সেই হাত আর ফিরবে না!

ভদ্রলোক আমেরিকায় থাকেন। দেশে কখনো ড্রাইভিং করতেন না, আমেরিকায় গিয়ে দিব্যি করছেন। গত শীতে ঢাকায় এসেছিলেন। গাড়ি নিয়ে বের হয়েই বুঝলেন ভুল করেছেন। আমেরিকার রাস্তায় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা দিয়ে ঢাকার রাস্তার মোকাবেলা করা যাবে না।

আমাদের রাস্তাগুলো পাশ্চাত্যের মত মসৃন নয়, তবে সেটা বড় সমস্যা নয়। ঝাঁকুনিতে আমাদের কম বেশি অভ্যস্ততা আছে। মূল সমস্যা আমাদের পাবলিক পরিবহণ। ফিটনেসে সমস্যা, ইচ্ছামত ভাড়া আদায়, সিট বন্টনে সমস্যা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই, ড্রাইভার-কন্ডাকটররা ভদ্রতার ধার ধারে না – এই সময়গুলোকে এখন আর আমাদের সমস্যা মনে হয় না, সিস্টেমের পার্ট বলে মনে হয়। এই সব ব্যাপারগুলোকে আমরা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলেছি।

বাসের ড্রাইভাররা বেশি যাত্রী ওঠানোর জন্য যেভাবে প্রায়ই মাইকেল শুমাখার হয়ে ওঠেন, এসব ব্যাপারে বাসযাত্রী গালমন্দ করেন, আবার ভুলেও যান।  তবে, এবার যে ব্যাপারটা হল সেটা আর মেনে নেওয়া যায় না।

দুই বাস একে অপরকে টক্কর দেওয়ার সময় মাঝে পরেন তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। আর এর মধ্যেই তিনি হারান তাঁর ডান হাত। হ্যাঁ, তিনি হয়তো আর কখনো লিখতে পারবেন না। পারলেও সেটা অনেক অনুশীলনের পর করতে হবে বাঁ-হাত দিয়ে।

২১ বছরের এই ছেলেটি স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হয়তো তাঁর শিক্ষা জীবনটা বন্ধ হয়ে যাবে, তাঁর জীবনটাই হয়তো পাল্টে যাবে। সম্বল হবে কেবল বাঁ-হাত। এক হাত দিয়ে দৈনন্দিন সব কাজ করতে হবে। তাঁর হয়তো অনেক স্বপ্ন ছিল, সেসব হয়তো আর কখনোই পূরণ হবে না।

তাঁর দায়টা কি? দুই বাসের রেষারেষিতে কেন তিনি পরবেন?

হ্যা, হয়তো একটা ক্ষতিপূরণ তিনি পাবেন। আদালত জানিয়েছে, দুই বাসের মালিককেই রাজীবের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেন রাজীবকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে না সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছে?

তবু ফিরবে না রাজীবের হাত। পান্থপথের শমরিতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলাদা হয়ে যাওয়া হাতটি আর কখনোই জোড়া লাগানো সম্ভব হবে না। অবস্থা গুরুতর দেখে তাঁকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। রাজীব হয়তো বাঁচবেন, হয়তো ক্ষতিপূরণও পাবেন। তবে, যতদিন বাঁচবেন হাতের আক্ষেপ আর সেই দিনের ভয়াল স্মৃতি নিয়েই বাঁচবেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।