কে এই রাসেল ডোমিঙ্গো!

ক্রিকেটার হিসেবে ডোমিঙ্গোর ক্যারিয়ার আহামরী কিছু নয়। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি ব্যাট-প্যাড তুলে রাখেন। কোচিং শুরু করেন মাত্র ২২ বছর বয়সে।

তিনি ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচিং করানোর সুযোগ পান। সেবার বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপে তার অধীনেই অংশ নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার যুবারা। তখন ডোমিঙ্গোর বয়স কত ছিল জানেন? মাত্র ৩০!

এর আগে মাত্র ২৫ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রভিন্স যুব দলের কোচের দায়িত্ব পেয়ে যান তিনি। পরের ১২ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৯, ‘এ’ ও ‘বি’ দলের দায়িত্ব পালন করেন ডোমিঙ্গো। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া দল ওয়ারিয়র্সের কোচের দায়িত্বও পান তিনি।

এরপর ২০১০ সালের বাংলাদেশ সফরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কোচ হিসেবে এসছিলেন। পরের বছর, মানে ২০১১ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। তখন ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে মাত্রই নিজের দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন গ্যারি কারস্টেন। তাঁরই পছন্দে দায়িত্বটা পেয়েছিলেন ডোমিঙ্গো।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে গ্যারি কারস্টেনকে সরিয়ে তাঁকে প্রোটিয়াদের টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে তিনি সব ফরম্যাটেই দলটির কোচিংয়ের দায়িত্ব পান। দায়িত্বে তিনি বহাল ছিলেন ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

১৩ টেস্ট সিরিজে আটটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয় এনে দেন ডোমিঙ্গো। ওয়ানডেতেও সাফল্য ছিলো চোখে পড়ার মত। ২২ ওয়ানডে সিরিজের ১৪ টিতে জয় পায় প্রোটিয়ারা। এছাড়া তাঁর অধীনে ৪২ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৩ টিতে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তাঁর সর্বোচ্চ সাফল্য হল ভিন্ন দু’টি ফরম্যাটে দলকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠানো। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মাটিতে সেমিফাইনাল খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এর পরের বছর, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল দলটি। দু’বারই কোচ ছিলেন ডোমিঙ্গো। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ারিয়রস ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচিং করিয়েছেন তিনি।

রাসেল ডোমিঙ্গোকে নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকান কোচিংয়ের যুগে প্রবেশ করলো। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি আগে থেকেই ছিলেন দলের সাথে। ক’দিন আগেই নিয়োগ পেয়েছেন পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট। এবার তাঁদের সাথে যোগ হলেন ডোমিঙ্গো।

কোচ হিসেবে নিজের সাক্ষাৎকারে ডোমিঙ্গো নিজের পরিকল্পনা দু’ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সামনে তুলে ধরেন। একটি ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আরেকটি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এছাড়া আরও অনেক পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব ডোমিঙ্গোকে দেয়ার সিদ্বান্ত নেয় বিসিবি। বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে ডোমিঙ্গোর প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হবে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক টেস্টের সিরিজ।

ডোমিঙ্গো এবারই প্রথমবারের মত নিজের দেশের বাইরে কোথাও কোচিং করাতে আসলেন। তার শুরুটাও হল আবার ‍উপমহাদেশ দিয়ে। চ্যালেঞ্জটা কোনো ভাবেই সহজ হওয়ার কথা নয়। দায়িত্ব পেয়ে অবশ্য ডোমিঙ্গো জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।