কে এই রোদ্দুর রায়!

বিচিত্র একটা চরিত্র!

আসলে এই মানুষটাকে বিচিত্র বললেও কম বলা হয়। ফেসবুকে ও ইউটিউবে উদ্ভট সব ভিডিও বানান। রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভুতুড়ে সব ভার্সন বানান। নিজের মত সুর করেন, উল্টো-পাল্টা সব শব্দ ব্যবহার করেন। আবার সেসব গান তিনি নিজেই গান। এরপর ছেড়ে দেন ফেসবুকে।

স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে সেসব ভিডিও দেখেন, শেয়ার করেন। আর ভাইরাল হওয়া ঠ্যাকায় কে!

বিশেষ করে তার ‘যেতে যেতে পথে, পূর্ণিমা রাতে, চাঁদ উঠেছিল’ গানের প্যারোডি ভার্সনটা এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে বলার বাইরে!

তিনি হলেন রোদ্দুর রায়। বাংলাদেশ কিংবা ভারতের পশ্চিম বঙ্গ – মোদ্দাকথা হল বাংলা ভাষায় যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এটা খুব পরিচিত একটা নাম। এক কথায় তিনি ইন্টারনেটের সেনসেশন।

বিকৃত করে রবীন্দ্র সঙ্গীত গান। কবিতাও লেখেন। কবির অবশ্যই লেখার স্বাধীনতা আছে। যদিও, রোদ্দুরের কাব্যগ্রন্থের নামগুলো একটু বেশিই উদ্ভট। যেমন এখানে ‘চরম ক্যাওড়া’র কথা না বললেই নয়, যেখানে তিনি ‘ক্যালানের মত ঠ্যাং তুলে’, ‘গান্ডুরা ক্যান গাঁজা খায়’ ইত্যাদি নামে কবিতা লিখেছেন।

অনেকের চোখে তিনি হলেন ‘বিশ্যোকোবি’। তিনি নিজেও তেমনই দাবী করেন। আবার, অনেকের কাছে তিনি স্রেফ পাগলাটে এক চরিত্র। আসলে তিনি কে? কে এই রোদ্দুর রায়? – চলুন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।

নিন্দুকেরা বলেন, তিনি পাগল। রবীন্দ্র সঙ্গীত বিকৃতির দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে দেওয়া উচিৎ। তবে, মজার ব্যাপার হল তিনি মনঃসমীক্ষণ বিষয় নিয়ে লেখালিখি করেন। তার বইও বের হয়েছে। ফেসবুক প্রোফাইল ঘেটে তাঁর লেখা – ‘অ্যান্ড স্টেলা টার্নস আ মম’ নামের একটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেল।

এর বাদেও তাঁর আরো কিছু পরিচয় আছে। রোদ্দুর হলেন কলকাতার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের পরিচিত একটি মুখ। সারা জাগানো ইউটিউবার। ‘মোক্সা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট’, ‘মোক্সা রেডিও’ ইত্যাদির সাথেও তিনি জড়িত।

বিকৃত সব মজা করা বাদেও স্যোশাল প্লাটফরমে সামাজিক কিছু ব্যাপার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। হ্যাঁ, অবশ্যই তাঁর কথার মধ্যে কিছু অসংলগ্নতা আছে। খুব নগ্ন ভাষায় সব ধুয়ে দিতে চান। হাসি-তামাশার আড়ালে বেফাঁস সব কঠিন সত্য বলে ফেলেন। যেন সেই ছোট্ট ছেলেটা যে সাহস করে রাজাকে বলেছিল, ‘রাজা, তোমার পোশাক কোথায়?’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।