আহা বিশ্বকাপ!

খেলার রাজা বলে ক্রিকেটকে, আর সামনে চলে এলো সেই ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। ফুটবল সম্রাট পেলে একদা বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ হলো একজন খেলোয়াড়ের দক্ষতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা।’

তাই খেলোয়াড়রাও বিশ্বকাপে নিজেকে চেনাতে মুখিয়ে থাকেন।  পেলে যদিও কথাটি ফুটবলকে নিয়ে বলেছিলেন, কিন্তু কথাটি যে ক্রিকেটেও খাটে। আবেদনে যে কেউ কারো চেয়ে কম নয়।

আরে দূর! ক্রিকেট! সেতো গুটি কয়েক দলের খেলা, ওটা আবার ‘বিশ্ব’কাপ হলো নাকি!

ওতে কি আর আকর্ষণ আছে, ফুটবল বিশ্বকাপ দেখলে ওসব যে চোখে রুচবে না!

ফুটবলে তো খেলে ৩২ দল, ক্রিকেটে খেলে মোটে ডজন খানেক দল। দেড় ঘন্টার তড়িত ম্যাচের বিপরীতে নঘন্টার পুরো দিনখেকো খেলা।

ফুটবলের মত মুহুর্মুহু উত্তেজনা ক্রিকেটে কোথায়? সেই পাগলাটে আবেগ কোথায়?

ক্রিকেটে সেই বন্যতার অভাব থাকলেও, আবেগ যে অপ্রতুল।

তাইতো আমরা অবাক রানআউটে ল্যান্স ক্লুজনারের অশ্রুস্নাত চোখ দেখি, কিংবা ক্যারিবিয়ান সাম্রাজ্যে চিড় নিশ্চিত করে মহিন্দর অমরনাথের সেই রুদ্ধশ্বাস দৌড়ে ভারতীয়দের বাঁধভাঙা উচ্ছাস দেখি।

চক্ষু চড়কগাছ বিশ্ব কপিল দেবের হাতে ট্রফির সাথে গর্বিত দ্বিগ্বিজয়ী হাসি দেখি, আর দেখি ট্রফি হাতে ওয়াসিম আকরামের হাসিকান্নার মিশেল অনুভূতি।

রানআউটে শেষ উইকেট পতন ঘটতেই বাংলাদেশীদের মাঠে ঢুকে পড়া, সরকারী ছুটি ঘোষণা, কখনো ঈদের আনন্দ মাটি করে দেয়া, আবার মধ্যরাতে বিজয় মিছিল ট্রফিটাকে বিশ্বআসরে একটি জাতিকে নিজের অস্তিত্ব জানানের উপাদান হিসেবেই মনে করায়৷

ফুটবলের মত অত বড় না হলেও ক্রিকেট বিশ্বকাপটা যে কম ছলনাময়ী নয়, সে যে নিজের মূল্যটা আদায় করতে ভালই জানে।

সৌরভ গাঙ্গুলির সাহসী ভারতের তীরের কাছে এসেও অসীম শক্তির সামনে ভেঙে পড়ে চূড়ায় না উঠার আক্ষেপের পোড়ন কিংবা ছোট্ট ভুলের মুহূর্ত ক্রিকেটের জনকদের চিরআক্ষেপ হয়ে রয়েছে ওই ট্রফিটা। অনেক কাছে এসেও কখনোই কাছে না আসতে পারা ব্ল্যাক ক্যাপস-প্রোটিয়াদের চিরন্তন দীর্ঘশ্বাসও মিশে গেছে ওই ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা ট্রফিটায়।

দেড়ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর মনোভাব নিয়ে খেলা দেখবেন না বটে, কিন্তু নঘন্টা চোখের পলক ফেললেও কিছু একটা মিস করার ঝুঁকি যে তাড়িয়ে তাড়িয়ে বেড়াবে,

তা বলাই যায়, হয়তো এক ওভার বদলে দেবে খেলা, কিংবা আপনার পছন্দের শক্তিশালী দলটার মুখ হা করে ছোট দলটার নবীন ছেলেগুলো উল্লাস করবে।

ঠিক ২০০৭ এ, আশরাফুল-মুশফিকের মত। আজকের হারিয়ে যাওয়া কেনিয়া সেবারে সবাইকে চমকে দিয়ে ওঠেছিল সেমিফাইনাল অবধি।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে সেই বিখ্যাত সেমিফাইনালে শেষ ওভারের প্রথম দুই বল দেখে যিনি হাওয়া খেতে টিভির পর্দা ছেড়েছেন, তিনি বাকি জীবন আফসোস করবেন নিশ্চিত!

ক্রিকেট বিশ্বকাপটা যেন প্রাচীন তলোয়ার যুদ্ধের মত। এখানে দুই পক্ষই নিজেদের বিক্রম দেখাতে চায়।

উদ্ধত হলেই বিপদ, আবার শুধু শারিরীক শক্তি কিংবা শুধু মগজের ধারে এখানে কাজ দেবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে স্বভাবজাত দক্ষতা আর মুন্সিয়ানা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হবে।

চরম অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনার আসরে আপনাকে স্বাগতম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।