কেন শিরোপা জিততে পারেন না কোহলি!

ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি সত্যিকার অর্থে একজন দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান। তিনি আধুনিক যুগের কিংবদন্তিদের একজন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ ও ভক্তরা এ ব্যাপারে একদম একমত। কিন্তু, বিপত্তিটা বাধে যখন অধিনায়কত্বের বিষয়টি সামনে আসে।

অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলির রেকর্ড মন্দ নয়। কিন্তু, দু-একটি কৌশল বার বার মিস করে যাচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোন শিরোপা বাগিয়ে নিতে পারেননি। এমনকি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়েও শিরোপা জিততে পারেননি।

এখানে কোহলির শিরোপা খরার পেছনে সম্ভাব্য দশটি কারণ তুলে ধরা হল।

১.

কোহলি সবসময় ফলাফলের পেছন পেছন ছোটেন। সতীর্থ রোহিত শর্মার মত ফলের জন্য অপেক্ষা করতে পছন্দ করেন না তিনি।

২.

কোহলি সর্বদা সবকিছু জুড়ে থাকতে এবং নিজের হাতে ম্যাচ জেতাতে চান। যদিও তিনি বারবার দল হিসেবে খেলার কথা বলেন কিন্তু তাতে নিজে বিশ্বাসী বলে মনে হয় না।

৩.

কোহলি প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে চান। তিনি বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। নিঃসন্দেহে দলের সকলের পক্ষে তাঁর মত হওয়া সম্ভব নয়।

৪.

কোহলি খুব ঘন ঘন ব্যাটিংয়ের ক্রম পরিবর্তন করেন। তাঁর দলে স্থিতিশীল রয়েছেন কেবল সিনিয়ররা। অন্যথায় তাঁর দলে জায়গা পোক্ত করার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া তিনি খুব বেশি চিন্তা ভাবনা না করেই একাদশ পরিবর্তন করে ফেলেন যা দলের ভারসাম্য নষ্ট করে৷ তবে এ বিষয়ে কেউ কোনকিছুই করতে পারেন না।

৫.

কোহলি বুঝতে পারেন না যে, আপনি একা একটি ম্যাচ জিতাতে পারবেন কিন্তু টুর্নামেন্ট নয়। বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে হলে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার চেয়েও অনেক বেশি দরকার দলীয় প্রচেষ্টা যেটা ভারত অধিনায়কের মাথায় নেই।

৬.

মাঠের বাইরে কোহলির যোগাযোগ দক্ষতা খুব দুর্বল। তিনি দলের প্রত্যেকের জন্য ‘অ্যাভেইলেবল’ নন। মাঠের বাইরে তিনি সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন পরিবারের সাথে এবং নিজের তারকাখ্যাতি বজায় রাখতে সময় ব্যয় করেন।

৭.

খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রে সতীর্থদের সাথে বন্ধনে বিশ্বাসী নন কোহলি৷ তিনি অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন এবং নিখুঁত ডায়েট গ্রহণের ব্যাপারে খুবই তৎপর যা খাবার উৎসাহী সতীর্থদের কাছ থেকে আলাদা রাখে তাকে। তাঁর সতীর্থরা বুঝতে পারেন না যে, কেন তাদের অধিনায়ক দল থেকে দূরে থাকেন! এমনকি কেউ কেউ ভাবেন কোহলি নিজে সুপারস্টার বলেই বোধহয় এমনটা ঘটছে।

৮.

কিছু কিছু সিনিয়র সবসময় তাঁর সাথে সমন্বয় করে চলতে পারেন না। কোহলি কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করেন এমনকি প্রয়োজনে কোচ রবি শাস্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেন। বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার দরুন তাঁর সিদ্ধান্তগুলো অটল থাকে এবং পরিবর্তিত হয় না।

৯.

কোহলি সংপৃষ্ট হতে পছন্দ করেন না। অধিনায়ক হিসাবে নিজের ভুলগুলি গ্রহণ করতে তিনি কখনও প্রস্তুত নন। নিজের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা পছন্দ করেন না মোটেও। হোক সেটা মিডিয়া অথবা জনসাধারণ।

১০.

মাঠে কোহলি অহংকারী এবং নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চান না। তিনি মনে মনে নিজেকে বিশ্বের সেরা অধিনায়ক ভাবেন। যদিও নয়বারের প্রচেষ্টায় আইপিএলে কোন শিরোপা না জেতা এবং ভারতের অধিনায়ক হিসেবে কয়েকটা টুর্নামেন্টে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার বিষয়গুলা ভিন্ন বার্তা বহন করে।

– স্পোর্টসকিডা অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।