যত সেকেলে, ততই ‘খ্যাপাটে’

আমরা নিজেদেরকে সর্বাধিক খ্যাপাটে প্রজন্ম বলে ভাবতে পছন্দ করি। কিন্তু এটা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমাদের পূর্বপুরুষরা কেমন ছিলেন? চলুন দেখে নেয়া যাক তাদের কিছু আজব রীতি-নীতি, যা আমাদের ভাবাতে বাধ্য করবে, ‘আসলেও এরকমটা আগে হতো!’

  • মানব অ্যালার্ম ঘড়ি

অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মানব অ্যালার্ম ঘড়ির প্রচলন ছিলো। কিছু মানুষের পেশাই ছিলো অন্য লোকদের ঘুম থেকে ডেকে তোলা, যাতে তারা নিজেদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজগুলো করতে পারে। এ মানব অ্যালার্ম ঘড়িদেরকে কে জাগাতো, সেটা আমাদের অজ্ঞাত, কিন্তু তাদের যে নির্ঘুম রাত কাটাতে হতো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • টয়লেট পেপার হিসেবে পাথর

টয়লেট পেপারের বিকল্প হিসেবে কতো কিছুই না ব্যবহার করা হয়েছে! তাই বলে পাথর! হ্যা, অামাদের পূর্বপুরুষরা পাথর এবং কাদামাটিকেও একাজে ব্যবহার করেছেন বলে গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন।

  • তেজস্ক্রিয় সুভ্যেনির

অতীতে তেজস্ক্রিয়তাকে মোটে বিপদজনক মনে করা হতো না। তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় সুভ্যেনির থেকে।

কসমেটিক থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রীও এ তালিকা থেকে বাদ যায়নি। জানা গেছে, রেডিয়াম, থোরিয়ামের মতো পদার্থও খাবারের স্বাদবর্ধনে ব্যবহার করা হয়েছে।

  • সদ্য মৃতের ছবি তোলা

আগেরকালের মানুষেরা নিজেদের মৃত আত্মীয়-স্বজনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পছন্দ করতেন। এর অন্যতম উপায় ছিলো ফটো তুলে রাখা। তাই তারা মৃত মানুষটির বিভিন্ন জীবন্ত ভঙ্গিমায় ছবি তুলে তা রেখে দিতেন।

  • দূর্বল স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে ‘ভাব’ নেওয়া

আগেরকালের মানুষেরা তাদের দূর্বল স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে গর্ব করতো। দূষিত পানি পান করা তাদের কাছে ইর্ষণীয় বিষয় মনে হতো। আর মাথার উকুনকে তারা ঈশ্বরের মুক্তো বলে অভিহিত করতো। ভাবতেই কেমন গা গুলাচ্ছে না!

  • রোগমুক্তির আশায় রক্তপাত

ধারণা করা হতো, শরীর থেকে রক্ত বের করলে রোগমুক্তির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা এ কাজে জোঁকও ব্যবহার করেছেন।

  • চোপিনস ও বিচিত্র হিল জুতোর ব্যবহার

চোপিনস, যাকে অনেকে জুকোলি বা পিয়ানেলও বলে থাকেন, একধরনের উচু হিলবিশিষ্ট জুতো। এর হিলের উচ্চতা ছিলো প্রায় ৫০ সে.মি বা ২০ ইঞ্চি। এগুলো রাস্তায় হাটার সময় কাদা থেকে বাচার জন্য ব্যবহার করা হতো।

  • ছেলেদের ফ্রক

আগের যুগে, ছোটো ছোটো ছেলেরাও ফ্রকজাতীয় পোশাক পরতো। তাদের এমন পোশাক পরানোর কারণে ঘনঘন পোশাক পরিবর্তনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেত।

৯. দ্বি-স্তর নিদ্রা

মধ্যযুগের ইউরোপিয়ানদের মধ্যে সর্বপ্রথম এ অভ্যাসের চর্চা পরিলক্ষিত হয়। দ্বি-স্তর এই নিদ্রাচক্রের প্রথমটি শুরু হতো সূর্য ডোবার পর থেকে। চলতো মধ্যরাত পর্যন্ত। তারপর দুই থেকে তিন ঘন্টা বিরতি দিয়ে শুরু হতো দ্বিতীয় পর্যায়।

  • স্নান করার কামরা

আমাদের মতোই বিগত দুই শতাব্দীর মানুষরা স্নান করার জন্য জলাশয়ে যেত না। তারা যেটা ব্যবহার করতো, সেটাকে আমরা আজকের ভাষায় স্নানঘর অভিহিত করতে পারি। সেগুলো ছিলো অনেকটা কুটিরের মতো, যেমনটা আমরা সমুদ্রসৈকতে দেখতে পাই। স্নানকারীরা কুটিরসমেত সমূদ্রে চলে যেতেন, যাতে তাদেরকে কেউ স্নানরত অবস্থায় দেখে না ফেলে।

  • কাশি নিরামক হিসেবে হেরোইন

হেরোইনকে মরফিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হতো, এবং তার উদ্দেশ্য ছিলো কাশি নিরাময়। চিকিৎসকরা প্রাপ্তবয়স্ক তো বটেই, এমনকি শিশুদেরও হেরোইন সেবন করার পরামর্শ দিতেন।

  • বিমানে ধুমপান

ধুমপান করা একটি অতি সাধারণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছিলো। মানুষ বিমানের মতো স্থানেও সিগারেট ধরাতে পিছপা হতেন না। আরে আজকের দিনে বিমানে কেউ সিগারেটের প্যকেট বের পর্যন্ত করতে পারবেন না।

– হাইগো.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।