আর্জেন্টিনা কেন আর জেতে না?

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের জের ধরে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ড্র-এর পর ইউরোপিয় দলটির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হার – সব মিলিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল।

আসলে সমস্যাটা কোথায়? নিষ্প্রভ লিওনেল মেসি নাকি লিওনেল মেসির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল সতীর্থদের গা ছাড়া ভাব? সম্ভবত উত্তর এই দু’টোর কোনোটাই নয়। দায়টা একটা মানুষে কাঁধেই সবচেয়ে বেশি দেওয়া উচিৎ। তিনি আর কেউ নন, হোর্হে সাম্পাওলি।

কোচ প্রথম ম্যাচে দলকে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলিয়েছেন, এক ম্যাচের ব্যবধানে সেখান থেকে সরে গিয়ে এবার আর্জেন্টিনা ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেললো। এটা মোমেন্টাম ও কন্টিনিউটি ধরে রাখার পরিপন্থী ট্যাকটিকস।

দুই ম্যাচের মোট ১৮০ মিনিটে ১৮ জন খেলোয়াড়কে খেলিয়েছেন কোচ, মানে তিনি এখনো সেরা কম্বিনেশনটাই খুঁজে পাননি। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে কোচ তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। এমন তিনজন খেলোয়াড় খেলেছেন যারা প্রথম ম্যাচে বদলী হিসেবেও ব্যবহৃত হননি।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে নি:সন্দেহে বদলী হিসেবে নেমে এভার বানেগা ভাল খেলেছিলেন, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর কথা কি একবার মনেও পড়েনি কোচ সাম্পাওলির?

আবার পুরনো প্রশ্নে ফিরি। আর্জেন্টিনা কি খুব বেশি মেসি নির্ভর দল, বা মেসির দিকেই তাঁদের সকল নজর? নাকি মেসিকে তাঁরা ব্যবহারই করতে জানে না।

একজন আন্তর্জাতিক ফুটবলারের জন্য বড় সমস্যা হল তারা জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান খুবই কম। বরং, ক্লাব পর্যায়ের ফর্মেশন আর স্টাইলের সাথেই বরং তারা বেশি মানানসই। প্রায়ই তাই তাঁদের জাতীয় দলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ভূমিকায় হাজির হন।

কিন্তু, দলে লিওনেল মেসির মত বিশ্ব সেরা একজন খেলোয়াড় থাকলে অনেক কিছুরই সমাধান খুব সহজে হয়। এক্ষেত্রে দলটা তাঁর দক্ষতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তোলা উচিৎ। যেমনটা বার্সেলোনা করছে, সেটা কেন আর্জেন্টিনা করে না

৪-৩-৩ ফর্মেশনে মেসি ইনসাইড ফরোয়ার্ড হিসেবে মানানসই। সেখানে সার্জিও অ্যাগুয়েরো নেবেন লুইস সুয়ারেজের ভূমিকা। প্যাভন কিংবা ডি মারিয়া খেলবেন ইনসাইড লেফ্টে। আর বাকি একাদশ খেলোয়াড়দের যোগ্যতা ও এই ফর্মেশনে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার ওপর নির্বাচন করা হবে।

তর্কে খাতিরে ধরে নিলাম এটাও কোনো যুৎসই সমাধান নয়।  কিন্তু, যখন আপনার দলে সেরা মানের একজন খেলোয়াড় থাকবেন, তখন আপনি তাঁর সেরা দক্ষতার সহায়তা না নিয়ে তাঁকে আপনি দিনের পর দিন ব্যবহার করছেন আরেকজনের ঘাটতি পূরণ করতে? হ্যা, আর্জেন্টিনা অনেকদিন হল মেসির পেছনে জাভি বা ইনিয়েস্তার মত কাউকে খুঁজছে। সেই অভাবও খোদ মেসিকে দিয়েই পূরণ করতে হয় আর্জেন্টিনার। তাই তো, মেসি এখন আগের চেয়ে নিচে নেমে খেলে। এর চেয়ে বরং বানেগাকে দিয়ে চেষ্টা করা যেতে পারতো।

আর এর প্রভাবটা কতটা মারাত্মক তা তো ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেই বোঝা গেল। মেসি নির্ভরতা কোনো সমস্যা নয়, বার্সেলোনাও মেসি নির্ভর, আর সেই নির্ভরশীলতায় তাঁরা সফলও। আর্জেন্টিনার কোচরা জানেনই না যে, কি করে মেসি নির্ভর হতে হয়!

এর বাদে বিশ্বকাপে ইকার্দিকে বিশ্বকাপ দলেই না নেওয়া, দিবালাকে প্রথম একাদশে না রাখা – এসব তো তুচ্ছ সমস্যা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।