লিখিত অভিযোগে দ্বিধা কেন শ্রীলঙ্কার?

বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ের পর পরই অনলাইনে ভাইরাল হয় একটি নেতিবাচক খবর। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ভাংচুর করেছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা!

খবরটি শুনে আমি মুচকি হেসেছি! এরপর অপেক্ষা করেছি, আসলেই কি ঘটেছে সেটি জানার। কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে শ্রীলঙ্কান সমর্থকেরা পাথর ছুঁড়ে এই অপকর্ম সাধন করেছেন! আমার কাছে এই গল্পটাও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি!

মজার ব্যপার হচ্ছে, ক্রিকেটাররা ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের ড্রেসিংরুমেই ভাঙচুর করেছেন, এমন রটনা আমি খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলতাম যদি দলটির নাম বাংলাদেশ না হয়ে আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান হতো। এমনকি তাদের কেউ একে-৪৭ রাইফেল কিংবা মেশিনগান বের করে ড্রেসিংরুমে ব্রাশফায়ার করেছেন, এমন গল্পকেও আমি মোটামুটি ৯০% বিশ্বাস করে ফেলতাম কোনরকম দ্বিধা-দ্বন্দ ছাড়াই! কিন্তু দলটির নাম যখন বাংলাদেশ, তখন এমন কোন অঘটন কেউ ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ কিংবা ‘দলবেঁধে’ ঘটিয়েছেন সেটা বিশ্বাস করা অন্তত আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি!

আরো মজার ব্যপার হচ্ছে বোকা আইসিসিও আমার পথেই হেঁটেছে! তারাও উপযুক্ত প্রমাণ(ভিডিও ফুটেজ) ছাড়া এমন কোন অভিযোগ আমলে নিতে রাজি হননি এবং শেষ পর্যন্ত সিসি ক্যামেরায় এমন কিছু পাওয়াও যায়নি!

তাহলে ড্রেসিংরুমের কাঁচ কি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছে? না, আমার কাছে সেটিকেও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। যেটা হতে পারে, হয়তো ম্যাচের উত্তেজনাকর মুহূর্তে কেউ ঐ কাঁচে হাত দিয়ে আঘাত করেছেন, রাগের মাথায় যেটা অনেক সময়ই খুব স্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু, সেটার উদ্দেশ্য অবশ্যই ‘ভাঙচুর’ (বেশ কিছু বিদেশি মিডিয়ায় এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে) ছিল না।

হতে পারে কাঁচের ঐ অংশটুকুতে কারিগরি কোন ত্রুটি ছিল যার কারণে সামান্য ধাক্কাতেই সেটি ধ্বসে পড়েছে। যশোরে আমার নিজের বাড়িতেই এমন দুর্ঘটনার রেকর্ড আছে। খোঁজ নিয়ে দেখলে আপনার আশে-পাশের অনেকের কাছেও এমন ঘটনার অভিজ্ঞতা পেলেও পেতে পারেন! তাই ঐ কাঁচের আঘাতে বাংলাদেশ দলের কোন ক্রিকেটার যে আহত হননি এটাই বরং আমাকে স্বস্তি দিয়েছে!

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হলেও আমি অন্তত এতোটাও ‘অন্ধ’ নই যে ক্রিকেটাররা ড্রেসিংরুমে ইচ্ছাকৃত ‘ভাঙচুর’ চালাবেন আর আমি তাদের পক্ষে সাফাই গাইবো। ঠিক তেমনি কোনরকম তথ্য কিংবা ভিডিও প্রমাণ ছাড়াই সনাৎ জয়সুরিয়ার মত সাবেক ক্রিকেটারের এই ঘটনাকে ‘তৃতীয় শ্রেণীর আচরণ’ বলার বালখিল্যতাও আমি মেনে নিতে রাজি নই।

‘চতুর্থ শ্রেণীর আম্পায়ারিং’ দিয়ে আপনি একটা টুর্নামেন্টের সৌন্দর্য নষ্ট করবেন আর সেটার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঘটা দুর্ঘটনাকে তৃতীয় শ্রেণীর আচরণ বলে আখ্যা দিবেন, এতোটা অশিক্ষিতের মত টুইট না করলেও পারতেন প্রিয় জয়সুরিয়া!

আইসিসি প্রেমদাসার মাঠ ম্যানেজমেন্টের সাথে জড়িতদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ চেয়েছিল। কিন্তু প্রেমদাসার মাঠ কর্মকর্তারা তাতে রাজি হননি। তবে কি প্রেমদাসার শ্রীলঙ্কান কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে? নাকি তারা সাকিবদের কাছ থেকে ‘ঘুষ খেয়ে’ সব চেপে গিয়েছেন? পুরোটা সাজানো নাটক ছিল না তো?

আসুন, ‘এ কি করলেন সাকিব/তামিম/রিয়াদ’ বলে অনলাইন কাঁপানোর আগে একটু ঠাণ্ডা মাথায় ঘটনাগুলো ভেবে দেখার মত ধৈর্য্য ধরি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।