যে কারণে সঞ্জয় দত্তর বায়োপিক দেখা জরুরী

সঞ্জয় দত্ত হলেন বলিউডের ‘বিশুদ্ধ’ ব্যাড বয়। তরুণ বয়সে তিনি ছিলেন বলিউডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও হ্যান্ডসাম পুরুষদের একজন। প্রথম ছবিটাই ছিল হিট। তবে, কালক্রমে নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করেন তিনি।

একটা সময় দেখা যায়, নিজের আবেগের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রন নেই। বিশেষ করে মা নার্গিসকে হারানোর পর মাদকে খুব তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে যান তিনি। সেটা হল শুরু। এরপর এমন আরো অনেক ঘটনায় আবেগের কাছে হেরে গিয়ে তিনি পতনের মুখে পড়েছেন। আবার প্রতাপ নিয়ে ফিরে এসেছেন।

এজন্যই তো সাঞ্জু বাবার জীবনটা এতটা উত্থান আর পতনে ঘেরা। আর যখন প্রিয় বন্ধু রাজকুমার হিরানীই বানিয়েছেন রহস্যময় এই সঞ্জয় দত্তর বায়োপিক, তখন সেখানে থাকছে বিতর্কিত সেই জীবনের নানা অধ্যায়। টিজারে সেসবের কিছুটা আভাস দিয়েছেন রণবীর কাপুর। এবার সেসবের চূড়ান্তটা দেখার অপেক্ষা।

  • রোমান্টিক জীবন

সিনেমার ট্রেইলারে বলাই হয়েছে ৩০৮ জন প্রেমিকার কথা। বাস্তবে কতজনের সাথে সঞ্জয়ের সম্পর্ক ছিল তার কোনো হিসাব নেই। ক্যারিয়ারের শুরুতে টিনা মুনিমের সাথে বছর দুয়েক চুটিয়ে প্রেম করেন। টিনাই আগে বিদায় বলেন। এরপর রিচা শর্মার সাথে মাসখানেক প্রেম করে তাঁকে বিয়েও করেন সঞ্জয়।

এরপর মাথায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়লে যুক্তরাষ্ট্রে রিচা যান বাবা-মার কাছে, আধুনিক পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য। তখন থেকেই মাধুরির সাথে সঞ্জয়ের প্রেমের গুজব ছিল। এর মধ্যে রিচাও না ফেরার দেশে চলে যান। আর একে ফিফটি সিক্সের সাথে সখ্যতার জের ধরে জেলে যেতে হয় সঞ্জয়কে। ব্যস, মাধুরীও তাঁর জীবন থেকে সরে যান।

এরপরও অনেক নারী এসেছে সঞ্জয়ের জীবনে। এর মধ্যে আছেন লিসা রে’র মত মডেলও। রিয়া পিল্লাইকে বিয়ে করেন, ছাড়াছাড়িও হয়। এরপর মান্যতার সাথে বিয়ে করে থিঁতু হয়েছেন সঞ্জয়।

  • বন্দুকের প্রতি ভালবাসা

বন্দুক ও বিতর্ক যেন সঞ্জয়ের ওপর নাম। এই বন্দুকের জন্য কম হ্যাপা পোহাতে হয়নি তাঁকে। তার লাইসেন্স করা পিস্তল আছে। এর আগে তাঁর বাসায় একে ফিফটি সিক্স রাইফেল পাওয়া যায়। আর এর জের ধরে জীবনের বড় একটা সময় থানা, পুলিশ, জেল-হাজত করে কেটেছে সঞ্জয়ের।

পালি হিলে নিজের বাঙলোতে একবার গুলি ছুড়ে একটা গ্লাস ভেঙেছিলেন। কেন জানেন? টিনা মুনিমের সাথে সম্পর্ক ভাঙার ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেননি তাই। ওই সময় একই সাথে মদ্যপও ছিলেন।

  • আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে যোগাযোগ

মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় ত্রাস ছোটা শাকিলের সাথে আলাপ হল সঞ্জয়ের জীবনের বড় বিতর্কগুলোর একটি। সত্যি কথা হল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে ওই সময় বলিউডের ভাল যোগাযোগ ছিল। সঞ্জয়ের একটু বেশিই ছিল। একে ফিফটি সিক্সটা তিনি পেয়েছিলেন আরেক ডন আবু সালেমের কাছ থেকে। পুলিশের জেরার মুখে তিনি আরো একজন ডনের নাম বলেছিলেন।

  • সহ-অভিনেতাদের সাথে বাজে সম্পর্ক

সহ-অভিনেতাদের সাথেও সঞ্জয়ের টুকটাক গণ্ডগোল হয়েছে। যদিও সেসব বড় কিছু নয়।

এক সময় সঞ্জয়ের ভাল বন্ধু ছিলেন গোবিন্দ। ছোটা শাকিলের সাথে সাথে সঞ্জয়ের যোগাযোগের খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর দু’জনের সম্পর্কের অধ:পতন হয়। এক সাথে করা শেষ সিনেমা ‘এক ওউর এক গ্যায়ারা’ সিনেমার শ্যুটিংয়ে দু’জন পারতপক্ষে কথাই বলতেন না।

ম্যানেজার বিষয়ক জটিলতায় সালমান খানের সাথেও সঞ্জয়ের ঝামেলা হয়েছিল। যদিও, শেষ অবধি সেটা মিটমাট হয়ে যায়।

– দেশিমার্টিনি.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।