যেখানে এগিয়ে সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা

ভারতে একটু একটু করে কমছে বলিউডের আধিপত্ত। জায়গাটা নিচ্ছে দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আসছে বছরগুলোতে আরো বড় বাজেটের বেশ কিছু সিনেমা আনতে যাচ্ছে। তখন নি:সন্দেহে বলিউডের অবস্থা আরো সঙিন হবে। যদিও, অনেকদিন যাবৎ সাউথ ইন্ডিয়ায় কনটেন্ট নির্ভর বিস্তর সিনেমা নির্মিত হয়। তেমন কিছু সিনেমা নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • ১০১ চোডিয়াঙ্গাল (২০১৩)

২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া মালায়লাম সিনেমার নামের অর্থ হল হলো ‘১০১ টি প্রশ্ন’। একজন ক্লাস ফাইভের ছাত্রকে হঠাৎ করে একটা এসাইনমেন্ট দেয়া হয় যেখানে তাকে ১০১ টি প্রশ্ন রেডি করতে বলা হয়। এই প্রশ্নপত্র রেডি করতে করতে ঘাম ছুটে যাওয়ার মতো অবস্থা তার মধ্যে মরার উপড় খাঁড়ার ঘা বলতে তার বাবার ফ্যাক্টরি তে যে কাজ করতো সেটা চলে যায়।

একটু কি অবাক লাগছে একটা ছেলের স্কুলের প্রশ্ন তৈরি করার সাথে তার বাবার চাকুরি চলে যাওয়ার কি সম্পর্ক? হুম, সম্পর্ক আছে সেটা না হয় সিনেমা দেখলেই বোঝা যাবে। এই দুইটা গল্প কে কি অদ্ভুত সুন্দর ভাবে শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেছে পরিচালক সিদ্ধার্থ শিভা। যদিও এই সিনেমা দিয়েই পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি আর বাজিমাৎ করে দেন ৬০ তম জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার বগলদাবা করে নেন। শুধু তাই নয়, এই সিনেমায় আনিল কুমার বোকারাও চরিত্রে অভিনয় করা শিশুশিল্পী মিনন নিজেও শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসেবে পুরষ্কার জিতে নেয়।

  • কান্নাঠিল মুঠামিত্তাল (২০০২)

সিনেমার পরিচালক মনি রত্নম, অভিনয় করেছেন আর মাধবন, নন্দিতা দাস, প্রকাশ রাজ, শশী কুমার, পাশুপাথি সহ আরো অনেকেই। মিউজিক্যাল ওয়ার নির্ভর সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান। ছয়টা জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার, ছয়টা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল পুরষ্কার, ছয়টা ফিল্ম ফেয়ার, সাটা তামিলনাড়ু ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড – আমার মনে হয় এই সিনেমা দেখার জন্য এই কয়েকটা তথ্যই যথেষ্ট।

  • লুসিয়া (২০১৩)

নন-লিনিয়ার ধাঁচের গল্প দিয়ে তৈরি এই সিনেমা একদম শেষের দৃশ্য থেকে আবার শুরু করে গল্প। এই সিনেমায় আসলে দুইটি প্রধান চরিত্রের গল্প। একজন থাকে স্বপ্নে আরেকজন থাকে বাস্তবে। একদম শুরু থেকেই গল্পের প্রধান চরিত্রের দুই গল্প নিয়েই শুরু হয় যার একজনের গল্প দেখানো হয় রঙিন আর আরেকজনের গল্প দেখানো হয় সাদাকালো তে।

কি ব্যাপারটা কনফিউজিং লাগছে কি? আসলেই কনফিউজিং লাগার মতোই। এই জন্যই এই সিনেমা সাউথের অন্যতম সিনেমা হিসেবে বিবেচিত যা লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয় এবং জিতে নেয় ‘ভিউয়ার্স চয়েস’ পুরষ্কার। এই সিনেমা যারা দেখেছেন তারা তো জানেনই আর যারা দেখেন নাই তারা নতুন এক অভিজ্ঞতা পাবেন সিনেমা দেখতে গিয়ে।

  • পুধুপেত্তাই (২০০৬)

 

সেলভারাঘাবন কি চিনেন? তাকে না চিনলেও তাঁর আপন ভাই ধানুশকে তো চিনেন। হুম, শুরু দিকে ধানুশকে লঞ্চ করেছিলেন তাঁর বাবা ও ভাই মিলে। ধানুশের মতো শুরু দিকে তার সিনেমাও বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে পারে নাই তবে পরবর্তীতে সেই সব সিনেমা সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছে। তার অন্যতম উদাহরণ এই সিনেমা। ২০০৬ সালে এই সিনেমাকে ধুয়ে দিতো সমালোচকরা। কিন্তু কেন জানি এই সিনেমাটি এখন গ্যাংস্টার সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

  • কাঞ্চিভারাম (২০০৮)

প্রিয়দর্শনকে আমরা বেশীরভাগই চিনি বা জানি তিনি কমেডি সিনেমা বানান বেশি। তবে মাঝে মাঝে তিনি এমন কিছু বানান যা দেখে অবাক হওয়া ছাড়া আর কিছু সম্ভব হয় না। তেমনি এক সিনেমা হলো এই সিনেমা। কাঞ্চিপুরাম নামের এক মফস্বলের সিল্ক বুননের মানুষের গল্প দেখানো হয়।

যাদের জীবন চলে দিন এনে দিন খেয়ে। তেমনি মানুষের গল্পের সিনেমা। এই সিনেমার জন্য প্রকাশ রাজ নিজে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার পান ৫৫তম জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারে সাথে সাথে এই সিনেমাও শ্রেষ্ঠ সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত হয়। এছাড়াও ফিল্মফেয়ারে শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ পার্শ্বিক অভিনেত্রীর পুরস্কারে নির্বাচিত হন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।