যে কারণে আমি একজন সিঙ্গেল মাদার

আমরা ভালবাসে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের আগে চার বছরের প্রেম ছিল। আমি ও আমার স্বামী অনেকদিন ধরে একটা সন্তানের স্বপ্ন দেখছিলাম। যখন আমাদের একমাত্র ছেলে অর্ক’র জন্ম হল আমি ভেবেছিলাম, আমাদেরটাই হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পরিবার। কিন্তু, আমি ভুল ভেবেছিলাম।

যত চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, আমি সেসব মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। একটা ছোট্ট জীবনকে একটু একটু করে বড় করা তো সহজ ব্যাপার না। আমি মানসিক আর শারীরিক চ্যালেঞ্জটা মেনেই নিয়েছিলাম। শুধু আমার স্বামীই মানতে পারেনি।

ঘুমানোর সময় হলেই ও বলতো, ‘আর কতক্ষণ ও কাঁদবে? আমি ঘুমাতে পারছি না। সকাল হলেই তো অফিসে দৌঁড়াতে হবে।’ বলেই ও ক্ষান্ত হত না। আমাকে কোনো রকম সাহায্য করা তো দূরের কথা, একটা সময় আলাদা ঘরে ঘুমানো আরম্ভ করলো।

একটা সময় আমাদের প্রতি ওর অনীহা চলে আসলো। অফিসের নাম করে বাইরে অনেক বেশি সময় কাটাতে লাগলো। এমনকি আমি ফোন করলেও ও ধরতো না। আমিও হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।

গোটা সপ্তাহের ক্লান্তি শেষে উইকেন্ড আসতো। আমি ভাবতাম, এবার হয়তো একটু সময় দেবে আমাদের, একটু হয়তো ঘরের কাজে সাহায্য করবে। এবারও আমি ভুল প্রমাণিত হলাম। ছুটির দিনগুলোতে প্রায়ই ও বন্ধুদের সাথে বের হয়ে যেত। বলতো, ‘আমার একটা ব্রেক দরকার।’ আমি মেনে নিতাম।

প্রত্যেকটা দিন যেত, আমি ভাবতাম সামনের দিনগুলো হয়তো আরেকটু সহজ হবে না। আমি ভাবতাম আমরা তিনজন আবার এক হয়ে যাবো। তবে হত না, হয়নি। বরং যত দিন যেত, পরিস্থিতি কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতো।

আমার সাথে ওর ভাবনার অমিল ছিল। ও বলতো, ‘একটা বাচ্চা বড় করতে অনেক শক্তি দরকার। আমি বরং নিজের ক্যারিয়ারে মন দেই। তুমি ওকে নিয়ে থাকো।’ আমি কাঁদতাম, এত কিছুর ভিড়ে যে আমার ক্যারিয়ারটাই হারিয়ে যায়।

তবে, আমি হাল ছাড়িনি। নিজেকে শক্ত করেছি। মনকে শুধু এই বলে দমিয়ে রেখেছি যে অন্তত এই সন্তানের জন্য হলেও আমাকে হাল ছাড়লে চলবে না।

পাঁচ বছর পর, আমরা দু’জনে মিলে সব বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করলাম। তখন আমাকে প্রয়োজন হল ওর। আমি ওকে বলে দিলাম, ‘তুমি জানো, আমি নিজের পুরো শক্তি আমাদের সন্তানের পেছনে ব্যয় করেছি। আনন্দের সাথেই করেছি। তবে সেটা আমি তোমার পেছনে নষ্ট করতে চাই না।’

এটাই ছিল আমাদের মধ্যে শেষ কথা!

একটা সন্তানকে বড় করা একটি পরিবারের জন্য বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ। যে মানুষ একবার কঠিন পথ দেখে ভয় পেয়ে সরে যেতে পারে, সে একই কাজ আবারো করবে না তাঁর কি নিশ্চয়তা! তাই, আমি একজন সিঙ্গেল মাদার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।