বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড লোগোর গোপন অর্থ

বিশ্বের বিখ্যাত সব লোগোগুলোর বাইরের রূপ দেখেই সবাই এতদিন কমবেশি মুগ্ধ হয়েছেন, কিন্তু কখনো এই লোগোগুলোর অন্দর রহস্য জেনেছেন কি? আদতে কিন্তু বাইরের সরল সৌন্দর্যের চেয়ে অনেক বেশি কিছু বহন করতেই লোগোগুলো ডিজাইন করা হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে লোগোগুলোর প্রতিটি লাইন, বক্ররেখা এবং রং-য়েরও অর্থ থাকে।

ব্রাইটসাইড সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত ১৭ টি ব্র্যান্ডের লোগোর ভেতরের অর্থ খুঁজে বের করার কাজ করেছে। মিলিয়ে নিন তো, আপনিও এই অর্থগুলো ধরতে পেরেছিলেন কিনা:

১৭. হুন্দাই

অনেকেই মনে করেন, দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ‘হুন্দাই’য়ের লোগো কেবল তার নামের প্রথম অক্ষর। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ‘এইচ’ অক্ষরটি দুটি মানুষের (একটি ভোক্তা এবং অপরটি কোম্পানির প্রতিনিধি) করমর্দনের দিকে ইঙ্গিত করে।

১৬. অ্যাডিডাস

অ্যাডিডাসের নাম, এর প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাডলফ ডাসলার এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। কোম্পানির লোগো সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু সবসময়ই তিনটি দাগ এর লোগোতে বর্তমান ছিলো। বর্তমান লোগোতে তিনটি স্ট্রাইপ একটি কোণ করে রয়েছে যা একত্রে ত্রিভুজ গঠন করে। মূলত এটি একটি পর্বতকে নির্দেশ করছে, যা আবার বাধাকে প্রতিনিধিত্ব করছে, যে বাধা সমস্ত এথলেটদের পেরোতে হয়।

১৫. অ্যাপল

ডিজাইনার রব ইয়ানভ, যিনি বিশ্ববিখ্যাত অ্যাপল কোম্পানির লোগো তৈরি করেছেন, তিনি এই লোগোর পেছনের গল্প ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘আমি এক ব্যাগ ভর্তি আপেল কিনেছি, তাদের একটি বাটিতে রেখেছি এবং এক সপ্তাহ ধরে তাদের এঁকেছি, তারপর তার মাঝে থেকে সহজ কিছু বের করে আনার চেষ্টা করেছি। নিরীক্ষার অংশ হিসেবেই, আপেলে একটি কামড় (বাইট) বসাই এবং সম্পূর্ণ কাকতালীয়ভাবে আমি অনুভব করি, কামড় (bite) কম্পিউটারের ‘বাইট’ (byte) এর মতোই শোনাচ্ছে।’

১৪. সোনি ভায়ো

সোনি ভায়ো এর লোগোটির প্রথম দুটি অক্ষর একটি তরঙ্গ তৈরি করে, যা একটি এনালগ সংকেত উপস্থাপন করে, আবার শেষ দুটি সংখ্যা ১ এবং ০ এর অনুরূপ – যা কিনা একটি ডিজিটাল সংকেতের ইঙ্গিতবহ।

১৩. অ্যামাজন

প্রথম দেখায়, অ্যামাজন এর লোগোতে বিশেষ কিছু নেই, তা মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই লোগো কোম্পানির দর্শনের সাথে মিল রেখে ডিজাইন করা হয়েছিল। কমলা রঙের তীর একটি হাসি সদৃশ, যা বোঝায়, কোম্পানীটি তার গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে চায়। তীরটি অক্ষর ‘এ’ এবং ‘জেড’ এর মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছে, যা কোম্পানিটি ‘এ’ হতে ‘জেড’-এর মাঝে কল্পনাযোগ্য সকল পণ্য বিক্রয় করে, তার ইশারাই বহন করে।

১২. বাস্কিন-রবিনস

লোগোটির ‘বিআর’ অংশের গোলাপী রঙের এলাকা ইংরেজিতে ‘৩১’ তৈরি করেছে, যা আইসক্রিম কোম্পানিটির বিক্রি করা মোট ফ্লেভার সংখ্যাকে নির্দেশ করে।

১১. টয়োটা

অনেকেই জাপানি গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টয়োটা-য়ের লোগোকে একজন রাখালবালক যিনি মাথায় একটি অপরিবর্তনীয় টুপি পরে রয়েছেন, তার সাথে তুলনা করেছেন। আসলে এটি একটি সুতা একটি সুইয়ের চোখের ভেতর দিয়ে চলে গিয়েছে তার দিকে ইঙ্গিত করে। যা কোম্পানির অতীত ইতিহাস নির্দেশ করে, কেননা এক সময় তারা বয়ন মেশিন উৎপাদন করতো। একই সাথে, লোগোটির প্রতিটি অংশ কোম্পানির নামের পুরোটাই প্রদর্শন করে।

