসেবেই জানি। অথচ এই দুইটা পক্ষকে যদি একই সমীকরনে ও এক কাতারে এনে দেখা যায় তখন কেমন হবে? আর এই দৃষ্টিকোণেই মুভিটার প্লট তৈরী হয়েছে। পৌরাণিক গল্প বিক্রম ও বেতালের মতো এই মুভিতে ক্রিমিনাল ভেদা কর্তৃক পুলিশ বিক্রমকে নিজ জীবনের গল্প শোনাতে প্ররোচিত করার প্রেজেন্টেশনটাও মুভির আরেকটা বিশেষ দিক।

মুভির কাহিনী এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট পুলিশ অফিসার বিক্রম ও গ্যাংস্টার ভেদাকে নিয়ে নির্মিত। ভেদা গ্যাং-এর আস্তানার খোঁজ পাওয়ায় পুলিশ সেই আস্তানায় আক্রমণ করে এবং এই অভিযানে ভেদার ভাইসহ গ্যাংয়ের অনেক লোক এনকাউন্টারে মারা যায়। এক পর্যায়ে ভেধা নিজেই আত্মসমর্পন করে ও জামিনে ছাড়াও পায়। মুভির গল্পও নতুন মোড় নেয়। দর্শক বুঝে উঠতে পারেনা তারা কার পক্ষ নেবে? বিক্রম না ভেদার?

এই মুভির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো গতি আর একের পর এক অনন্য টুইস্ট। সিনেমার সংলাপগুলোও অনবদ্য। আইএমডিবি রেটিং ৮.৭!

  • রাতসানান (২০১৮)

২০১৮ সালে ভারতের সকল মুভি ইন্ডাষ্ট্রির মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা। আমার দেখা সবচেয়ে প্রিয় তামিল ছবির এটি। ক্রাইম, অ্যাকশন ও থ্রিলার জনরার মুভিটি দূর্দান্ত নৈপূন্যে পরিচালনা করেছেন রামকুমার।

স্ক্রিন-প্লে ও সিনেমাটোগ্রাফি এক কথায় মনোমুগ্ধকর। মুভির দ্বিতীয় অংশ এতোটাই টানটান উত্তেজনাময় যে দর্শকদের পর্দা থেকে চোখ ফেরানোই দায় হয়ে পড়ে। শেষের দিকের থ্রিল ও অ্যাকশন অসাধারণ।

মুভির গল্প এমন এক যুবককে ঘিরে যে কিনা এক সময় থ্রিলার মুভির ডিরেক্টর হবার স্বপ্ন দেখতো। এই কারনে সে অনেক সাইকো কিলিং ভিত্তিক তথ্যও অনুসন্ধান করে। কিন্তু তাঁর স্ক্রিপ্ট নিয়ে কোনোও প্রযোজক মুভি নির্মানে রাজি না হওয়ায় হতাশ যুবক পারিবারিক চাপে পুলিশের চাকুরিকে যোগ দেয়। এ সময় শহরে একের পর এক স্কুল ছাত্রী নৃশংসভাবে খুনের শিকার হয়। পুলিশ অফিসার তার সিনেমা নির্মান প্রচেষ্টার সময়কার অভিজ্ঞতার স্টাডিতে এইসব খুনের সাথে জড়িত সাইকো কিলারের অনুসন্ধানে নেমে পড়ে।

নায়ক অরুণ চরিত্রে বিষ্ণু বিশাল চমৎকার অভিনয় করেছেন। ক্রিস্টোফারের চরিত্রে সারাভানান দূর্দান্ত ছিলেন। আইএমডিবি রেটিং ৮.৮!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।