সাব্বির, ভরসার এই হাতটার ওজন জানেন তো?

সাব্বির রহমানের মত ‘ব্যাড বয়’ তকমা নিয়ে আগে কেউ আসেননি বাংলাদেশ ক্রিকেটে। স্বল্প সময়ের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনোই তাঁর প্রতিভা নিয়ে যেমন সংশয় ছিল না, তেমনি তাঁর মাঠের বাইরের কুকীর্তি নিয়েও কোনো সংশয় ছিল না।

তাঁর বিজ্ঞাপন নিয়ে বিসিবি আপত্তি তোলে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শক পিটিয়ে তিনি নিষিদ্ধ হন, কখনো ড্রেসিংরুমেই সতীর্থ’র গায়ে হাত তুলে বসেন, স্যোশাল মিডিয়ায় সমর্থকদের গালিগালাজ করে আবারো নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন, তাঁর নামে নারী কেলেঙ্কারির উড়ো খবরও ভেসে আসে কখনো কখনো কখনো। সমস্যা হল, মাঠের বাইরের এই আচরণগত সমস্যাগুলোকে বোর্ড চাইলে দেখেও না দেখার ভান করতে পারতো, যদি মাঠে পারফরম্যান্স থাকতো। সেটা নিয়মিত পাচ্ছিলেন না বলেই তো যত বিপত্তি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ  (বিপিএল) খেললেও সাব্বির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষিদ্ধই ছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই তরুণকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল বিসিবি। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সফরের দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ৩১ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে শাস্তির মেয়াদ। মানে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা না দিয়ে সবার আড়ালেই সাজার মেয়াদ এক মাস কমিয়ে এনেছে বিসিবি।

নান্নুই পরিস্কার করে দিলেন যে, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ইচ্ছাতেই দলে নেওয়া হয়েছে সাব্বিরকে। তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে দেই। এটা সম্পূর্ণ আমাদের অধিনায়কের পছন্দের। ও খুব জোরালোভাবে আমাদেরকে দাবি জানিয়েছে। এবং আমরা দুজনই এই পক্ষে সম্মত হয়েছি। ওরা এমন একজনকে চাচ্ছে যারা লোয়ার মিডল অর্ডারে ফাস্ট বোলারকে সামলাতে পারবে। বিশ্বকাপের প্ল্যান করে, নিউজিল্যান্ডের প্ল্যান করেই ওকে নেওয়া হচ্ছে। দেখা যাক, অধিনায়ক যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তার ব্যাপারে। আমিও আশাবাদী সে ফিরে আসবে।’

দল নির্বাচনে মাশরাফির এরকম জোরালো দাবী জানানোর কোনো ঘটনা আগে শোনা যায়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা স্পিনারদের একজন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি মাশরাফির কাছের বন্ধুদের একহন। দীর্ঘকাল দলের বাইরে থাকলেও মাশরাফি কখনো তাঁর ব্যাপারে সুপারিশ করেননি। কিংবা, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা ছোটানো তুষারও মাশরাফি কাছের বন্ধু। কিন্তু, তাঁকেও কোনো বাড়তি সুবিধা দেননি মাশরাফি।

সাব্বিরের কাঁধে যেহেতু মাশরাফি হাত রাখছেন, বোঝাই যাচ্ছে তাঁর মধ্যে বিশেষ কোনো ব্যাপার আছে। যদিও ৫৪ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সাব্বিরের সেই বিশেষত্ব বোঝা গেছে মোটে পাঁচবার, মানে পাঁচটা হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এর বেশিরভাগও আবার দেশের পরিচিত কন্ডিশনে।

সাব্বিরের ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে যে কোনো সংশয় নেই সেটা তো আগেই বললাম। তবে, সংশয় আছে তাঁর মোমেন্টাম ও মেজাজ হারিয়ে ফেলা নিয়ে। সেটা মাঠের বাইরে যেমন সাব্বিরের জীবন এলোমেলো করে দেয়, তেমনি মাঠে দলের ইনিংসটা এলোমেলো করে দেয়। এসব শুধরে ফেলার দায়িত্বটা সাব্বিরের নিজেকেই নিতে হবে।

মাশরাফি যেহেতু জোর দিচ্ছেন, বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় খুব ভাল ভাবেই আছেন সাব্বির। প্রতিভা কাজে লাগাতে পারলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কন্ডিশনে তাঁর খুবেই কার্যকর হওয়ার কথা। সাব্বির কি পারবেন নিজের সক্ষমতাকে বড় মঞ্চে কাজে লাগাতে? তাঁর অন্তত এতদিনে এই হাতটার ওজন বুঝে ফেলার কথা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।