আমেরিকান নৌবাহিনীতে ছিলেন হিটলারের ভাতিজা!

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস শাসক কে? – এই প্রশ্নের জবাবে অনেক তর্ক বিতর্ক চলতে পারে। তবে, সব কিছুর শেষে সবাই এক বাক্যে এটাই স্বীকার করে নেবেন যে, সেই মানুষটি হলেন অ্যাডলফ হিটলার, জার্মানির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর।

১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ – এই ১২ বছর তিনি শাসন করেছিলেন জার্মানি। তাঁর স্বপ্ন ছিল গোটা বিশ্ব শাসন করার, চেষ্টা ছিল গোটা পৃথিবীকে নিজের শাসনবলে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার। আর সেটা করতে গিয়েই এমন সব নির্মম আর নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ চালান যে, সবাই তাঁকে মনে রাখতে বাধ্য হয়।

এই স্বৈর-শাসক নাৎসি বাহিনী গঠন করেন, আর এই সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে তিনি পোল্যান্ডে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালান, যা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞগুলোর একটি বলে পরিচিত হয়ে আছে। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরের সেই মানব হত্যাজজ্ঞ ‘ দ্য হলোকাস্ট’ নামে পরিচিত।

তবে, এত কিছুর মাঝে অবাক করার তথ্য হল এই হিটলারেরই খুব কাছের এক আত্মীয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তারই বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সেই মানুষটির নাম হল উইলিয়াম প্যাট্রিক হিটলার। যদিও, হিটলারটা নামের সাথে তিনি ব্যবহার করতেন না। আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর নাম ছিল উইলিয়াম স্টুয়ার্ট-হওস্টন। আইরিশ বংশদ্ভুত এই জার্মান ছিলেন হিটলারের আপন ভাতিজা। উইলিয়ামের বাবা আলোইস হিটলার জুনিয়র ছিলেন হিটলারের আপন ভাই। উইলিয়ামের মা ব্রিজেট ডওলিং আইরিশ হলেও থাকতেন ইংল্যান্ডের লিভাপুলে। সেখানেই বেড়ে ওঠেন উইলিয়াম।

উইলিয়াম ১৯৩৯ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব পান। আর আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের সরাসরি অনুমতিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন আমেরিকান নৌবাহিনীতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি আমেরিকার হয়ে লড়াই করেন।

ব্যাপারটা এমন না যে, হিটলারের সাথে উইলিয়ামের কোনো যোগাযোগ ছিল না, বা কখনোই নাৎসিবাহিনী নিয়ন্ত্রিত হিটলারের জার্মানিতে যাননি উইলিয়াম। সত্যটা হল ১৯৩৩ সালে চাচার রাজত্ব জার্মানিতে যান তিনি। সেখানে চাচাই তাকে রেইচস্ক্রেডিট ব্যাংকে চাকরি যোগার করে দেন। এরপর ওপেল অটোমোবাইলে কাজ করেন উইলিয়াম, এরপর গাড়ি বিক্রেতা হিসেবেও দেখা যায় তাঁকে।

এসব কাজে সন্তুষ্ট না হয়ে, চাচাকে তিনি আরো ভাল কাজের খোঁজ করতে বলেন। এমনকি হিটলারকে তিনি এমনও হুমকি দিয়েছিলেন যে, ভাল চাকরি না দিলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে গিয়ে পরিবারের ব্যাপারে এমন কিছু অজানা কথা বলে বসবেন যাতে করে হিটলারের প্রভাব ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে।

১৯৩৮ সালে হিটলার তাঁর ভাতিজাকে শর্ত দেন, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করলেই কেবল পাওয়া যাবে বড় চাকরি। রাজি হননি উইলিয়াম। তিনি নাৎসি জার্মানি ছেড়ে উড়ে যান। যদিও নিজের চাচাকে ব্ল্যাকমেইল করা তিনি থামাননি। এবার তিনি গণমাধ্যমকে বলে বসেন, হিটলারের দাদা ছিলেন একজন ইহুদি ব্যবসায়ী। লুক ম্যাগাজিনে তিনি একটা আর্টিকেলে লিখেন। শিরোনাম ছিল, ‘যে কারণে আমি আমার চাঁচাকে ঘৃণা করি।’

১৯৪৭ সাল অবধি আমেরিকান নৌবাহিনীতে কাজ করেন উইলিয়াম। ১৯৮৭ সালে ৭৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।