১০. কন্টিনেন্টাল

গাড়ির চাকা তৈরির জন্য বিখ্যাত, কন্টিনেন্টালের লোগোর প্রথম দুটি অক্ষর একটি অটোমোবাইলের চাকাকে তুলে ধরে।

৯. ফর্মুলা ওয়ান

যদি আপনি সূক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফর্মুলা ওয়ান লোগোর ‘এফ’ অক্ষর এবং লাল রেখার মধ্যে সাদা অবস্থানে তাকান, তাহলে আপনি সেখানে ‘ওয়ান’ মুদ্রিত দেখতে পাবেন। আবার, লোগোটির লাল স্ট্রাইপগুলো ফর্মুলা ওয়ান গাড়িগুলোর গতির চিত্রভিত্তিক উপস্থাপন করে।

৮. পিন্টারেস্ট

জনপ্রিয় ইন্টারনেট সাইট পিন্টারেস্টকে লোকেরা নেটজুড়ে চিত্র সংগ্রহ করতে এবং তাদের অনলাইন নোটিস বোর্ডে তা আটকে রাখতে ব্যবহার করে। পিন্টারেস্টের লোগোতে ভালোভাবে তাকালে দেখা যায়, তাদের লোগোর ‘পি’ অক্ষরে একটি লুকানো পিনের ছবি রয়েছে।

৭. বিটস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অডিও সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠান, বিটস যে লোগো ব্যবহার করে, তাতে ‘বি’ অক্ষরটিকে কানে হেডফোন লাগানো ব্যক্তির মত দেখায়।

৬. টবলেরন

সুইজারল্যান্ডের বার্নে অবস্থিত বিখ্যাত চকোলেট প্রস্তুতকারী কোম্পানী টোবালারন, তাদের লোগোতে একটি ভাল্লুকের সিলুয়েট অন্তর্ভুক্ত করেছে, কেননা বার্নকে কেউ কেউ ‘ভাল্লুকের শহর’ বলে থাকেন।

৫. বিএমডব্লিউ

প্রায়শই অনুমান করা হয় যে বিএমডব্লিউ লোগোটির কেন্দ্রীয় অংশ বিমানের ঘূর্ণায়মান ব্লেডকে নির্দেশ করে, যা কোম্পানির প্রারম্ভিক ইতিহাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু আদতে এটি কেবল বায়ার্নের পতাকার একটি অংশ- জার্মানির এখানেই যে কোম্পানিটির শেকড় পোঁতা।

৪. এলজি

দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারক কোম্পানি এলজি’র লোগোটি একজন ব্যক্তির মুখের একটি স্টাইলাইজড চিত্র। কোম্পানির মতে, এটি ‘এলজি’র গ্রাহকদের সঙ্গে সাধারণ মানব সম্পর্ক বজায় রাখার উচ্চাকাঙ্খাকে বহন করে।

৩. এভারনোট

দীর্ঘদিন স্মৃতি ধরে রাখার জন্য হাতি সুপরিচিত, একইসাথে চেহারা এবং ঘটনা স্মরণ রাখার ক্ষমতার জন্য তারা জনপ্রিয়। ঠিক এ কারণেই এভারনোট, তাদের লোগোতে হাতিকে ব্যবহার করেন। লোগোতে হাতির কান একটু ভাঁজ করা অবস্থায় দেখানো হয়েছে, যেমনভাবে মানুষ কোনো বইয়ের কতটুকু পড়েছে, তা চিহ্নিত করতে প্রায়ই বইয়ের পৃষ্ঠার কোণা ভাঁজ করে রাখেন।

২. কোকা-কোলা

বিশ্ববিখ্যাত কোকা-কোলা কোম্পানির লোগোতে, ‘ও’ এবং ‘এল’ অক্ষরের মাঝে, স্পষ্টভাবেই ড্যানিশ পতাকা দেখা যায়। কাকতালীয় বলতে হবে, কোকা-কোলা ডেনমার্কে তার বিপণন প্রচারাভিযানের অংশ হিসাবে এই সংকেতকে এখনো ব্যবহার করেনি।

১. পেপসি

বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু পেপসি তার বিশেষ অর্থবহ লোগো তৈরি করতে মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র, ফেং শুই, পিথাগোরাস, ভূতত্ত্ব, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং গোল্ডেন রেশিও এর মতো রহস্যঘেরা এবং গোপনীয় বিষয়গুলোকে পেপসির নতুন লোগো বহন করে। লোগোটির ডিজাইনার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই লোগো মোনালিসা, এথেন্সের এথিনী-দেবীর মন্দির ‘পার্থেনন’ এবং এমনকি রেনে দেকার্তেকেও ইঙ্গিত করে। এতসব রহস্যের মাঝে একটি বিষয়ই কেবল দিবালোকের মতো পরিষ্কার, লোগোর লাল, সাদা এবং নীল রঙ আমেরিকার পতাকাকেই প্রতিনিধিত্ব করে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।