সিনেমা হল কেন হবে পতিতালয়!

গত নয় ফেব্রুয়ারি আমি চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। অনেকদিন পর রয়েল রোড যাই। রয়েল রোডে অবস্থিত সিনেমা প্যালেস-এ কৈশোর থেকে শুরু করে ২০০৪ পর্যন্ত কতো যে ছবি দেখেছি তার হিসাব নাই।

১৯৮৬ সালে সিনেমা প্যালেস-এ ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ ছবি দেখি প্রথম। তারপর পুত্রবধূ, বারুদ, সি আই ডি, রঙ্গীলা, ধন দৌলত, দুনিয়াদারি, সন্দেহ, রাণী চৌধরাণী, ডাকু মর্জিনা,পরশ পাথর, নতুন বউ, ইয়ে করে বিয়ে, অনেক প্রেম অনেক জ্বালা, বেঈমান, মনের মতো বউ, গুণ্ডা, কাপুরুষ, রংবাজ, নওজোয়ান, ভাঙাগড়া, রাজলক্ষী শ্রীকান্ত, শুভেদা, রামের সুমতি, নালিশ সহ প্রায় দুশো-র উপরে ছায়াছবি দেখি

জীবনের অনেক স্মৃতি আছে এই সিনেমা প্যালেস-এ।

অনেকদিন পর গেলাম সিনেমা প্যালেস প্রাঙ্গণে। হিংস্র দানব নামে ছায়াছবি চলছিলো। আমি সিনেমা দেখতে যাই নি, আমি স্মৃতিকাতর হয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিকেল সাড়ে তিনটা।

ছায়াছবি শুরু হয়েগেছে, টিকেট কাউন্টার ফাঁকা। আশেপাশে কয়েকজন নারী, তারা যে পতিতা বুঝা যাচ্ছিলো। আমি বিষয়টি যাচাই করতে কাউন্টারের সামনে দাঁড়ালাম। সাথে সাথে একজন যুবা বয়সের নারী এসে বললো- লাগবে? আমি অফার জানতে চাইলাম।

তখন সে যা অফার দিলো, তা যৌনবিকৃতি ছাড়া আর কিছু নয়!

আমি আনাড়ির মতো বললাম, ‘গেইটম্যান যদি জানতে পারে, টিকেট চেকার যদি বুঝতে পারে তাহলে বিপদ হবে না?’ সে বললো, ‘আরে না! ওরা সমস্যা করবে না। কোনো সমস্যা নাই, নিরাপদ।’ আমি আবারো বললাম, ‘যদি জানতে পারে?’ সে বললো, ‘ওরা সব জানে, ভিতরে আরো অনেকে এখন করতেছে।’

আমি ভয় পাচ্ছি বলে বিদায় নিলাম।

সেই পতিতার সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম, সিনেমা প্যালেস-এর কর্মচারী বিষয়টি জানে, মানে জড়িত। বুঝতে বাকি থাকে না এইসব পতিতাদের কাছ থেকে তাঁরা কমিশন পায়। না হয় কিভাবে এইসব পতিতারা হলের ভিতর পতিতাবৃত্তি করে?

এই যদি হয় সিনেমার পরিবেশ তাহলে কি ভদ্র-মার্জিত দর্শক সিনেমা দেখতে যাবে সিনেমা হলে? না কেউ পরিবারের সদস্য নিয়ে যাবে সিনেমা হলে ছবি দেখতে? আর কোনো নারী দর্শক-এর রুচি থাকবে এইসব সিনেমা হলে যাবার?

আর সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো নগরীর লম্পটদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে লাম্পট্য করার। আর নতুন নতুন লম্পট তৈরী হচ্ছে।কারণ লাম্পট্য করার এমন সুবর্ণ সুযোগ আর বোধ হয় নাই।

একবার ভাবুন, একজন তরুণ-কিশোর বা যুবক যখন সিনেমা দেখতে গিয়ে এমন একটি সুযোগ পেয়ে সদ্ব্যবহার করে। তারপর তাঁর এই সদ্ব্যবহার অবিরত থাকে, তাহলে কি এইসব সিনেমা হল সমাজে লম্পট বাজারজাত করছে না?

তাই আসুন আমরা যাঁরা সুস্থ সাংস্কৃতি, নির্মল বিনোদন চাই। তাঁরা এইসব অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

আমি সিনেমা প্যালেস সহ সেইসব সিনেমার (যেসব সিনেমা হলে পতিতাবৃত্তি চলে) কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি- আপনারা আপনাদের সিনেমা হল পতিতা মুক্ত করুন। পতিতা থাকবে পতিতালয়ে, সিনেমা হল কেন হবে পতিতালয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।