কেন লোকে অভিষেককে ট্রল করে?

বাবা-মা’র সাথে থাকেন বলেন অভিষেক বচ্চনকে প্রায়ই ট্রলের শিকার হতে হয়। অথচ, উপমহাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষই এই কাজের অংশীদার। তারপরও বর্তমান সময়ে ট্রলের জন্য অভিষেক বচ্চন একটি জনপ্রিয়  বিষয় । বার বার তিনি নিজেকে কিছু ট্রলের কেন্দ্রবিন্দুতে পেয়েছেন। এই  ট্রলগুলোর ধরন প্রায় একই রকম। তিনি বলিউডের একজন সুপারস্টার  হওয়া সত্ত্বেও তার অর্জনগুলো তার পিতার সমতুল্য নয়।

যেহেতু অভিষেক তাঁর বাবার মতো সুপারস্টার  হতে পারেননি তাই তাঁকে নিয়ে ট্রল করা সহজ। ট্রলগুলো দেখে মনে হতে পারে খোদ ট্রলদাতারাই অভিষেকের চেযে ভাল অভিনেতা। অথচ, অভিষেক তিনি তার কাজের জায়গায় অনেক অভিনেতার চেয়ে উত্তম। তারপরও ট্রলগুলো বারবার তার ব্যর্থতাগুলোকেই দেখিয়ে দিচ্ছে আঙুল দিয়ে। এই সমাজে আপনি যত ভালই হোন না কেন বাবার চেয়ে উচু পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারলে আপনাকে কেউ গোণায় ধরবে না। শুনতে খারাপ শোনালেও এটাই সত্যি। অভিষেক তাই এই অন্ধকারাচ্ছন্ন  সমাজের প্রত্যাশা পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই জন্য তারা প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগায়, কারন তিনি ব্যর্থ  হয়েছেন। ‘জুনিয়র বচ্চন’ – এই তকমাটাই তাঁর জন্য এক অভিশাপ।

কিশোর অভিষেকের সাথে অমিতাভ

অভিষেকের দোষটা আসলে কি? তিনি তার বাবার মতো হতে পারেননি? নাকি একটি তারকা পরিবারে তার জন্ম সেটা? এর উত্তরটা আসলে এত সহজ নয়। বিষয়টা আসলে অভিষেককে নিয়ে নয়,  বিষয়টা আমাদের , আমাদের প্রতিদিনের মানহীন জাতিগত জীবনকে ঘিরে। এটা সাধারণ উপমহাদেশিয়রা মানতে নারাজ যে, যে কেউ এমন সৌভাগ্য নিয়ে জন্মাবে  আর সেটা কাজে লাগাবে না। আমরা আমাদের বাবা মার কাছে শুনেছি কিভাবে বিখ্যাত মানুষেরা রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের আলোতে পড়েছেন, জীবন গড়েছেন। আমাদের পূর্ব ঔপনিবেশিক সমাজ ব্যবস্থা এমন ছিলো যে তারা উঠে এসেছেন একবারে শিকড় থেকে।

সাধারণ হওয়া আমাদের সমাজে গড়পড়তা বিষয়, এখনো এরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে আন্ডার রেটেট। পুরুষদের জন্য উচ্চাভিলাষী না হয়টা এখানে অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়,  আর গৃহকর্তা বা হাউজ-হাজবেন্দ হওয়া আমাদের জন্য একটি উপহাসমূলক ধারনা। এটি আমাদের সমাজের মামি-চাচিদের মধ্যে অনর্থক গাল-গল্পের। আর এই মামি-চাচীদের ভুমিকা পালন করছে বর্তমান টুইটার-ট্রল।

আমরা হচ্ছি সেই সমাজ যে সমাজ সবসময় খুঁজতে থাকে সবার সেরাকে। যাই করো তোমাকে সবার ওপরে থাকতেই হবে।

তোমার বাবা যদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয় তাহলে তোমার আই এমএমসি শেষ করতে হবে। যদি তোমার বাবা ছোট ব্যবসায়ী হয় তাহলে তুমি হও দ্বিতীয় আম্বানি।যদি তোমার বাবা অমিতাভ বচ্চন হয় তাহলে তুমি কখনো অভিষেক বচ্চন হতে পারো না। আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি যেটি আপনাকে কখনোই ভুলতে দিবে না টিকে থাকার জন্য সাফল্য কতটুকু জরুরী। অভিষেকে নিয়ে তারাই ট্রল করছেন যারা আপনাকে নিচু করে প্রকাশ করতে মজা পান, যখন আপনি এমএসসি ফেল করেন বা ভালো ফলাফল করতে পারেন না ।

এখানে তিনি একজন ভদ্রলোক হতে পারে তিনি তার বাবা বা স্ত্রীর মতো সফল না কিন্তু তিনি নিজের কাজ ঠিক ভাবে করছেন। তার নিজের অনেক ভালো কাজ আছে, আপনি যদি গুরু দেখে থাকেন আপনি সেটা মানতে বাধ্য হবে। আপনি যদি ভালো বিচারক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি তার ভক্তও হতে বাধ্য।

মানুষকে বিচার করার জন্য সফলতার এই মাপকাঠি শুধু নিষ্ঠুর নয়, বিপদজনকও বটে। মানুষকে মূল্যায়নের জন্য সফলতা একমাত্র  মানদণ্ড  হিসেবে ব্যবহার করে আমরা মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুনাবলী এড়িয়ে যায়। ব্যাপারটা এমন যে আপনি সফল তো আপনার সাত খুন মাফ।

দিন শেষে অভিষেক একজন ভাল মানুষ। তিনি তাঁর পরিবারকে ভালবাসেন। তিনি চঞ্চল, সেন্স অব হিউমার ভাল, গড়পড়তা অভিনেতাদের চেয়ে তিনি সৌম্য। তুলনামূলক কম সাফল্য দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বকে বিচার করা যায় না।

– মেনএক্সপি.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।