আরো এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি: মোহাম্মদ সালাহ

মোহাম্মদ সালাহ – তিনি এক ধূমকেতুর নাম। ছোট দল মিশরের বড় তারকার সাথে এখন নিয়ম করে তুলনা হয় মেসি, রোনালদো কিংবা নেইমারের। ক্লাব ফুটবলে লিভারপুরের হয়ে একের পর এক জাদু দেখিয়েছেন। মিশরকে ২৮ বছর পর এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপের টিকেট। ইনজুরি শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে খেলছেন বিশ্বকাপে। রাশিয়াতে কি বিশ্বকাপের সিংহাসন খুঁজে পাবে তাঁর নতুন যুবরাজকে? টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন স্বয়ং সালাহ।

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে আপনি কতটা রোমাঞ্চিত?

– আসলে রোমাঞ্চিত হওয়াটা বিশ্বকাপের অংশ। যে কোনো ফুটবলারের জন্য বিশ্বকাপ খেলাটা একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। আমরা ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। ফলে আমরা সকলে চূড়ান্ত এই পর্বে দলকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখছি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আপনি একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন। একটা গুঞ্জন ছিল যে, আপনি বিশ্বকাপ মিসও করতে পারেন

– দেখুন, ওটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। যাই হোক, খুব ভালো দিক হলো যে, আমি রাশিয়ায় বিশ্বকাপে খেলতে এসে গেছি। এটাই আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমার জন্য এটা খুব কঠিন একটা ব্যাপার হতো, যদি বাছাইপর্ব পার করার পরও বিশ্বকাপ খেলতে না পারতাম। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি আমাকে বিশ্বকাপ দলের অংশ হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন এবং আমার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন।

আপনাদের গ্রুপে স্বাগতিক রাশিয়া আছে। সেই সঙ্গে সৌদি আরব উরুগুয়ে আছে এই গ্রুপে। আপনি পরের রাউন্ডে যাওয়ার কতটা বাস্তব সম্ভাবনা দেখেন?

– নকআউট পর্ব পার হয়ে যাওয়ার ব্যাপার নিয়ে বেশি না ভেবে আমাদের উচিত হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের সেরাটা খেলার চেষ্টা করা। আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের উচিত এই তিন ম্যাচে নিজেদের সেই ক্ষমতাটা প্রয়োগ করতে পারা। আমরা যদি সেটা করতে পারি, বাকিটা এমনিই দেখা যাবে। তবে আমাদের জন্য এটা সমান গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যেন উপভোগ করতে পারি এবং মজা করতে পারি।

আপনাদের প্রথম ম্যাচ উরুগুয়ের সঙ্গে। তারা এমন একটা দল, যারা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এসেছে টুর্নামেন্টে।

– তারা দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১০ সালের সেমিফাইনালিস্ট। তাদের দলে লুই সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানির মতো গ্রেট খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের সম্পর্কে যেটা জানি, ওরা টাইট ম্যাচ খেলতে পছন্দ করে। ওরা প্রতিপক্ষকে খুব একটা জায়গা দেবে না খেলার জন্য। এটা খুব কঠিন একটা খেলা হতে যাচ্ছে। তবে আমাদেরও প্রস্তুত থাকা উচিত। যদি আমরা স্কোর করতে পারি, তাহলে ওদের পক্ষেও আমাদের ডিফেন্স ভাঙাটা কঠিন হবে।

সমালোচকরা বলছেন, লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার বা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো আপনিও এবারের বিশ্বকাপের বড় আকর্ষণীয় তারকা

যাদের নাম বললেন, এরা সবাই কিংবদন্তি। তারকাখ্যাতি বলুন আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য বলুন, আমার এখনো তাদের মানে পৌঁছাতে অনেক দেরি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমি ইউরোপিয়ান ফুটবলে আমার যাত্রাটা শুরু করতে পেরেছি। এখন আমি আরও কয়েক বছর এই মানে খেলে যেতে চাই। কিন্তু আপনি যেসব তারকার কথা বলেছেন, তারা এরই মধ্যে নিজেদের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তুলে ফেলেছে। মেসি, রোনালদো, নেইমার বিশ্বকাপ জেতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। অন্য দিকে ইনিয়েস্তা তার দ্বিতীয় ট্রফি জেতার চেষ্টা করবে। আর আমার তো মাত্র বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে। আপনি আসলেই এসব কিংবদন্তির সঙ্গে এক ব্রাকেটে আমার নাম উচ্চারণ করতে পারেন না।

আপনাদের শেষ বাছাইপর্বের ম্যাচে আপনারা ঘানার বিপক্ষে খেলেছেন। সেই ম্যাচের আগে কারা রাশিয়ার জন্য ফেবারিট ছিল?

– আমরা নিজেদের মাঠে ওদের হারিয়েছি এবং ওদের মাঠে গিয়ে ড্র করে এসেছি; আমরা ভালো খেলেছি। এটার ফলেই আমরা গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাইপর্ব পার করেছি। এটা কঠিন গ্রুপ ছিল। কারণ উগান্ডা ও কঙ্গোও ছিল এখানে। আমরা শুধু উগান্ডার বিপক্ষে হেরেছি এবং রাশিয়ার ৩২ দলের ভিতরে জায়গা করে নিয়েছি।

রাশিয়ায় বিশ্বকাপে আপনার চোখে কারা ফেবারিট?

– প্রথমত বিশ্বকাপের আগে আমরা নিজেদের নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। দ্বিতীয়ত বিশ্বকাপ এমন একটা টুর্নামেন্ট, যেখানে আপনি ভালো খেলেও বিশ্বকাপ জয়ের নিশ্চয়তা পাবেন না। ফলে এখানে কিছু অনুমান করে কোনো লাভ নেই। যাই হোক, বড় দলগুলো নিজেদের আরেকবার প্রমাণের চেষ্টা করবে, এটুকু বলতে পারি।

এটা মিসরের তৃতীয় বিশ্বকাপ। ঘটনাচক্রে আপনারা এর আগে দুটো টুর্নামেন্টই খেলেছেন ইতালিতে। আর এবার ইতালি আসতেই পারেনি!

– এটা ইতালির সমর্থকদের জন্য খুব দুঃখজনক ঘটনা। তারা বিশ্ব ফুটবলের এক বৃহত্ শক্তি। তাদের সমর্থকরা টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের মিস করবে। একই কথা নেদারল্যান্ডস আর চিলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমাদের সমর্থকরা চাইবে আমরা যেন টুর্নামেন্ট থেকে সেরাটা বের করে নিতে পারি এবং টুর্নামেন্টকে যতটা সম্ভব রঙিন করতে পারি। আমরা যেহেতু ২৮ বছর পর এসেছি, ভক্তদের আনন্দের কোনো সীমা নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।