দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফাইভ

শিরোনামে দেখা মনে মনে যারা ভাবছেন, আচ্ছা বিশ্বকাপে বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেললেই কি বিশ্বকাপকে ছুঁয়ে দেখা যায়। তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে আপনারা হয়ত হতাশও হতে পারেন, উৎসাহিতও হতে পারেন। উত্তরের এই ভিন্নতার কারণে খুঁজতে আপনাকে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে বিশ্বকাপে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের প্রোফাইলের দিকে। তাহলে একটু উঁকি মারা যার বিশ্বকাপে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের যারা কিনা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন।

  • ডিয়েগো ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনা, ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। যিনি বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে কখন আলোচিত, কখনও সমালোচিত, কখনও নায়ক বা কখনও খলনায়কের চরিত্রে আবির্ভূত হয়েছেন। ২১ ম্যাচে ১২ জয়, ৫ ড্র আর ৪ হার নিয়ে এই তালিকায় আছেন পঞ্চম অবস্থানে।

৮২ এর স্পেন বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু আর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে বিশ্বকাপকে কলঙ্কিত করে বিদায়। এর মধ্যে সোনালি সময় কাটে ১৯৮৬ বিশ্নকাপে। যেখানে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের দ্বিতীয় ফুটবল বিশ্বকাপ উপহার দেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে কোকেন নেয়ার অপরাধে বিশ্বকাপে থেকে বহিষ্কৃত না হলে হয়ত সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়ের ট্যাগটা তার সাথেই বেশি মানাত।

  • উয়ে সিলার

চোকার শব্দটার সাথে আশা করি সবাই পরিচিত আছেন। এই চোকার খেতারটা হয়ত উয়ে সিলারের সাথেই বেশি মানায়। কেননা তার বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ার আগের আসরে এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার পরের আসরেই পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য লাভ করে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে চোকার খ্যাত এ জার্মান স্ট্রাইকার ২১ ম্যাচ খেলে তালিকার আছেন চতুর্থ স্থানে।

পেলে যে চারটি বিশ্বকাপ পেলে খেলেছেন ঠিক সেই চার আসরেই বিশ্বকাপ মাতানোর সুযোগ পায় সিলার; হয়ত তিনি ভুল সময়ে জন্ম নিয়েছিলেন। চার আসর কাঁপানো এই জার্মান স্ট্রাইকার তৈরী করেছেন অবিশ্বাস্য কিছু বিশ্বকাপ রেকর্ড। চার আসরে করেছেন ৯ গোল সাথে আছে প্রত্যেক আসরে কমপক্ষে দুইগোল করার রেকর্ড। বিশ্বকাপে তার সেরা অর্জন ১৯৬৬ বিশ্বকাপ রানার্স আপ।

  • পাওলো মালদিনি

লাইক ফাদার, লাইক সান। প্রবাদটি যেন কেবল ইতালি কিংবদন্তী ফুটবলার পাওলো মালদিনির জন্যেই প্রযোজ্য। তা না হলে পেলের ছেলে পেলে বা ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনার মতই খেলোয়াড় হত। ইতালি এবং এসি মিলানের এই লেফট ব্যাক বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৪ জয়, ৬ ড্র আর ৩ হার সহ খেলেছেন মোট ২৩ ম্যাচ।

চার বিশ্বকাপ কাঁপানো এই ডিফেন্ডারের সর্বোচ্চ অর্জন ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রানার্স আপ। ব্রাজিলের কাছে ট্রাইবেকারে হেরে যায় সেই বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে কখন আন্তর্জাতিক কোনো ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সৌভাগ্য তার হয় নি।

  • মিরোস্লাভ ক্লোসা

বাবা পেশাদার ফুটবলার, মা পোল্যান্ড জাতীয় হ্যান্ডবল দলের সদস্য। এমন পরিবারের জন্মগ্রহণ করা শিশুটি খেলোয়ার হবে সেটাই স্বাভাবিক। শুধু খেলোয়ার নয় নিজের নামের সাথে লাগিয়েছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তকমা। ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা ক্লোসা ১৭ জয়, ৩ ড্র আর ৪ হারে মোট ২৪ ম্যাচ নিয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।

ব্যক্তিগত ভাবে অর্জন করেছেন ২০০৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু এঁকে দেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। যতদিন তার রেকর্ডে কেউ ভাগ বসাচ্ছেন ততদিন বিশ্ব তাকে চিনবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে।

  • লোথার ম্যাথিউস

বেকেনবাওয়ারের রেখে যাওয়া সুইপার পজিশনে তাঁর পর যে পাকাপোক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি হলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারকে বোকা বানাতে এবং প্রতি আক্রমণে প্রতিপক্ষের দেয়াল চূর্ণবিচূর্ণ করাতে তিনি যেন পটু ছিলেন।

৮২, ৮৬, ৯০, ৯৪, ৯৮ পাঁচ বিশ্বকাপে খেলা এই জার্মান সুইপার আছেন সবার উপরে, খেলেছেন মোট ২৫ টি বিশ্বকাপ ম্যাচ। আন্তোনিও কারভাজাল আর জিজি বুফনের সাথে আছে পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। ১৯৯০ বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেয়া লোথার জিতিয়েছেন সেই আসরের বিশ্বকাপ ট্রফি। জার্মান সহ পুরো বিশ্ব ফুটবল তাকে মনে রাখবে আজীবন।

আপনারা হয়ত এতক্ষণে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। বেশি ম্যাচ খেলতে হলে জেতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়। আর এই ধারাবাহিকতায় উপহার দেয় বিশ্বকাপ, তবে এর সাথে সাথে ভাগ্য বিধাতাকেও আপনার দিকে চাইতে হবে। বিশ্ব ফুটবলের এই কিংবদন্তিদের ফুটবল প্রেমিকেরা মনে রাখবে আজীবন।

– স্পোর্টসকিডা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।