কেন আয়ারল্যান্ডে আগ্রহী ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠানগুলো?

২০১৩ সালে দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়েছিলো পাকিস্তান। ম্যাচ দুটির জন্য কোন ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ না করায় কোন টিভি চ্যানেলে খেলা দেখিয়েছিলো না। খেলা দেখতে হয়েছিলো ইউটিউব চ্যানেলে।

আয়ারল্যান্ডের মাটিতে কোন সিরিজ হলে সবার প্রথমে মাথায় আসে কোন চ্যানেলে খেলা দেখাবে? আপাতত সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে লাভজনক উপায়েই।

গত বছর আয়ারল্যান্ড যখন ইংল্যান্ড সফরে যায় তখন লর্ডসে ফুল হাউজ ছিলো। ২৫০০০ দর্শক মাঠে এসেছিলেন।

ইংল্যান্ডের দর্শকদের ভেতর আয়ারল্যান্ডের জন্য আগ্রহ দেখেই হয়তো পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট এবং ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের সাথে চুক্তি করেছে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত দুটি প্রতিষ্ঠান স্কাই স্পোর্টস এবং পিচ ইন্টারন্যাশেনাল।

ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের দর্শকেরা সরাসরি ম্যাচ তিনটা দেখবেন বিখ্যাত স্কাই স্পোর্টস চ্যানেলে। লন্ডনভিত্তিক ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান পিচ ইন্টারন্যাশেনাল স্বত্ব কিনে নিয়ে বিক্রি করেছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং সাউথ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কাছে।

আর প্রোডাকশন হাউজ হিসেবে থাকবে ভারতের বিখ্যাত আইটিডব্লিউ কনসাল্টিং। তারাই মাঠের ভেতরের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বিক্রির দ্বায়িত্ব পেয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে।

আইটিডব্লিউ সম্প্রতি নিদাহাস ট্রফি, পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রোডাকশন হাউজ হিসেবে কাজ করেছে। লজিস্টিক ইস্যু, পরামর্শদাতা এবং স্পন্সরশিপের ব্যাপারে সহায়তা করে নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলংকার ক্রিকেট বোর্ডকে।

ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ হবে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের সরাসরি দেখা আয়ারল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত কোন ক্রীড়া।

মাত্র কিছুদিন আগেও যাদের ব্রডকাস্টিং পার্টনার ছিলোনা হুট করে তাদের সাথে স্কাই স্পোর্টস, পিচ ইন্টারন্যাশেনাল এবং আইটিডব্লিউ কনসাল্টিং-এর মতো প্রতিষ্ঠানের যুক্ত হওয়া আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য দারুণ খবর বটে!

কিন্তু কেন তারা আয়ারল্যান্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছে?

আয়ারল্যান্ড এখন আইসিসির টেস্ট খেলা দেশগুলার একটি। যদিও তারা আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতায় নেই তবু প্রত্যাশা করা যায় এখন থেকে কোন দল ইংল্যান্ড সফরে গেলে প্রস্তুতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে একটি বা দুটি টেস্ট খেলতে পারে, অন্তত সম্ভাবনা রয়েছে। ইংল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে খেলতে পারে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

এছাড়া ওয়ানডে লিগের সূচী অনুযায়ী বিশ্বকাপের পরের দুই বছরে আয়ারল্যান্ড চারটি হোম ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। এছাড়া এফটিপিতে রয়েছে সাতটা হোম টেস্ট যার ভেতর রয়েছে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড।

সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে যেসব হোম সিরিজ হবে তার যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে; বিশেষ করে ইংল্যান্ডে। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড সফর করতে পারে একাধিক দল। এ কারণে ভবিষ্যতের দর্শক চাহিদা মাথায় রেখেই ইংল্যান্ডভিত্তিক ব্রডকাস্টিং এজেন্সি/চ্যানেল আয়ারল্যান্ডের সাথে ব্রডকাস্টিং চুক্তি করতে আগ্রহী।

আর যেখানে নতুন নতুন বাজারের সম্ভাবনা দেখা যায় সেখানেই ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। আয়ারল্যান্ডের নতুন ব্রডকাস্টিং চুক্তির খবর দেখে ভাবলাম বাংলাদেশে ক্রিকেটের এতো বড় বাজার, আয়ারল্যান্ডের তুলনায় ম্যাচের সংখ্যা অনেক বেশি, তবুও সুনামধন্য কোন ব্রডকাস্টিং এজেন্সি বাংলাদেশ নিয়ে যথেষ্ঠ আগ্রহী নয়। তাই আমাদের হোম সিরিজের রাইটস পায় গাজী টিভি।

গাজীর সাথে চুক্তি শেষ হলে আমরা কি পাবো আন্তর্জাতিক মানের সুনামধন্য কোন ব্রডকাস্টিং পার্টনার?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।