তামিম ইকবালের সঙ্গী কে?

কিছুদিন আগেও ছিল এই প্রশ্ন। তখন সেই প্রশ্নে ছিল দুর্ভাবনা। কে করবেন ওপেন? প্রশ্নটি আছে এখনও, তবে এখন জুড়ে আছে সম্ভাবনা। অতি চর্চিত কথাটিও বলা যায়। এখন সমস্যাটি মধুর। কাকে রেখে কাকে করানো হবে ওপেন?

লিটন দাস। সৌম্য সরকার। ইমরুল কায়েস। লড়াই ত্রিমুখী। সমর্থকদের জন্য আনন্দদায়ী লড়াই। দেশের ক্রিকেটের জন্যও। টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ভাবনা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতার পরীক্ষা।

যদি দূরদর্শী ভাবনার কথা বলি, লং টার্ম ভিশনের কথা বলি, তাহলে লিটন ও সৌম্যর দিকেই পাল্লা থাকবে ভারী। ধরে নিলাম একজন ওপেনিংয়ে, আরেকজন তিনে। খুব দূর ভবিষ্যত না ভাবলেও, স্রেফ কয়েকমাস পরের বিশ্বকাপের কথা ভাবলেও, এই দুজনের দিকেই ঝোঁক থাকার কথা বেশি।

ইংল্যান্ডের উইকেটে খেলা হবে বড় রানের। ধুন্দুমার ব্যাটিংয়ের। এক পাশে তামিমের নির্ভরতা, আরেক পাশে যদি দুই ও তিনে থাকেন ছন্দে থাকা লিটন ও সৌম্য, (এবং এরপর অপেক্ষায় মুশি, সাকিব, রিয়াদ), বাংলাদেশের ব্যাটিং হওয়ার কথা চোখধাঁধানো কিছু।

কিন্তু ভবিষ্যেতর আগে যে দৃশ্যমান এক বর্তমানও আছে! ইমরুল সেই বর্তমান, যাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই! সবশেষ সিরিজের পারফরম্যান্সের পর তাকে বাইরে রাখা কঠিন। খুব কঠিন।

হ্যাঁ, প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সেই প্রতিপক্ষ সবার জন্যই ছিল। তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই নেওয়া হয়েছিল। একটি ভূমিকা দেওয়া হয়েছিল। সেই ভূমিকায় তিনি প্রত্যাশাতীত সফল। যা চেয়েছিল দল, তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন। তার স্ট্রাইক রেট, তার শরীরী ভাষা, তার সিঙ্গেলস না নেওয়ার কথা বলবেন? কিন্তু তিন ম্যাচ সিরিজে রেকর্ড রান, দুটি সেঞ্চুরি একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে, তার পর কোনো প্রশ্ন আসলে ধোপে খুব বেশি টেকে না।

ও হ্যাঁ, গত কিছুদিনে তিনে ব্যাট করেছেন সাকিব আল হাসান। যদি তিনি সেখানেই থাকতে চান বা দল তাকে সেখানেই চায়, তাহলে ওই তিনজনের লড়াই হবে টপ অর্ডারে একটি পজিশনের জন্য। টিম ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষা আরও কঠিন। সেক্ষেত্রে হয়তো কোনো একজনকে নামাতে হবে মিডল অর্ডারে।

যতদূর জানতে পেরেছি, এখনও পর্যন্ত তামিমের সম্ভাব্য সঙ্গী হিসেবে লিটন এগিয়ে সম্ভাবনায়। তিনে হয়তো সৌম্য। কিন্তু ইমরুল? অমন পারফরম্যান্সের পর কিভাবে একজনকে বাদ দেওয়া যায়? কিংবা কিভাবে টপ অর্ডার থেকে সরানো যায়? তিনি তো নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন গত সিরিজে, তাকে কি জবাব দেওয়া হবে? এমন পারফরম্যান্সের পরও একজনকে বাদ দিলে অন্যদের প্রতি বার্তা যায়?

এটাই অধিনায়ক, কোচ, সর্বোপরি টিম ম্যানেজমেন্টের ‘টেস্ট’। শেষ পর্যন্ত যে একজন বা দুইজনকে নেওয়া হবে, তাদের পক্ষে যেন স্বচ্ছ যুক্তি থাকে। সমর্থক, সংবাদমাধ্যম বা বাইরের সবার নানারকম যুক্তি থাকবে। কিন্তু দল যাকে বা যাদেরকে নেবে, সেই ভাবনায় যেন তারা পরিস্কার থাকে। ওই একজন বা দুজনকে যেন সেই আস্থার স্পষ্ট বার্তাও দিয়ে দেওয়া হয়, তারা যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।

আর যাকে বা যাদেরকে বাইরে রাখা হবে, তাকেও যেন ভালোভাবে বুঝিয়ে, চিত্র পরিস্কার করে ফুটিয়ে, বুঝিয়ে দেওয়া হয়। যেন তিনি ভুল বার্তা না পান। বাস্তবতার উপলব্ধি যেন ভালোভাবে করতে পারেন।

সৌম্য, লিটনদের সম্ভাবনা নিয়ে লিখে লিখে গালমন্দ কম শুনিনি। ইমরুল তো এমন একজন হয়ে উঠেছেন, তার ব্যাটিংয়ের ভক্ত কেউ না হলেও নজর কেড়েই ছাড়বেন। ভাবনার দুয়ারে টোকা দিয়েই যাবেন। যে কেউ সুযোগ পেলে এবং সফল হলেই ভালো লাগবে খুব।

টিম ম্যানেজমেন্ট কোন পথে এই গভীর মধুর সমস্যার সমাধান খুঁজবে,আপাতত যুক্তির নিক্তিতে সেই ভাবনা মাপার অপেক্ষায় আছি রোমাঞ্চ নিয়ে!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।