এমন ‘কাজ পাগল’ কোচই চাই!

ব্যাপারটার সাথে আমরা একদমই পরিচিত নই।

জাতীয় দলের খেলা বা ক্যাম্পের বাইরে দেশের ক্রিকেটে একজন আন্তর্জাতিক কোচ দিনের পর দিন সময় দিয়ে যাবেন – এমন দৃশ্য আমরা আগে দেখিনি বললেই চলে। এই অদেখা কাজটাই নীরবে করে চলেছেন স্টিভ রোডস, বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ।

তিনি গ্যালারিতে বসে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলা দেখেন। সেখান থেকে চলে যান কক্সবাজার। উদ্দেশ্য বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড যুব দলের মধ্যকার ম্যাচ দেখা। শুধু ম্যাচ দেখাতেই শেষ নয়, কখনো সখনো ক্ষুদে ক্রিকেটারদের তিনি দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় টিপস।

এমন কাজ পাগল কোচ কি বাংলাদেশ ক্রিকেট আগে কখনো পেয়েছিল?

বাংলাদেশের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন খুব বেশিদিন সময় হয়নি। সময়ের হিসাবে সেটা সাত মাসের মত হবে। এই সময়ে কখনোই তাঁর কোনো কাজ বা টেকনিক নিয়ে খেলোয়াড় বা বোর্ডের পক্ষ থেকে আপত্তির লেশ মাত্র শোনা যায়নি, বরং প্রশংসিতও হয়েছেন।

তবে, বেশি প্রশংসিত হয়েছে তাঁর ‘আদার্স অ্যাকটিভিটি’। তিনি জাতীয় দলের দায়িত্বের বাইরেও অনেক কাজ করেন। আর এর পুরোটাই নিজের আগ্রহে। তিনি নিয়ম করে ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা দেখেন। দেশের ভেতরে বয়সভিত্তিক দলের খেলা কিংবা ‘এ’ দলের ম্যাচে থাকে তাঁর সরব উপস্থিতি।

এখানেই শেষ নয়, তিনি ‘এ’ দলের খেলা দেখতে দেশের বাইরে চলে গেছেন এমন নজীরও আছে। তিনি সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ‘এ’ দলের সফর দেখতে গিয়েছিলেন। বোঝাই যায় নিজের কাজের ব্যাপারে তিনি কতটা সিরিয়াস।

রোডসের উদ্দেশ্যটা পরিস্কার, বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাইপলাইনে কি আছে, আর কি নেই সেই ব্যাপারটা বুঝতে চান। সেটা বোঝা থাকলে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজানোটা যে সহজ হয় সেটা তো না বলে দিলেও চলে।

চাইলে বাড়তি সময়টা ছুটি নিয়ে নিজের দেশ ইংল্যান্ডে চলে যেতেই পারতেন রোডস। সময় কাটাতে পারতেন পরিবারের সাথে। বিপিএলের সময় তিনি ছুটি চাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) খুব একটা আপত্তি করতো না, অন্তত আগের কোনো কোচের ক্ষেত্রে বিসিবি ছুটি নিয়ে আপত্তি করেছে এমন খবর শোনা যায়নি। এই বিলাসিতটা রোডস করেননি, কারণ তিনি চূড়ান্ত সাফল্যের সন্ধান করছেন।

রোডসের ডেডিকেশন কোন মাত্রা ছুঁয়েছে, সেটা বোঝার জন্য আরেকটা উদাহরণ দেওয়া যাক।

ভিনদেশী কোচ হওয়ার কারণেই খেলোয়াড়দের সাথে কাজ করতে গিয়ে ভাষাগত জটিলতার মুখে পড়তে হয় তাকে। ব্রিটিশ কোচ তিনি, মাতৃভাষা ইংরেজি। তবে একদম ব্রিটিশ ঘরানার ইংরেজি কথা অক্ষরে অক্ষরে বুঝে ফেলার দক্ষতা তো আর সব খেলোয়াড়ের থাকে না। এই বাস্তবতাটা কোচও বুঝে ফেলেছেন। তাই তিনি নিজেই বাংলা শিখছেন একটু একটু করে।

রোডসের এই চেষ্টা, এই শ্রম একটা বিনিয়োগের মত। বিনিয়োগটা তিনি করছেন নিজের সিভিকে ভারী করার জন্য, আর রোডসের সিভি তখনই ভারী হবে, যখন চূড়ান্ত সাফল্য পাবে বাংলাদেশ। মানে দাঁড়াচ্ছে, এই বিনিয়োগের প্রতিদানটা এবার খেলোয়াড়দেরকেই দিতে হবে!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।