জাদুর কৌটায় বিশ্ব কাঁপে

বিদ্যুৎগতিতে ছুটে এলেন সামনে শুধুই দাঁড়িয়ে পুরো ম্যাচে চোখধাধানো পারফর্ম করা কোস্টারিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার কেইলর নাভাস। গ্যাব্রিয়েল জেসাস বল শট নিতে গিয়েও পা সরিয়ে নিলেন, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে কৌতিনহোর শট, শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে অবশেষে প্রান ফিরে পেলো সেলেসাওরা। আর শেষ মিনিটে নেইমারের ফিনিশিংয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিলো ব্রাজিল।

প্রথম ম্যাচেও কৌতিনহোর গোলেই সুইস দের বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলো ব্রাজিল, দ্বিতীয় ম্যাচেও ত্রাতা হিসেবে সেই কৌতিনহো। টানা দুই ম্যাচেই করেছেন মান বাচানো দুই গোল, দুই ম্যাচেই নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

পুরো মৌসুমে ক্লাবের হয়েও দুর্দান্ত ছিলেন মাঝমাঠের এই জাদুকর, মোট ৪২ টা ম্যাচ খেলে ২২ টা গোলের পাশাপাশি ১৪ টা অ্যাসিস্ট করেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হয়ে ৪ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন, তাতেই ৫ গোলের পাশাপাশি দু’টা অ্যাসিস্ট করেছেন।

মৌসুমের মাঝপথে অলরেড দের ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন, কিন্ত তাতে ধার কমেনি একটুও, লা লিগায় ১৬ ম্যাচে মাঠে ছিলেন তার মধ্যে দুবার বদলী হিসেবে, আর তাতেই আট গোলের পাশাপাশি পাঁচ অ্যাসিস্ট, কোপা ডেলরেতে তিন ম্যাচেই নেমেছিলেন বদলী হিসেবে, শুরুর একাদশে ছিলেন একবার, তাতেই বল জালে জড়িয়েছেন দু’বার। বার্সেলোনার ট্রফিজয়ে শেষমুহুর্তে এসেও তাই দারুণ ভুমিকা রেখেছেন এই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার।

ড্রিবলিং, বল থ্রো, ফ্রি-কিক কিংবা লং রেঞ্জের শট, এই চার ভূমিকাতেই দুর্দান্ত এই ব্রাজিলিয়ান। ক্রসিং, ওয়ান টু ওয়ান পাস, সেট পিসেও কম যান না। পুরো মাঠেই নিজের জারিজুরি দেখাতে ওস্তাদ ফিলিপে কৌতিনহো।

ব্রাজিলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচেই পেয়েছেন গোল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে চার গোলের পাশাপাশি দলের অন্যদের দিয়ে করিয়েছেন আরো দুখানা গোল। রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত লং রেঞ্জে শটে গোল পেয়েছেন, গত ম্যাচে ৯২% পাস যথাযথ ভাবে করেছেন,  ছয় বার সুযোগ সৃষ্ঠির পাশাপাশি গোলমুখে শট নিয়েছেন ৬ বার।

অন টার্গেটে ৪ বার শট নিয়ে করেছেন মহামূল্যবান একখানা গোল। বার্সা সতীর্থ পওলিনহো ও রিয়াল মাদ্রিদ প্রতিপক্ষ ক্যাসেমিরোর সাথে মধ্যমাঠ সামলান কৌতিনহো। বলা উচিৎ, বাকি দু’জনের ঘাটতিটা একাই পুষিয়ে দেন কৌতিনহো।

ব্রাজিলের জার্সি তে এরই মধ্যে করে ফেলেছেন ১২ গোল, এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের পরেই তার উপরই সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় আশা, যার প্রমান ইতোমধ্যেই করে দেখাচ্ছেন এই জাদুকর। ফিলিপে কৌতিনহো কোরেইরা, সেলেসাওদের লম্বা রেসের ঘোড়া!

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বিস্তর কথা হচ্ছে নেইমারকে নিয়ে। তাকে ঘিরে টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক, সমর্থক এমনকি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনেরও (সিবিএফ) প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগও তাঁকে নিয়ে করে আলাদা পরিকল্পনা। কে জানে, এর মাঝে বিশ্বকাপের সবটুকু আলো হয়তো ছিনিয়ে নেবেন কৌতিনহো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।