হারানো দিন, হারানো মুখ

বাংলাদেশের নাটকের স্বর্ণযুগ ছিল আশি কিংবা নব্বই দশক। এর পরবর্তী যুগে নিজেদের অভিনয় গুণে যেসব শিল্পী দর্শকমহলে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তাঁদের একজন হলেন টনি ডায়েস।

সেই ১৯৮৯ সালে থিয়েটার গ্রুপ নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে অভিনয় শুরু করা এই অভিনেতা প্রথম আলোচনায় আসেন ১৯৯৪ সালে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘তথাপি’ দিয়ে। এছাড়া ধারাবাহিক নাটক ‘না’ ও তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় কাজ।

বাংলা নাটকের ইতিহাসে অন্যতম থ্রিল নাটক ‘লোহার চুড়ি’-তে অভিনয় করেও বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন। মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের বিপরীতে নাটক ‘অভিমানে অনুভব’ নাটকটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। নোয়াখালীর ভাষায় নির্মিত সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক ‘গাঁও গেরামের কিসসা’ তেও তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

এছাড়াও কাজ করেছেন ‘যা আছে অনুভবে’, ‘আংশিক আকাশ’, ‘শেষ চিঠির পরে’, ‘কথা দিলাম’, ‘যত দূরে যাই’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘অহংকার’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘দূর কুয়াশায়’, ‘ফিরে যাও’, ‘সমুদ্র কন্যা’, ‘অনাহত’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’, ‘রোদেলা আকাশে মেঘ’, ‘অবশেষে তুমি’সহ অসংখ্য নাটক। নব্বই দশকের শেষে এসে আফসানা মিমির সঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন। তানভীন সুইটির সঙ্গেও বেশ ভালো জুটি গড়ে উঠে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি তাঁর কণ্ঠের জন্য ও বেশ সমাদৃত ছিলেন।

নাটকের পাশাপাশি দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নারগিস আক্তারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘পৌষ মাসের পিরিতি’-তে অভিনয় করেন। ব্যক্তিজীবনে ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেছেন নৃত্য শিল্পী প্রিয়া ডায়েসকে। সংসারে রয়েছে একটি মেয়ে অহনা।

২০০৭ সালের শেষের দিকে অভিনয় জগতকে বিদায় জানিয়ে পরিবার সহ পাড়ি জমিয়েছেন সুদূর আমেরিকায়। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিল শহরে বাসবাস করছেন। সেখানেই স্থায়ীয় তিনি, আমেরিকান হোন্ডা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।

চার শতাধিক নাটক, ধারাবাহিক আর টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। একসময় রুচিশীল ও মার্জিত অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শক মন জয় করেছেন নিয়মিত। অথচ, বাংলাদেশের বিনোদন জগতের সাধারণ একজন দর্শকের সাথে এখন আর তাঁর কোনো পার্থক্য নেই। তবে, এই বছর আমেরিকায় চিত্রায়িত ‘ওপারে তুমি’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন।

কে জানে, এখান থেকেই হয়তো শুরু হবে সেকেন্ড ইনিংস!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।