দাবিগুলো কেবল ওদের একার নয়!

সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের শেষ কথাটা শুনেছেন? দাবী পেশের একদম শেষে সাকিব দৃঢ় স্বরে বলছিল, ‘এখানে যারা তারা তিন বছর, চার বছর, দুই বছর আছে কিন্তু যারা ভবিষ্যতে খেলবে তাদের জন্য একটা ভালো পরিবেশ রেখে যেতে চাই যেখান থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।’

ক্রিকেটাররা যে ডায়েরীর পাতায় দাবিগুলো লিখে এনেছিল তার উপরে বড় করে লেখা ছিল – ‘রেসপেক্ট, ফিউচার!’

তামিম তার বক্তব্য শুরুই করেছে এভাবে, রেস্পেক্ট শুধু ক্রিকেটারদের জন্যই না, একজন গ্রাউন্ডসম্যান সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে মাস শেষে মাত্র ৫-৬ হাজার টাকা বেতন পায়, একজন বিদেশি কোচের পিছনে যে খরচ হয় তা দিয়ে ২০ জন দেশী কোচের বেতন হয়। দেশীয় আম্পায়ারদের বেতন, ফিজিউ ট্রেনারসহ ক্রিকেটের সাথে যুক্ত সকলের কথাই বলা হয়েছে আজকের দাবীতে। ছয় নাম্বার পয়েন্টে বিদেশ অপেক্ষা বাংলাদেশিদের যেন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদেরকেও ধর্মঘটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের দাবী দাওয়া পেশ করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে ঘরোয়া ক্যালেন্ডার ঠিক করতে, ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বাড়াতে, দেশের সর্বত্র প্র্যাকটিসের সুযোগ বাড়াতে।

আইপিএলে ইন্ডিয়া যেখানে একের পর এক উদীয়মান ক্রিকেটার তৈরির সাথে সাথে বিলিয়ন ডলারের বিজনেস করছে সেখানে আমাদের লোকাল খেলোয়াড়দের বিপিএল এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পাওয়া টাকাই এখনও পরিশোধ করা হয়নি।

দাবিতে খেলোয়াড়রা চেয়েছেন আর্ন্তজাতিক মানের বল!

চিন্তা করেন, প্রায় ২০ বছর যে দল টেস্ট ক্রিকেট খেলছে তাদের ডিভিশনের খেলায় আর্ন্তজাতিক মানের বলের জন্য দাবী করতে হয়।

অথচ বোর্ডের একজন একের অধিক পদ অবৈধ উপায়ে আঁকড়ে বসে আছে। এদের অধিকাংশ ক্রিকেট নিয়ে ভাবিত নয়, সবাই আছে টাকার ধান্ধায়, নির্বাচনের লোভে, তাঁরা ক্লাবের মালিক, জুয়ার সর্দার।

ক্রিকেটের আজকের যা উন্নতি সেখানে বোর্ডের সত্যিকার অবদান আসলেই কতটুকু? সাকিব মুশফিক তামিম তৈরিতে বোর্ডের ভূমিকা কি ছিল?

বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বীকৃত লাভজনক সংস্থা, কোটি কোটি টাকার স্পন্সর পাওয়া শর্তেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেসিক কিছু পাওনা যা স্বাভাবিক ভাবেই ক্রিকেটারদের পাওনা ছিল, তারা এতো বছরেও সেগুলো পায়নি।

পত্রিকায় পড়লাম মোহাম্মদপুরের একজন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাত্র ছয় বছরে ক্ষমতায় এসে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছে আর সেই দেশেরই এক নম্বর জনপ্রিয় খেলা (যা সকল ধর্ম বর্ন গোত্রকে এক করে দেয়) খেলোয়াড়দের নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে মিডিয়ার সামনে স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিগত খাবারের দাবী জানাতে হয়!

সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ – সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছেন তারা খুব বেশি হলে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলবে, অর্থাৎ আর তিন কি চার বছর। তারা এখন যে পজিশনে চলে গিয়েছে সেখানে তাদের কোনই প্রয়োজন ছিল না আজকের এই ধর্মঘটের। তারা চাইলেই গা বাঁচিয়ে রোষানল এগিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারত। সিনিয়র খেলোয়াড়রা খুব ভালোই জানে বোর্ড থেকে পাল্টা আঘাত আসলে ওদের ঘাড়েই আসবে, জুনিয়র ক্রিকেটারদের ধরবেও না। অথচ সাকিব মুশফিক তামিমরা সেই ঝুঁকি নিয়েই আজ নেমে এসেছে, দাবি তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নেয়ার।

সাকিবদের দাবিগুলো সাকিবদের জন্য ছিল না, দাবীগুলো বহু দূরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোন কিশোরের জন্য ছিল যে চ্যালাকাঠকে ব্যাট বানিয়ে সাকিব হবার স্বপ্ন দেখছে। স্যালুট সাকিব অ্যান্ড ব্রাদার্স!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।