এই শীতে জেগে উঠুক আপনার ভেতরের মানুষ!

ওয়েদার অ্যাপে ক’দিন আগেও তাপমাত্রা অনুভুত হচ্ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘরে বসেই আমরা ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি।

কেউ ভাপা পিঠার পোস্ট দিচ্ছেন, কেউ গরম গরম নাস্তা কিংবা চা-কফির। কেউ ছুটি কাটাচ্ছেন, কেউ একটু বাদেই প্রিয় কফিশপে ছুটবেন ঠাণ্ডায় এক কাপ উষ্ণতা খুঁজতে।

সে হোক, সমস্যা নেই। সৃষ্টিকর্তা যাকে জীবন উপভোগের সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটা তিনি করবেনই। কিন্ত উপভোগ করার ফাঁকে আমরা কি একটু বাইরে তাকিয়ে দেখতে পারি? ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা মানুষগুলির দিকে তাকাতে পারি? মরমর অবস্থায় কুঁকড়ে থাকা কুকুরগুলির দিকে তাকাতে পারি? নিচু স্বরে কান্না করা বিড়ালগুলির দিকে তাকাতে পারি?

তাকালে হয়তো দেখতে পাবেন ছিন্নমূল মানুষগুলি প্রচণ্ড শীতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এই শীতেও শীতল ফুটপাতে শুয়ে আছেন। কুকুরগুলির কাছে গেলে ঠক ঠক করে কাঁপার আওয়াজ শুনতে পাবেন, আমি নিজের কানে শুনেছি। বিড়ালগুলির কান্না কিছুক্ষণ শুনলে মনে হবে কোন মানব শিশু কাঁদছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কী করতে পারেন আপনি?

করতে পারেন অনেক কিছুই। না, পয়সা খরচ করতে হবে না। আমাদের সকলের বাড়িতেই এমন জামা কাপড়, ছেঁড়া কাথা কিংবা বিছানার চাদর, পুরাতন শীত বস্ত্র, পুরাতন পর্দা, চটের বস্তা, খবরের কাগজ, কার্টন বক্স, ফোম ইত্যাদি অনেক কিছুই থাকে যা আমরা ব্যবহার করি না। কোনদিন করবো, সেই সম্ভাবনাও নেই। আপনার ঘরে জমে থাকা সেই আবর্জনাই বের করে অন্যকে দিয়ে দিন। এতে অন্যের যেমন উপকার হবে, আপনার ঘরও পরিষ্কার হবে।

পরার মত কাপড়, একটু ভাল অবস্থায় থাকা কাঁথা-চাদর মানুষকে দিন। জনে জনে দিতে না পারলে বাসার দারোয়ানকে বলুন, প্যাকেটে করে ফুটপাথে রেখে দিন, যেসব সংস্থা পুরানো কাপড় নিচ্ছে তাদেরকে ডাকুন। ছেঁড়া কাপড়, চট, কাগজ ইত্যাদি থাকলে এমন সব জায়গায় বিছিয়ে দিন, যেখানে কুকুর বেড়ালেরা থাকে। হয়তো আপনার গেটের সামনে, কোন গলির চিপায়, ডাস্টবিনের কাছাকাছি কোথাও।

একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন জায়গাগুলি। মাত্র ৩০ টাকা করে চটের বস্তা কিনতে পাওয়া যায়। অন্য কিছু না পারলে ৩০ টা টাকা দিয়ে একটা বস্তা কিনে দিন, কিংবা ১০ টাকার একটা রুটি-বিস্কুট কিনে খাওয়ান। কিংবা বাড়ির দারোয়ানকে বলুন গেটে বা গ্যারেজে কোন অসহায় প্রাণ আশ্রয় নিলে তাদেরকে দূর দূর না করতে।

তাও না পারলে- আপনার গত রাতের বেচে যাওয়া খাবার/উচ্ছিষ্ট খাবার একটি পলিথিনে ভরে গলি/রাস্তা/ফুটপাথের এক কোণে রেখে দিন। খাবার না দিলে সামান্য পানি। আপনার কাছে যা উচ্ছিষ্ট, অসহায় কুকুর বিড়ালগুলির জন্যে সেটাই অমৃত। খাবার দূরে থাক, দিনের পর দিন পানি ছাড়াই থাকতে বাধ্য হয় অসহায় জান গুলি।

ওদের ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর শরীর না পারে বলতে, না পারে কিছু করতে। তিল তিল করে মৃত্যুর অপেক্ষা করে শুধু … সামান্য কিছু খাবার পেলেও মৃত্যুর আগে ওর রূহের শেষ দোয়াটি হবে আপনার জন্য। কিংবা এক মুঠো খাবারের বিনিময়ে ও একটা দিন বেশি বাঁচবে।

গরম গরম ভাপা পিঠা কিংবা ধোঁয়া ওঠা কফির ভাগ দিতে হবে না। আপনার বাড়ির ফেলনা কাপড় আর উচ্ছিষ্ট খাবার, ব্যস! এইটুকু তো আমরা সবাই করতে পারি, তাই না?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।